
ভোলার লালমোহন হাসপাতালের সেকমো আবুল হোসেন। তার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও অভিযোগ যেন শেষ নেই। একের পর এক অনিয়ম করেই যাচ্ছেন তিনি। অনিয়ম যেন তার কাছে একধরনের নিয়মে পরিনত হয়েছে। এর আগে তার বিরুদ্ধে একাধিক পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। তখন আবুল হোসেন তার বক্তব্যে বলেছিলেন আমি ভালো হয়ে গেছি। কিন্তু এখনো ভালো হয়নি লালমোহন হাসপাতালের সেকমো আবুল হোসেন।
জানা গেছে, কালমা ইউনিয়নের ডাওরী বাজারে অবস্থিত কালমা ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সরকারি পুকুরের মাছ ধরে গোপনে বিক্রি করে দিয়েছেন আবুল হোসেন এবং তাঁর স্ত্রী (একই কেন্দ্রের সেকমো) জাকিয়া সুলতানা। সরকারি সম্পদ আত্মসাতের এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের তদন্তে আবুল হোসেন ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়েছে। তবে রহস্যজনক কারণে তদন্ত শেষ হলেও এখন পর্যন্ত তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো দৃশ্যমান বা কার্যকরী প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।
এছাড়াও মারামারির সার্টিফিকেট থেকে প্লাস্টার বাণিজ্যসহ সেকমো আবুলের বিরুদ্ধে সাধারণ ও অসহায় রোগীদের জিম্মি করে টাকা আদায়ের সুনির্দিষ্ট একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
মারামারির ঘটনায় আহত 'তানহা' নামের এক রোগীকে আইনি মামলার সুবিধার্থে হাসপাতালের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র (মেডিকেল সার্টিফিকেট) তৈরি করে দেওয়ার নামে ২ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন আবুল হোসেন।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা, হাত ভেঙে যাওয়া মো. জিদান নামের এক কিশোর রোগীর প্লাস্টার করার পর তাঁর পরিবারের কাছে ১ হাজার টাকা দাবি করেন আবুল। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে রোগীর স্বজনদের সাথে তুমুল ঝগড়ায় লিপ্ত হন এবং একপর্যায়ে জোরপূর্বক ৮০০ টাকা কেড়ে নেন।
ডাক্তার না হয়েও রোগী ভর্তি করাচ্ছেন সেকমো আবুল। সেকমো পদের সীমাবদ্ধতা ডিঙিয়ে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের (ডিউটি ডাক্তার) তোয়াক্কা না করেই নিজের ইচ্ছামতো রোগী ভর্তি ও চেকআপ করানোর মতো গুরুতর পেশাগত অসদাচরণের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
বিগত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর লালমোহন হাসপাতালে চিকিৎসার নামে রোগীদের কাছ থেকে লাগামহীন চাঁদাবাজির অভিযোগ ওঠে আবুল হোসেনের বিরুদ্ধে। প্রাথমিক তদন্তে সত্যতা পাওয়ায় তাঁকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত এবং পরবর্তীতে লালমোহন থেকে বদলি করা হয়। তবে দমে যাননি তিনি। অভিযোগ রয়েছে, মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে সংশ্লিষ্টদের 'ম্যানেজ' করে আবারও লালমোহন হাসপাতালেই ফিরে আসেন তিনি। কর্মস্থলে ফিরেই এবার আরও চতুর ও কৌশলী হয়ে উঠেছেন আবুল হোসেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এখন প্রতিদিন কোনো না কোনো রোগীকে তাঁর দুর্নীতির শিকার হতে হচ্ছে।
এসব গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সেকমো আবুল হোসেন অবশ্য সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেন।
তিনি বলেন, "আমাকে রোগীরা খুশি হয়ে যা দেয়, আমি কেবল তা-ই গ্রহণ করি। টাকা-পয়সা নেওয়ার জন্য কারও সাথে কোনো দরকষাকষি (বার্গেইনিং) করি না। আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সঠিক নয়।"
অন্যদিকে, সেকমো আবুল হোসেনের একের পর এক বিতর্কের বিষয়ে লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত টিএইচও ডা. মোহসীন জানান, সেকমো আবুল হোসেনের বিরুদ্ধে আমরা সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন ও সুপারিশের ভিত্তিতে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয়দের দাবি, তদন্তের নামে কালক্ষেপণ না করে এই দুর্নীতিপরায়ণ ও চিকিৎসাসেবার নামে 'বাণিজ্য' চালানো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হোক, যাতে হাসপাতালের সেবার মান ও সাধারণ মানুষের আস্থা বজায় থাকে।