
দেশের ব্যাংকিং খাতের অন্যতম বৃহৎ ও শীর্ষস্থানীয় আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. জুবায়দুর রহমান আকস্মিকভাবে নিজের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। আজ রোববার (২৪ মে) তিনি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ বরাবর তাঁর আনুষ্ঠানিক পদত্যাগপত্র পেশ করেন। পরবর্তীতে নিয়ম অনুযায়ী পদত্যাগপত্রটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
পর্ষদ সূত্রে জানা গেছে, বিগত ২০২৫ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশ ব্যাংক এক বিশেষ নির্দেশনায় এম জুবায়দুর রহমানকে ব্যাংকটির স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে নিয়োগ প্রদান করেছিল। পর্ষদে যোগদানের পরপরই তিনি পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের সর্বসম্মতিক্রমে চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হন এবং অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। স্মর্তব্য যে, তিনি যখন এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব লাভ করেন, তখন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ আহসান এইচ মনসুর।
শিক্ষাক্ষেত্রে ড. জুবায়দুর রহমানের রয়েছে এক বর্ণাঢ্য ও দীর্ঘ ক্যারিয়ার। ১৯৭৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগে একজন তরুণ প্রভাষক হিসেবে তিনি তাঁর শিক্ষকতা জীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে তিনি উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান এবং বিশ্বখ্যাত ইউনিভার্সিটি অব ম্যানচেস্টার থেকে ফিন্যান্স বিষয়ের ওপর সফলভাবে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে একজন প্রথিতযশা শিক্ষাবিদ হিসেবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ইউনিভার্সিটি অব নিউ ইয়র্ক এবং ইতালির মিলানে অবস্থিত খ্যাতনামা ইউনিভার্সিটি অব বোকোনিতে দীর্ঘ সময় অধ্যাপনা করেছেন। এছাড়া, শিক্ষকতা ও গবেষণার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয় (আরবানা শ্যাম্পেইন) এবং রাশিয়ার মস্কো স্টেট ইউনিভার্সিটিতে ভিজিটিং স্কলার হিসেবেও কাজ করার গৌরবময় অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর।
অধ্যাপক জুবায়দুর রহমান বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার প্রসারেও অবদান রেখেছেন; তিনি ঢাকার জেডএনআরএফ ইউনিভার্সিটি অব ম্যানেজমেন্ট সায়েন্সেস (জুমস)-এর প্রতিষ্ঠাতা ভাইস চ্যান্সেলর (উপাচার্য) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এর পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থা বিশ্ব ব্যাংকের সাবেক এই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বিশ্বের বিভিন্ন উন্নয়নশীল এবং উদীয়মান অর্থনীতির দেশে সরকারি ও বেসরকারি উভয় পর্যায়ে একজন দক্ষ স্বতন্ত্র উপদেষ্টা হিসেবেও কাজ করেছেন। তাঁর এই আকস্মিক বিদায়ের ফলে ইসলামী ব্যাংকের শীর্ষ নেতৃত্বে নতুন করে এক শূন্যতা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলো