.jpeg)
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় একটি পৈতৃক বসতবাড়িতে ঢুকে সশস্ত্র হামলা, নারীদের শ্লীলতাহানি, কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম এবং নগদ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার লুটপাটের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছে একটি ভুক্তভোগী পরিবার। সন্ত্রাসী শাহজাহান ও আলী আরশাদ বাহিনীর বিরুদ্ধে এই তাণ্ডব ও পরবর্তীতে মামলা তুলে নিতে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন মামলার বাদী মো. আলম।
লিখিত বক্তব্যে মো. আলম জানান, গত ৫ জুন সকাল ১০টার দিকে ফতুল্লা মডেল থানাধীন শাহী মহল্লার মায়ের দোয়া কমিউনিটি সেন্টার সংলগ্ন তাদের পৈতৃক ও বসতবাড়িতে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী হামলা চালায়। পূর্বপরিকল্পিতভাবে লাঠিসোটা, লোহার রড, ছেনি ও ধারালো রামদা নিয়ে অভিযুক্তরা অনধিকার প্রবেশ করে পরিবারের সদস্যদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, হামলাকারীরা বাড়িতে ঢুকেই প্রথমে নারীদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও শ্লীলতাহানি করে। পরিবারের সদস্য সাজেলের স্ত্রী নিশি (২২) এর প্রতিবাদ করলে তাকে বেদম মারধর করা হয় এবং পরিধেয় বস্ত্র ছিঁড়ে শ্লীলতাহানি করা হয়।
এ সময় পরিবারের অন্য সদস্যরা এগিয়ে এলে অভিযুক্ত মো. শাহজাহান (৫৬), মো. আলী আরশাদ (৫৭), নয়ন (৪০), রিপন (৪৫), মো. সোহাগ (৪০), অনন্যা (৩০) সহ আরও কয়েকজন ধারালো অস্ত্র ও লোহার রড দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে ও পিটাতে থাকে। রামদার কোপে গুরুতর জখম হন সিহাব (২১)। এছাড়া সন্ত্রাসীদের হামলায় রোকসানা আক্তার (৪৫), নিশি (২২), সায়েন্না আক্তার (৩৮) ও রাজন (৩৮) গুরুতর আহত হন। তাদের মাথা, পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, হামলার সময় দুর্বৃত্তরা ঘরের ভেতরে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। তারা আলমারি ও ড্রয়ার ভেঙে নগদ ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা, প্রায় ৮ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন এবং বেশ কয়েকটি স্মার্টফোন লুট করে নিয়ে যায়।
মো. আলম বলেন, এই নৃশংস হামলার ঘটনায় ফতুল্লা মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে (মামলা নং-২০, তারিখ: ০৬ জুন ২০২৬)। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, মামলার পর দিন পেরিয়ে গেলেও আসামিরা এখনো প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। উল্টো মামলা তুলে নেওয়ার জন্য পরিবারটিকে প্রতিনিয়ত প্রাণনাশের হুমকিসহ বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে। ফলে পুরো পরিবারটি এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
সংবাদ সম্মেলন থেকে ভুক্তভোগী পরিবারটি প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত অভিযুক্ত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার, পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক বিচারের জোর দাবি জানিয়েছেন।