
দেশজুড়ে আলোচিত রামিসা হত্যা মামলায় আইনি সমতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আসামিপক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে মামলা পরিচালনার জন্য আইনজীবী (State Defence Lawyer) নিয়োগ দিয়েছে সরকার।
রোববার (২৪ মে) আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সলিসিটর অনুবিভাগ (জিপি-পিপি শাখা) থেকে এই সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন ও আদেশ জারি করা হয়।
সরকারি আদেশ অনুযায়ী, ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন রামিসা হত্যা মামলায় আসামিপক্ষের আইনি লড়াই পরিচালনার জন্য ঢাকা জেলা আইনজীবী সমিতির সম্মানিত সদস্য অ্যাডভোকেট মুসা কালিমুল্লাহ-কে 'স্টেট ডিফেন্স লয়ার' হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে।
মামলাটির বিচারিক নথিপত্র অনুযায়ী, এটি শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল মামলা নং-১৩৯০/২০২৬। মামলাটি রাজধানীর পল্লবী থানার মামলা নং ৩৫ (তারিখ: ২০/০৫/২০২৬ খ্রি.), যা মূলত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর ৯(২)/৩০ ধারা এবং পেনাল কোডের ২০১/৩৪ ধারা থেকে উদ্ভূত।
কেন দেওয়া হয় ‘স্টেট ডিফেন্স লয়ার’?
বাংলাদেশের ফৌজদারি কার্যবিধি ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী, কোনো স্পর্শকাতর বা গুরুতর অপরাধের মামলায় (যেমন মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে এমন মামলা) আসামির যদি নিজস্ব কোনো আইনজীবী নিয়োগ করার আর্থিক সামর্থ্য না থাকে, কিংবা অন্য কোনো কারণে আসামি আইনজীবী জোগাড় করতে ব্যর্থ হন, তবে ন্যায়বিচারের স্বার্থে রাষ্ট্র নিজ খরচে আইনজীবী নিয়োগ করে থাকে। এটিকে আইনি ভাষায় ‘স্টেট ডিফেন্স’ বা ‘রাজসাক্ষী নয়, রাষ্ট্রীয় আইনি সহায়তা’ বলা হয়।
আইন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, রামিসা হত্যা মামলার সংবেদনশীলতা এবং সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিচারিক প্রক্রিয়া বজায় রাখার স্বার্থেই সরকারের পক্ষ থেকে অতি দ্রুত এই আদেশ জারি করা হয়েছে। ডিফেন্স লয়ার নিয়োগ পাওয়ায় এখন মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে দ্রুত এগিয়ে যাবে।