
বাংলাদেশে সরকারি ঋণ ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করতে একটি পৃথক ডেডিকেটেড কার্যালয় প্রতিষ্ঠার সুপারিশ করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের আগে দেশের আর্থিক সক্ষমতা বা ‘ফিসকাল স্পেস’ ক্রমেই সীমিত হয়ে আসছে।
শনিবার (২৩ মে) প্রকাশিত ‘গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ম্যাক্রোইকোনমিক রিফর্মস’ বিষয়ক সমন্বিত মূল্যায়ন প্রতিবেদনে এডিবি এ সুপারিশ ও পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে। এতে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, আর্থিক ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং সংস্কার অগ্রগতি বিশ্লেষণ করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে বাংলাদেশের সরকারি ঋণ দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ৪১ শতাংশে পৌঁছেছে। তবে ঋণ ব্যবস্থাপনা এখনো খণ্ডিত অবস্থায় রয়েছে এবং বিভিন্ন সংস্থায় ছড়িয়ে থাকা তথ্যের কারণে সমন্বিত নজরদারি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
এডিবির মতে, মধ্যমেয়াদি ঋণ ব্যবস্থাপনা কৌশল এখনো পুরোপুরি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়নি এবং ঋণ-সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশও যথেষ্ট স্বচ্ছ নয়। এসব সমস্যা দূর করতে একটি একক ঋণ ব্যবস্থাপনা কার্যালয় গঠন করে সব তথ্য একত্রিত করার সুপারিশ করা হয়েছে, যা ঋণ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও জনসমক্ষে প্রকাশের দায়িত্বও পালন করবে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দেশের রাজস্ব আদায়ে ধীরগতি, বৈদেশিক ভারসাম্যহীনতা এবং নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সীমিত সুযোগ অর্থনৈতিক চাপ বাড়াচ্ছে। এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশ যেসব বাণিজ্য ও অর্থায়ন সুবিধা হারাবে, তাতে এই চাপ আরও তীব্র হতে পারে বলেও সতর্ক করেছে সংস্থাটি।
নীতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর কিছু দুর্বলতার কথাও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এসব দুর্বলতা সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং জনসেবা কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে উল্লেখ করা হয়।
তবে কিছু অগ্রগতির দিকও তুলে ধরেছে এডিবি। এর মধ্যে রয়েছে উন্নত ইন্টিগ্রেটেড বাজেট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টিং সিস্টেম (আইবাস++) ব্যবহারের মাধ্যমে বাজেট বাস্তবায়নে উন্নতি, আন্তর্জাতিক পাবলিক সেক্টর অ্যাকাউন্টিং স্ট্যান্ডার্ডস গ্রহণে উদ্যোগ এবং সরকারি ক্রয় ব্যবস্থার কিছু কাঠামোগত উন্নয়ন।
সব মিলিয়ে, এডিবির মতে বাংলাদেশের আর্থিক খাতে কাঠামোগত সংস্কার জোরদার না হলে আগামী দিনে ঋণ ব্যবস্থাপনা ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় চাপ আরও বাড়তে পারে।