
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান ভূ-রাজনৈতিক দরকষাকষির মাঝে নিজেদের পরমাণু কর্মসূচির অন্যতম প্রধান উপাদান উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ অন্য কোনো দেশের মাটির কাছে হস্তান্তর করতে সাফ অস্বীকৃতি জানিয়েছে ইরান। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ইরানের একজন অত্যন্ত উচ্চপদস্থ ও নির্ভরযোগ্য সরকারি কর্মকর্তা তেহরানের এই অনমনীয় অবস্থানের কথা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট ওই কূটনৈতিক সূত্রটি উল্লেখ করেছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্প্রতি তেহরানের যে প্রাথমিক সমঝোতা বা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, সেখানে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি সংক্রান্ত কোনো বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। মূলত পারমাণবিক ইস্যুটিকে বর্তমান আলোচনার টেবিল থেকে সম্পূর্ণ বাইরে রাখা হয়েছে এবং এটি পরবর্তী কোনো চূড়ান্ত চুক্তি সম্পাদনের সময় দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হবে।
নিজেদের পরমাণু সম্পদের সুরক্ষার বিষয়ে জোর দিয়ে ওই সূত্রটি আরও স্পষ্ট করে বলেন, "ইরানের উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুদ দেশের বাইরে পাঠানোর বিষয়ে কোনো চুক্তি হয়নি।"
এদিকে মার্কিন প্রভাবশালী গণমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের দুই উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরান তাদের ইউরেনিয়াম মজুদ ত্যাগ করার সুনির্দিষ্ট ও চূড়ান্ত পদ্ধতি নিয়ে এখনই কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তিতে সম্মত হয়নি। তবে একটি চূড়ান্ত ও সর্বজনীন চুক্তি পুরোপুরি সম্পাদিত হওয়ার পর পারস্পরিক আলোচনার ভিত্তিতে এ বিষয়ে বিস্তারিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে বলে তেহরানের পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, বিগত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর এক আকস্মিক ও যৌথ বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ দেশটির শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়েকজন ব্যক্তিত্ব নিহত হন। ওই হামলায় ইরানের বেশ কয়েকটি অতি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও কৌশলগত অবকাঠামোও পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়। এই ঘটনার চরম প্রতিশোধ হিসেবে ইরানও মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে মোতায়েন থাকা মার্কিন সামরিক সম্পদ এবং ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে মুহুর্মুহু পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।
কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা ওই রক্তক্ষয়ী ও তীব্র সংঘাতের পর অবশেষে দুই পক্ষের মধ্যে একটি ভঙ্গুর ও সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। এরপর দক্ষিণ এশিয়ার দেশ পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই দেশের প্রতিনিধি দলের মধ্যে একাধিক দফায় শান্তি আলোচনা অনুষ্ঠিত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো স্থায়ী ও চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। তবে পর্দার আড়ালে চলমান এই বড় ধরনের সংকট নিরসনে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এখনও জোরকদমে অব্যাহত রয়েছে।