
মধ্যপ্রাচ্যের চরম উত্তেজনার পারদ আরও বাড়িয়ে দিয়ে ইরান ইস্যুতে এবার একাট্টা অবস্থান নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে পুরোপুরি অকার্যকর করতে যেকোনো ধরনের চূড়ান্ত চুক্তিতে কঠোর শর্ত জুড়ে দেওয়ার ব্যাপারে ওয়াশিংটন ও তেল আবিব একযোগে কাজ করছে।
আজ রোববার (২৪ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু স্পষ্ট করে বলেন, ‘এর অর্থ হলো ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনাগুলো ভেঙে ফেলা এবং সমৃদ্ধ পারমাণবিক উপাদান দেশটির ভূখণ্ড থেকে সরিয়ে নেওয়া।’
ইরান যাতে কোনোভাবেই পরমাণু শক্তির অধিকারী হতে না পারে, সে বিষয়ে নিজেদের অনমনীয় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে নেতানিয়াহু আরও বলেন, আমার নীতি এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নীতি একই—ইরান কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র পাবে না।
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী জানান, গত রাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর ফোনে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। সেই ফোনালাপে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখার বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিরসনে সম্ভাব্য চূড়ান্ত চুক্তির রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত কথা হয়। উক্ত সংলাপে ট্রাম্প আবারও ইসরাইলের আত্মরক্ষার অধিকারের প্রতি তাঁর প্রশাসনের পূর্ণ সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সাম্প্রতিক শান্তি আলোচনায় দৃশ্যমান অগ্রগতির খবরের মাঝেই নেতানিয়াহুর এই কড়া হুঁশিয়ারি সামনে এল। আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি ও চুক্তিকে ঘিরে বৈশ্বিক কূটনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধি পেলেও তেহরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংসের প্রশ্নে ওয়াশিংটন ও তেল আবিব এখনো সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে অনড় রয়েছে।
এদিকে, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধবিরতি ও সম্ভাব্য যে চুক্তির খসড়া তৈরি হচ্ছে, সেখানে ইসরাইলকে কোনো পক্ষ বা অংশীদার হিসেবে রাখা হয়নি। স্বাভাবিকভাবেই ওয়াশিংটনের এমন একক সিদ্ধান্তে চরম অসন্তুষ্ট তেল আবিব। তবে এই সংকটের মধ্যেও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের কৌশলগত সম্পর্কে তৈরি হওয়া ফাটল ও উদ্বেগ কমানোর জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।