
ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় মিন্দানাও দ্বীপে আঘাত হানা ৭.৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৭ জনে দাঁড়িয়েছে। এই ভয়াবহ দুর্যোগে আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৪০০ মানুষ। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে এবং নিখোঁজদের সন্ধানে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছেন কর্মীরা।
মঙ্গলবার (৯ জুন) মিন্দানাও দ্বীপের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত শহর জেনারেল সান্তোসের একটি ধসে পড়া বাণিজ্যিক ভবনের ধ্বংসস্তূপসহ বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধারকাজ চালানো হয়।
সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত জেনারেল সান্তোস শহরের একটি ধসে পড়া বাণিজ্যিক ভবনে (যেটিতে একটি মুদি দোকান ছিল) উদ্ধারকারীরা স্ক্যানার ও ভারী যন্ত্রপাতি নিয়ে অভিযান চালাচ্ছেন। সেখান থেকে দুইজনকে জীবিত এবং একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও আরও অন্তত দুইজন ভেতরে আটকে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ধসে পড়া ভবনের বাইরে অপেক্ষমাণ দিয়োসালিন্দা দেলুভিও নামের এক মা আর্তনাদ করে বলেন, “মা হিসেবে এটা মেনে নেওয়া খুব কঠিন যে আমার ছেলে এখনও ভেতরে আটকে আছে। আমার একমাত্র অনুরোধ, আজই যেন তাকে উদ্ধার করা হয়।”
গতকাল সোমবার (৮ জুন) স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে মিন্দানাওয়ের সারাঙ্গানি প্রদেশের উপকূল থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে এই শক্তিশালী ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। ভূকম্পনটি এতটাই তীব্র ছিল যে, কেন্দ্রস্থল থেকে প্রায় ৪২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ইন্দোনেশিয়ার সুলাওয়েসি দ্বীপের মানাদো শহরেও তা অনুভূত হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS) জানিয়েছে, মূল ভূমিকম্পের পর পরবর্তী দুই ঘণ্টায় একাধিক শক্তিশালী আফটারশক অনুভূত হয়, যার মধ্যে সবচেয়ে বড়টির মাত্রা ছিল ৬.৫। ভূমিকম্পের পরপরই কয়েকটি দেশে সুনামি সতর্কতাও জারি করা হয়েছিল।
জেনারেল সান্তোস শহর: প্রায় ৭ লাখ ২০ হাজার জনসংখ্যার এই উপকূলীয় শহরে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ভবন ধস ও স্থাপনার ধ্বংসাবশেষ মাথায় পড়ে এখানে অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন। পুরো শহরে দুর্যোগ পরিস্থিতি ঘোষণা করা হয়েছে।
সারাঙ্গানি প্রদেশ: এই প্রদেশে সর্বোচ্চ ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের বেশিরভাগই গ্লান শহরের পার্বত্য এলাকায় ভূমিধসে ঘরবাড়ি চাপা পড়ে মারা যান।
অন্যান্য এলাকা: এছাড়া সাউথ কোটাবাটো, দাভাও অক্সিডেন্টাল এবং বালুট দ্বীপ থেকেও মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
আঞ্চলিক সিভিল ডিফেন্স প্রধান রদ্রিগো সসমেনা জানিয়েছেন, এখনও অনবরত আফটারশক হতে থাকায় উদ্ধারকারীদের অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে কাজ করতে হচ্ছে, যা উদ্ধারকাজের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
প্রাথমিক হিসাবে, বিভিন্ন প্রদেশে প্রায় ২ হাজার বাড়িঘর এবং ১১৭টি সরকারি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্লাস শুরু করার আগে অঞ্চলের প্রায় ৬ হাজার সরকারি স্কুল ভবনের নিরাপত্তা পরীক্ষা করা হবে। এদিকে রানওয়ে ও টার্মিনাল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় জেনারেল সান্তোস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এখনও বন্ধ রয়েছে, যার ফলে ৬৩টি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
ফিলিপাইনের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত আট মাসের মধ্যে এটিই দেশটিতে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প। এর আগে গত বছর সেবুর উপকূলে ৬.৯ মাত্রার এক ভূমিকম্পে ৭৯ জনের মৃত্যু হয়েছিল।
সূত্র: আল জাজিরা