
ইরানের সঙ্গে চলমান তীব্র উত্তেজনার মাঝেই দক্ষিণ লেবাননের ঐতিহাসিক বন্দর নগরী টায়ারসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক বিমান ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ‘ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি’ ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবারের (৯ জুন) এই হামলায় প্রাথমিকভাবে ৩ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও পরবর্তীতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৮ জনে দাঁড়িয়েছে।
হামলায় আহত হয়েছেন আরও কমপক্ষে ৩২ জন। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই হতাহতের সংখ্যাটি প্রাথমিক এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে উদ্ধার অভিযান চলায় এটি আরও বাড়তে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার সকালে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী পুরো টায়ার শহর এবং এর আশেপাশের এলাকায় জরুরি উচ্ছেদ বার্তা জারি করে। এর ঠিক পরপরই টায়ারের পূর্ব দিকের মাসাকেন আল-শাবিয়া এলাকায় একটি বড় ধরনের বিমান হামলা চালানো হয়। এতে বেশ কয়েকটি বহুতল ভবন ধসে পড়ে এবং পুরো এলাকা ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। লোরিয়েন্ট টুডে’র তথ্যমতে, সেখান থেকে বেশ কয়েকজনকে নিখোঁজ অবস্থায় উদ্ধার করার চেষ্টা চলছে।
এবারের উচ্ছেদ আদেশে প্রথমবারের মতো টায়ার শহরের উত্তর-পশ্চিমের ঐতিহাসিক ‘খ্রিস্টান কোয়ার্টার’ এলাকাটিকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যা এত দিন ইসরাইলি হামলা থেকে তুলনামূলক নিরাপদ ছিল। ফলে প্রাণভয়ে হাজার হাজার বাসিন্দা ও বাস্তুচ্যুত মানুষ গাড়ি ও ট্রাকে করে উত্তর দিকে পালাতে শুরু করেছেন, যার কারণে মহাসড়কগুলোতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
এনএনএ-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, টায়ারের উত্তর-পূর্বের পার্বত্য এলাকা কাফর রামান শহরে ইসরাইলি ড্রোন হামলায় আরও দু’জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া এদিন সকালে লেবাননের নাবাতীয়া ও কাফর সাইর এলাকায় বিমান হামলা এবং জাবশীত এলাকায় কামান দিয়ে ভারী গোলাবর্ষণ করেছে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (IDF)।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এর আগের দিন সোমবারও (৮ জুন) দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছিলেন। গত মার্চ মাস থেকে হিজবুল্লাহ ও ইসরাইলের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে উপকূলীয় শহর টায়ারে এটি অন্যতম রক্তক্ষয়ী হামলা। আন্তর্জাতিক চিকিৎসা সহায়তাকারী সংস্থা ‘ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস’ (MSF) এই আকস্মিক উচ্ছেদ আদেশ এবং জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
সূত্র: বিবিসি, এএফপি, রয়টার্স