
বাংলাদেশ ও কাজী নজরুল ইসলামকে এক অবিভাজ্য সত্তা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, "পরাধীন, পর্যুদস্ত ও পরাভূত জাতির ভাগ্যাকাশে জাতীয় কবির আবির্ভাব ছিল আলোকবর্তিকার মতো, দিকনির্দেশক বাতিঘরের মতো। অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষেত্রে তিনি আমাদের প্রধান পাথেয়।"
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক বিশেষ পোস্টে প্রধানমন্ত্রী কবির চির-অম্লান স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও অনিঃশেষ কৃতজ্ঞতা জানান। একই সাথে তিনি কবির বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বার্তায় উল্লেখ করেন, আমাদের জাতীয় ইতিহাসের অবিস্মরণীয় নাম কাজী নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন:
"মুমূর্ষু জাতিকে জাগিয়ে দিয়ে সামগ্রিকভাবে সচেতন ও স্বয়ংসম্পূর্ণ করার জন্য যে সর্বপ্লাবী প্রতিভার দরকার হয়ে পড়েছিল, জাতীয় কবি ছিলেন সেই প্রার্থিত ও বহু কাঙ্ক্ষিত প্রতিভা। কাজী নজরুল ইসলামের পুরো জীবনটাই যেন ছিল এক যুদ্ধ ঘোষণা, একটা অনন্যসাধারণ বিদ্রোহ।"
তিনি আরও বলেন, এই বিদ্রোহ ছিল ঔপনিবেশিক শাসন, পরাধীনতা, জুলুম, নির্যাতন, শোষণ, অসাম্য, বৈষম্য, কুসংস্কার ও ধর্মীয় গোঁড়ামির বিরুদ্ধে; তথা সব অন্যায়, অবিচার ও অসুন্দরের বিরুদ্ধে।
কাজী নজরুল ইসলামের দূরদর্শী চিন্তা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষ, মানবতা, স্বাধীনতা, শোষণমুক্ত সমাজ ও নারীমুক্তির জন্য কবির চেয়ে বেশি শিল্পসফল শব্দ আর কেউ রচনা করেননি।
"তিনিই আমাদের প্রথম কবি, সাংবাদিক ও রাজনীতিক—যিনি ঔপনিবেশিক পরাধীনতার বিরুদ্ধে উপমহাদেশের পূর্ণ স্বাধীনতা দাবি করেছিলেন। জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র নির্বিশেষে মানুষের প্রতি তাঁর যে দরদ ও দীপ্ত অঙ্গীকার, তা চিরকাল তুলনাহীন।"
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, আমাদের জাতীয় জীবনে কবির প্রাসঙ্গিকতা ও প্রয়োজন কখনো ফুরানোর নয়। আমাদের প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে কবির সৃষ্টিশীলতাই হয়ে ওঠে প্রধান শক্তি। তিনি উল্লেখ করেন:
"আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে এবং 'জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে' কবির কবিতা ও গান যেমন ছিল অনুপ্রেরণার প্রবল উৎস, তেমনই আমাদের সব আন্দোলন-সংগ্রামে তাঁর সৃষ্টিশীলতাই হয়ে ওঠে প্রতিবাদ-প্রতিরোধের মূল ভাষা। তিনি আমাদের যাপিত জীবনের অনিবার্য অংশ।"
তিনি আরও যোগ করেন, মাত্র দুই দশকের সৃষ্টিশীল সাধনা দিয়ে নজরুল জাতিকে আত্মপ্রত্যয়মণ্ডিত করে গেছেন এবং নির্মাণ করে দিয়েছেন জাতীয় সাহিত্য-সংস্কৃতির মজবুত পাটাতন। তিনি সত্যিকার অর্থেই জাতীয় রেনেসাঁর নিশানবরদার এবং বাংলাদেশের জাতীয় কবি হয়েও সারা পৃথিবীর নিঃস্ব, রিক্ত ও মজলুম মানুষের আত্মার আত্মীয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নজরুল আমাদের জাতীয় সত্তার সার্থক প্রতিনিধি, আমাদের জাতীয় চেতনার প্রতীক এবং আমাদের জাতীয়তাবাদের পথিকৃৎ।
জাতীয় কবির জন্মদিনে দেশের প্রতিটি নাগরিকের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, "আসুন, অন্যায়, অবিচার, ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও বিভেদের গ্লানি মুছে ফেলে সবার আগে বাংলাদেশকে ধারণ করি। আমাদের স্বাধীনতাকে অর্থবহ করে একটি সুখী-সমৃদ্ধ ও গণতান্ত্রিক মাতৃভূমি বিনির্মাণে নিজেদের নিবেদিত করাই হোক আজকের দিনের মূল প্রত্যয়।"