
জ্বালানি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিক্ষা ও প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে একমত হয়েছে বাংলাদেশ ও রাশিয়া। দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নানা ইস্যুতেও আলোচনা হয়েছে।
সোমবার (৮ জুন) রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এসব বিষয় উঠে আসে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর এটি ড. খলিলুর রহমানের প্রথম দ্বিপক্ষীয় বিদেশ সফর। সের্গেই লাভরভের আমন্ত্রণে তিন দিনের সরকারি সফরে তিনি রাশিয়া সফর করছেন।
বৈঠকে লাভরভ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় ড. খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে জাতিসংঘকে আরও কার্যকর এবং বৈশ্বিক বিভিন্ন বিষয়ে সংস্থাটির কেন্দ্রীয় ভূমিকা জোরদারে তার প্রচেষ্টায় রাশিয়ার পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফলপ্রসূ কার্যক্রমের প্রত্যাশা করছে মস্কো এবং এ দায়িত্ব পালনে রাশিয়া বাংলাদেশের পাশে থাকবে।
রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ধারাবাহিকতায় আগামী বছরের জানুয়ারিতে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫৫ বছর পূর্তি উদযাপিত হবে। বাণিজ্য, অর্থনীতি, সংস্কৃতি, সামরিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতায় নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে এ মাইলফলক উদযাপনের আশাবাদও ব্যক্ত করেন তিনি। পাশাপাশি বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে দুই দেশের রাজনৈতিক সংলাপ ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন।
বৈঠকে ড. খলিলুর রহমান রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, প্রধানমন্ত্রী মিখাইল মিশুস্তিন এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের কাছে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শুভেচ্ছা বার্তা পৌঁছে দেন। একই সঙ্গে রাশিয়ার সঙ্গে বিদ্যমান সম্পর্ক আরও গভীর করার বিষয়ে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বিশেষ করে স্বাধীনতার পর চট্টগ্রাম বন্দর মাইনমুক্ত করতে সোভিয়েত নৌবাহিনীর ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বাণিজ্য, শিক্ষা, জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা খাতে দুই দেশের সহযোগিতা ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে এবং এসব ক্ষেত্রে আরও অগ্রগতি চায় বাংলাদেশ।
ড. খলিলুর রহমান রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রকে বাংলাদেশ-রাশিয়া অংশীদারত্বের অন্যতম বড় প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করে প্রকল্পটির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন দ্রুত সম্পন্ন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
বৈঠক শেষে দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বৈঠকে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন বহুপক্ষীয় ফোরামে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা আরও সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ধারাবাহিকভাবে ২০০ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি রয়েছে। পাশাপাশি জ্বালানি, শিক্ষা ও কারিগরি খাতেও দুই দেশের সহযোগিতা ক্রমাগত বাড়ছে।