
দেশের যুবসমাজকে আত্মনির্ভরশীল করতে এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থ-বছরের বাজেটে ‘স্টার্ট-আপ’ তহবিল, নারী উদ্যোক্তা ও তরুণ উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে মোট ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৯ জুন) জাতীয় সংসদে ঢাকা-৪ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীনের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই তথ্য জানান।
অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, যুবসমাজের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্টার্ট-আপ ও তরুণ উদ্যোক্তা তৈরিতে সরকার বদ্ধপরিকর। এরই ধারাবাহিকতায় নতুন বাজেটে এই বিশেষ বরাদ্দের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
সংসদে অর্থমন্ত্রী জানান, চলমান ২০২৫-২৬ অর্থ-বছরের সংশোধিত বাজেটে ‘স্টার্ট-আপ তহবিল’ খাতে ইতোমধ্যে ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। যুব ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা যাতে এই সুযোগ-সুবিধা এবং কারিগরি প্রশিক্ষণ আরও সহজে পেতে পারেন, সেজন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও দপ্তরগুলোকে বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করা হবে। এছাড়া আগামী ২০২৬-২৭ অর্থ-বছরের বাজেটে এই বরাদ্দ দ্বিগুণ করে মোট ৪০০ কোটি টাকা করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে, যা নারী ও তরুণ উদ্যোক্তা তৈরিতে বড় ভূমিকা রাখবে।
ঢাকা-৪ আসনের অন্তর্গত এলাকার সুনির্দিষ্ট চাহিদার ওপর ভিত্তি করে স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়ন এবং নিম্ন ও মধ্য আয়ের জনগোষ্ঠীর জীবনমান বাড়াতে আগামী বাজেটে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় ঢাকা মহানগরের সামগ্রিক অবকাঠামো, রাস্তাঘাট ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মাধ্যমে নিয়মিত প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে।
নিম্ন ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়ে মন্ত্রী বলেন, সরকার সারা দেশে ক্রমান্বয়ে সুবিধাভোগীর সংখ্যা ও ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধি করেছে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতাসহ অন্যান্য চলমান সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা ও বরাদ্দ আগামী অর্থ-বছরে আরও সম্প্রসারণের বিষয়টি সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে।
যুবসমাজকে আত্মনির্ভরশীল করতে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং কর্মসংস্থান ব্যাংকের মাধ্যমে সহজ শর্তে যুব ঋণ বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এছাড়া তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের আওতায় ‘স্টার্ট-আপ বাংলাদেশ লিমিটেড’ এবং অর্থ বিভাগের বিভিন্ন তহবিলের মাধ্যমে দেশব্যাপী ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য কম সুদে ঋণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।