
৩টি দেশ ও ৪৮টি দল নিয়ে আগামী ১১ জুন থেকে শুরু হতে যাচ্ছে নতুন আঙ্গিকের ফিফা বিশ্বকাপ। বিশ্বজুড়ে ফুটবল ভক্তদের উন্মাদনা যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই বড় ধরনের আইনি ধাক্কা খেল বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। ফিফা এবং এর বর্তমান সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা ঠুকে দিয়েছেন উয়েফার সাবেক সভাপতি ও ফরাসি ফুটবল কিংবদন্তি মিশেল প্লাতিনি।
মঙ্গলবার (৯ জুন) এক বিবৃতিতে প্লাতিনির আইনজীবীরা ফ্রান্সে এই মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ইনফান্তিনো ছাড়াও ফিফার সাবেক আইন পরিচালক মার্কো ভিলিজার এবং সাবেক অডিট কমিটির চেয়ারম্যান ডোমেনিকো স্কালাকে এই মামলায় আসামি করা হয়েছে।
৭০ বছর বয়সী প্লাতিনির অভিযোগ, ২০১৫ সালে তাঁকে পরিকল্পিতভাবে ও অভ্যন্তরীণ কারসাজির মাধ্যমে ফিফা সভাপতি নির্বাচন থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে ‘অসৎ উদ্দেশ্যে মামলা পরিচালনা’ এবং ‘প্রভাব বিস্তার’ (Influence Peddling)-এর অভিযোগ আনা হয়েছে। একই সঙ্গে এই ষড়যন্ত্রের কারণে হওয়া সমস্ত আর্থিক ও ক্যারিয়ারের ক্ষয়ক্ষতির জন্য ফিফার কাছে পূর্ণ ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন তিনি।
এই আইনি লড়াইয়ের সূত্রপাত হয়েছিল ২০১৫ সালে। ২০১১ সালে ফিফার তৎকালীন সভাপতি সেপ ব্লাটারের কাছ থেকে প্লাতিনি ২০ লাখ সুইস ফ্রাঁ (প্রায় ২ মিলিয়ন) গ্রহণ করেছিলেন—এমন একটি তথ্য সামনে আসার পর ফিফার এথিক্স কমিটি তাঁদের দুজনকে ফুটবলীয় কর্মকাণ্ড থেকে নিষিদ্ধ করে।
এই নিষেধাজ্ঞার ফলেই তৎকালীন উয়েফা মহাসচিব জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর জন্য ২০১৬ সালের ফিফা সভাপতি নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পথ পরিষ্কার হয়ে যায়। প্লাতিনির দাবি, ইনফান্তিনো ও তাঁর সহযোগীরা মিলে তাঁকে ফুটবল প্রশাসন থেকে সরাতে এই ‘স্মেয়ার ক্যাম্পেইন’ বা অপপ্রচার চালিয়েছিলেন।
দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ সুইস ফেডারেল ফৌজদারি আপিল আদালত প্লাতিনি ও সেপ ব্লাটারকে জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগ থেকে চূড়ান্তভাবে খালাস দেয়। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সেই রায় চূড়ান্ত রূপ পায়।
নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ার পর প্লাতিনি জানিয়েছিলেন, তিনি আর ফুটবলের প্রশাসনিক দায়িত্বে ফিরতে চান না। তবে তাঁর সম্মানহানি ও ক্যারিয়ার ধ্বংসের পেছনের কুশীলবদের বিচার চান। এরই অংশ হিসেবে তিনি ফরাসি তদন্তকারীদের অনুরোধ করেছেন, তৎকালীন সুইস আইনজীবীদের সাথে ফিফা কর্মকর্তাদের কোনো গোপন আঁতাত ছিল কি না, তা যেন খতিয়ে দেখা হয়।
এর আগেও ২০২১ সালে প্লাতিনি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছিলেন, যা গত অক্টোবর (২০২৫)-এ কোনো ব্যবস্থা না নিয়েই বন্ধ হয়ে যায়। এবার সরাসরি ফ্রান্সের আদালতে ফৌজদারি ও দেওয়ানি মামলা করায় নতুন করে চাপের মুখে পড়লেন ইনফান্তিনো। তবে বিশ্বকাপের ঠিক দুদিন আগে হওয়া এই মামলা নিয়ে ফিফা বা জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।