
দুর্গম পাহাড়ি জনপদ থেকে উঠে এসে নতুন ইতিহাস রচনা করলেন য়াপাও ম্রো—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ম্রো জনগোষ্ঠীর কোনো তরুণী হিসেবে ভর্তি হয়েছেন তিনি।
বান্দরবানের রুমা উপজেলার নিশিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা য়াপাও। রেমাক্রি প্রাংসা ইউনিয়নের এই প্রত্যন্ত গ্রামটি জেলা সদর থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। চারদিকে পাহাড় আর ঘন জঙ্গলে ঘেরা এই এলাকায় আধুনিক সুযোগ-সুবিধা প্রায় নেই বললেই চলে। বিদ্যুৎ, মোবাইল নেটওয়ার্ক, সুপেয় পানি কিংবা হাসপাতাল—সবকিছুই সেখানে দুর্লভ। প্রকৃতির সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াই করেই এখানকার মানুষের জীবনযাপন।
এমন প্রতিকূল পরিবেশে বেড়ে ওঠা য়াপাওয়ের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং পুরো ম্রো জনগোষ্ঠীর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এটি যেমন ম্রো সম্প্রদায়ের গর্ব, তেমনি বিশ্ববিদ্যালয়টির জন্যও একটি সম্মানের বিষয়।
বান্দরবানে ম্রোরা সংখ্যার দিক থেকে দ্বিতীয় বৃহত্তম পাহাড়ি জনগোষ্ঠী হলেও শিক্ষা ও সুযোগ-সুবিধার দিক থেকে তারা অনেকটাই পিছিয়ে। জুমচাষনির্ভর এই জনগোষ্ঠীর বড় অংশই এখনও শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত।
ম্রো ভাষার গবেষক ইয়াংঙান ম্রো বলেন, এতদিন এই জনগোষ্ঠীর মধ্যে কোনো তরুণীর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার নজির ছিল না। য়াপাও সেই অচলায়তন ভেঙেছেন। তার মতে, এটি শুধু একজনের সাফল্য নয়, বরং পুরো সম্প্রদায়ের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর এক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
চার ভাইবোনের মধ্যে তৃতীয় য়াপাওয়ের বাবা পারাও ম্রো একজন দরিদ্র জুমচাষি। নিজে শিক্ষার সুযোগ না পেলেও সন্তানদের পড়াশোনার স্বপ্ন দেখতেন তিনি। জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে মেয়েকে অনুপ্রাণিত করে তিনি বলতেন, ‘আমরা তো চোখ থাকতে অন্ধ ছিলাম, তুই আমাদের আলো হবি।’
দারিদ্র্য, অনগ্রসরতা ও নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করে য়াপাওয়ের এই সাফল্য এখন পাহাড়ের ম্রো কিশোরীদের জন্য নতুন স্বপ্নের পথ দেখাচ্ছে।