
ঈদের আগে উজ্জ্বল ত্বক পেতে ঘরে যা করবেন
রোজা রেখে অফিস, বাইরের কাজ, শপিং, বাসার কাজ করে ত্বকের অবস্থা একেবারেই খারাপ। ঈদের বাকি আর মাত্র ২ দিন। পার্লারেও যাওয়ার সময় হচ্ছে না। এদিকে ত্বকে রোদেপোড়া ছাপ, ব্রণের দাগ, শুষ্ক ত্বক। ঈদে সাজবেন কীভাবে সেই দুশ্চিন্তায় কাটছে সময়। তবে পার্লারে না গিয়ে ঘরেই কিন্তু ত্বকের যত্ন নিতে পারে। ঘরে তৈরি প্যাকে ত্বক হবে কোমল, মসৃণ, উজ্জ্বল। আসুন জেনে নেওয়া যাক কী করবেন। যা যা লাগবে-কর্নফ্লাওয়ার ২ চা চামচ, দই ২ চা চামচ, মধু ২ চা চামচ, মুলতানি মাটি ১ চা চামচ, গোলাপ জল ১ চা চামচ। যেভাবে ব্যবহার করবেনএকটি পাত্র নিন এবং তাতে মুলতানি মাটি ও দই যোগ করুন। এবার এটি ভালো করে মিশিয়ে নিন। ৫ মিনিট রেখে তারপর পাত্রে কর্নফ্লাওয়ার, গোলাপজল এবং মধু যোগ করুন। সব উপকরণ ভালো করে মিশিয়ে নিন। আপনার কর্নফ্লাওয়ার ফেসপ্যাক প্রস্তুত। এবার এটি আপনার মুখে লাগান। ১০ থেকে ১৫ মিনিট শুকাতে দিন। শুকিয়ে গেলে হাতে কিছুটা পানি বা গোলাপ জল নিয়ে মাস্যাজ করে ধুয়ে ফেলুন। মাত্র ১৫ মিনিটেই আপনার ত্বক হবে পরিষ্কার এবং উজ্জ্বল। ত্বক ভালো রাখতে সব সময় ত্বক পরিষ্কার রাখুন। মেকআপ ভালো করে পরিষ্কার করে তারপর রাতে ঘুমাতে যান। বাইরে থেকে এসে ত্বকের সব মেকআপ কিংবা সানস্ক্রিন, ময়েশ্চারাইজার যাই মাখুন না কেন ভালোভাবে পরিষ্কার করুন। ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধুয়ে সিরাম, ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে নিন।

ফেসবুক স্টোরি থেকেও এখন আয় করা যাবে
বিশ্বের সবচেয়ে বড় সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম হচ্ছে ফেসবুক। ইন্টারনেটের এই যুগে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে সামাজিকমাধ্যম। সব বয়সি ব্যবহারকারী আছে ফেসবুকের। ফেসবুক থেকে আয় করার নানা উপায় এনেছে মেটা। ফেসবুক ভিডিও, রিলস, পেজ থেকে আয় করা যায়। এখন ফেসবুকের স্টোরি থেকেও আয় করার ব্যবস্থা আনছে মেটা। প্রতিদিন এক বা একাধিক স্টোরি শেয়ার করেন ফেসবুকে। কখন কি হচ্ছে, বিশেষ কোনো মুহূর্ত বা কোনো ছবি স্টোরি দিচ্ছেন। ফেসবুক পাবলিক স্টোরিগুলোতে ভিউয়ের ভিত্তিতে ক্রিয়েটরদের অর্থ উপার্জনের ক্ষমতা চালু করছে। এখন কনটেন্ট ক্রিয়েটর কিংবা ব্যবহারকারীরা তাদের কনটেন্ট ফেসবুক স্টোরিতে শেয়ার করলেও সেখানে যে ভিউ হবে তার ভিত্তিতে আয় করতে পারবেন। এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফেসবুকের মনিটাইজেশন প্রোগ্রামের সদস্যদের জন্য চালু হবে। ধরুন কেউ যদি কোনো রেসিপির ভিডিও করে সেখান থেকে কয়েকটি ক্লিপ বা ছবি স্টোরিতে শেয়ার করে তাহলেও সেখানে আয় করা যাবে। স্টোরির পেমেন্ট নির্ধারিত হবে কনটেন্টের পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করে। অর্থাৎ নির্দিষ্ট সংখ্যক ভিউয়ের শর্ত ছাড়াই নির্মাতারা আয়ের সুযোগ পাবেন। ফেসবুক গত বছর কন্টেন্ট মনিটাইজেশন প্রোগ্রাম চালু করেছিল যাতে তার ইন-স্ট্রিম বিজ্ঞাপন, রিল বিজ্ঞাপন এবং পারফরম্যান্স বোনাস প্রোগ্রামগুলোকে একত্রিত করে একটিতে পরিণত করা যায়। ফলে স্টোরির জন্য আলাদা মনিটাইজেশনের প্রয়োজন নেই। সূত্র: টেক ক্রাঞ্চ

ফেসবুক মনিটাইজেশনের জন্য টিন রেজিস্ট্রেশন করা ঠিক হবে কি?
বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম হচ্ছে ফেসবুক। ইন্টারনেটের এই যুগে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে ফেসবুক। ফেসবুক মনিটাইজেশন করার অনেক সুবিধা রয়েছে। ফেসবুক থেকে আয় করার প্রথম শর্তই হচ্ছে আপনার পেজটি মনিটাইজেশন করতে হবে। তবে চাইলেই ফেসবুক মনিটাইজেশন করতে পারবেন না। এ জন্য ফেসবুকের কিছু শর্ত আপনাকে মানতে হবে। সেসবের অন্যতম শর্ত হচ্ছে কিছু নথি আছে বলে নিশ্চিত করতে হবে। সেই নথির অন্যতম টিন সার্টিফিকেট। বর্তমানে ফেসবুক মনিটাইজেশন করতে হলে টিন সার্টিফিকেট প্রয়োজন হয়, তবে এটি তৈরি করার আগে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জানা দরকার। অনেকেই হুটহাট টিন খুলে ফেলেন, কিন্তু পরে বুঝতে পারেন যে, এর মাধ্যমে আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে হয় (যখন করমুক্ত আয়সীমার বেশি আয় হয়) এবং সঠিকভাবে কর পরিশোধ না করলে ভবিষ্যতে আইনি জটিলতায় পড়তে হতে পারে।কেন বুঝে নেওয়া দরকার? মনিটাইজেশন সবসময় সফল নাও হতে পারে। অনেক সময় সোশ্যাল মিডিয়াগুলোতে মনিটাইজ হলেও পর্যাপ্ত ইনকাম নাও আসতে পারে। ফলে টিন করলেন যেজন্য, সেই কাজে না লাগলেও আপনাকে আয়কর রিটার্ন জমা দিতে হচ্ছে সময় মতো। টিন নিলে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। বছরে আয় এক টাকা হোক বা না হোক, যদি আপনার টিন থাকে, তাহলে আয়কর রিটার্ন দাখিল করতেই হবে। আপনার করযোগ্য পরিমাণ আয় না হোক বা সম্পদ না থাকুক তারপরও আপনাকে জিরো রিটার্ন জমা দিতে হবে। তা না হলে ভবিষ্যতে আপনি নানান সমস্যায় পড়বেন। যদি আয়কর রিটার্ন না দেন, তাহলে টিন নিষ্ক্রিয় হয়ে যেতে পারে বা জরিমানার মুখে পড়তে হতে পারে। তারপর জিরো রিটার্ন না দেওয়ার ফলে আপনি ব্যাংক লোন নিতে গেলে ঝামেলায় পড়বেন। বিদেশ যাত্রায় ব্যাংক স্টেটমেন্ট দেখাতে গেলেও ঝামেলা হবে।তাহলে কী করবেন? আগে নিশ্চিত হোন ফেসবুক থেকে আপনার ইনকাম আসবে কি না, অর্থাৎ আপনি সেইভাবে ফেসবুকে সময় দিতে পারবেন কি না নিয়মিত। নিয়মিত কনটেন্ট বানানো, পোস্ট করা বেশ কঠিন কাজ। যদি আপনি ফেসবুকে সময় দিতে পারেন তাহলে টিন রেজিস্ট্রেশন করুন। টিন থাকলে অবশ্যই আপনার জিরো রিটার্ন সাবমিট করতে হবে, আপনার সম্পদ থাকুক বা না থাকুক। আর টিন বন্ধও করতে পারবেন। এ জন্য ট্যাক্স কমিশনার বারবার আবেদন করতে হবে। সঠিক পরিকল্পনা করে সিদ্ধান্ত নিলে ভবিষ্যতে কোনো ধরনের ঝামেলায় পড়তে হবে না। সূত্র: মেটা

রোজায় পেটের সমস্যা হলে করণীয়
রমজানে সারাদিন রোজা রাখার ফলে শরীরে পানিশূন্যতা, শক্তির ঘাটতি ও ক্লান্তি দেখা দিতে পারে। রোজায় আরও যে সমস্যাটি প্রায় সবার দেখা দেয় তা হচ্ছে পেটের সমস্যা। রমজান মাসে দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার কারণে অনেকেরই হজমজনিত সমস্যা হয়। বিশেষ করে গ্যাস, অ্যাসিডিটি, ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। এই ধরনের সমস্যাগুলো শরীরকে দুর্বল করে দিতে পারে এবং রোজা পালন কঠিন করে তুলতে পারে। তাই রোজায় পেটের সমস্যা হলে কী করবেন এবং কী খাবেন, তা জানা গুরুত্বপূর্ণ। রোজায় ডায়রিয়া বা পেট খারাপ হলে করণীয় ডায়রিয়া হলে শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি হয়, যা রোজায় দুর্বলতা বাড়াতে পারে। তাই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। ইফতারে অতিরিক্ত ভাজাপোড়া বা মসলাযুক্ত খাবার খাওয়া, বাসি বা দূষিত খাবার গ্রহণ, পর্যাপ্ত পানি না খাওয়া, দই বা দুধজাতীয় খাবার ঠিকমতো না খাওয়া ডায়রিয়ার অন্যতম কারণ। এজন্য সেহরিতে ও ইফতারের পরে বেশি করে পানি পান করুন। ওআরএস বা লবণ-চিনির মিশ্রণ পান করুন। এটি শরীরের পানির ভারসাম্য ঠিক রাখবে। মসলাযুক্ত ও অতিরিক্ত তেলযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন। ইসুবগুলের ভুসি খান। এটি হজমে সহায়তা করে এবং ডায়রিয়া কমাতে সাহায্য করে। কলা, টোস্ট ও সিদ্ধ আলু খান। এগুলো সহজে হজম হয় ও ডায়রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে। অ্যাসিডিটি ও গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হলে করণীয় অনেকেই রোজায় অ্যাসিডিটির সমস্যায় ভোগেন, যা মূলত খালি পেটে অ্যাসিড নিঃসরণের কারণে হয়। খালি পেটে বেশি সময় থাকা, ইফতারে অতিরিক্ত ভাজাপোড়া খাওয়া, সেহরিতে চা, কফি বা অতিরিক্ত মশলাযুক্ত খাবার খাওয়া, পর্যাপ্ত পানি না খাওয়া অ্যাসিডিটি ও গ্যাস্ট্রিকের সমস্যার অন্যতম কারণ। এজন্য সেহরিতে এবং ইফতারের পর পর্যাপ্ত পানি পান করুন। ইফতারে খেজুর, শসা ও দই রাখুন। এগুলো হজমে সাহায্য করে এবং এসিড নিয়ন্ত্রণ করে। লেবু-পানি বা তোকমার শরবত পান করুন। এটি পেটকে ঠাণ্ডা রাখবে। চা, কফি ও সফট ড্রিংক এড়িয়ে চলুন। সেহরিতে আঁশযুক্ত খাবার খান, যেমন-ওটস, ডালিয়া ও সবজি।কোষ্ঠকাঠিন্য হলে করণীয় দীর্ঘ সময় পানিশূন্যতা থাকার কারণে অনেকের কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দেয়, যা পেট ফেঁপে যাওয়া ও অস্বস্তির কারণ হতে পারে। আঁশযুক্ত খাবার কম খাওয়া, পর্যাপ্ত পানি না খাওয়া, বেশি ভাজাপোড়া ও মাংসজাতীয় খাবার খাওয়ার কারণে কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে। এজন্য সেহরি ও ইফতারে বেশি করে পানি ও ফলের রস পান করুন। পেঁপে, আম, কলা, কমলা, খেজুর ও শাকসবজি খান।ইসুবগুলের ভুসি পানিতে মিশিয়ে পান করুন। ইফতারে বেশি করে সালাদ ও ডাল রাখুন। পেটে গ্যাস ও ফোলাভাব হলে করণীয় অনেকেই রোজায় পেট ফাঁপা ও ভারী লাগার সমস্যায় ভোগেন, যা হজমে সমস্যা সৃষ্টি করে। ইফতারে কার্বোনেটেড ড্রিংকস (কোল্ড ড্রিংক) পান করা, খুব দ্রুত খাবার খাওয়া, ডাল বা বেশি মসলাযুক্ত খাবার খাওয়ার কারণে পেটে গ্যাস ও ফোলাভাব হতে পারে। ধীরে ধীরে খাবার খান ও ভালোভাবে চিবিয়ে খান। সেহরিতে জিরা-গুঁড়া বা আদা-চা পান করুন। এটি গ্যাস কমাতে সাহায্য করে।ইফতারে চিনিযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলুন ও লেবু-পানি পান করুন। ইফতারে বেশি পরিমাণে প্রোটিন ও আঁশযুক্ত খাবার খান।

ঈদের কেনাকাটায় মাথায় রাখুন ৬ বিষয়
বছর ঘুরে আবার আসছে আনন্দের উপলক্ষ ঈদ। পকেটের হাল যেমনই থাক এসময় নিজের আর পরিবারের জন্য কেনাকাটা করতেই হয়। তাই খরচের খাতায় বাড়তি কিছু অর্থ যোগ হয় ঈদ এলে। সাধ আর সাধ্যের সমন্বয়ে ঈদের কেনাকাটা করতে চান সবাই। তাই ঈদ শপিং শুরু করার আগে সঠিক প্রস্তুতি থাকা জরুরি। খেয়াল রাখুন বাজেটে নির্বিঘ্নে ঈদের কেনাকাটা করতে চাইলে বাজেট মেনে চলার বিকল্প নেই। যত বড় অঙ্কের খরচের পরিকল্পনাই থাকুন না কেন, বাজেট ধরে আগালে সুবিধা মিলবে বেশি। আগে থেকে বাজেট ঠিক করে রাখলে কোনো খাতে বেশি খরচ হয়ে গেলে তা অন্য খাতে কমিয়ে ব্যালেন্স করা যায়। এতে সবমিলিয়ে নির্দিষ্ট বাজেটে শপিং শেষ করা সহজ হয়। আগে থাকেই তালিকা প্রস্তুত রাখুন এখন সবাই কর্মব্যস্ত। হোক সেটি ঘরে কিংবা বাইরে। শপিং এ গিয়ে ঘুরে ঘুরে ইচ্ছেমতো জিনিস কেনা সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। তাছাড়া রোজার দিনে মার্কেটে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করাও কঠিন। তাই ঈদের কেনাকাটা করতে গেলে আগে থেকেই তালিকা তৈরি করে সঙ্গে নিয়ে যান। এতে কী কিনতে চাচ্ছেন তা দ্রুত খুঁজে পাবেন আবার ভুলে কোনো কিছু বাদ পড়বে না। কেবল পোশাক, গয়নার ক্ষেত্রে নয় রান্নাঘরের প্রয়োজনীয় জিনিস থেকে শুরু করে প্রসাধনী কিনতেও তালিকা সঙ্গে রাখা ভালো। আগেই যদি ঠিক করা থাকে কোন কোন মসলা কিনতে হবে, কী কী বাজার করতে হবে, কোন শেডের লিপস্টিক বা নেইল পলিশ কিনতে হবে তাহলে কম সময়ে কেনাকাটা করা যায়। দ্বিধায় পড়ে ভুল পণ্য বাছাই করার আশঙ্কাও কম থাকবে। ভিন্ন খাতে ভিন্ন তালিকা করুন ঈদের খরচের খাত থাকে একাধিক। ব্যক্তিগত কেনাকাটা, খাবারদাবার, ঘরের জিনিস, পরিবারের সব সদস্যের কেনাকাটা, প্রিয়জনের জন্য উপহার আরও অনেক কিছু রয়েছে। প্রতিটি খাতের আলাদা বাজেট, আলাদা তালিকা আগে থেকেই তৈরি রাখুন। এতে একদিকে বেশি খরচ হয়ে অন্যদিকে টানাটানি পড়বে না। কেনাকাটা সারতে পারেন অনলাইনেও কাছের হোক বা দূরের, প্রিয়জনদের জন্য উপহার কেনার একটি দারুণ উপলক্ষ ঈদ। কম সময়ে কেনাকাটা সারার ক্ষেত্রে বেছে নিতে পারেন অনলাইন শপিংকে। তবে অনলাইনে অনেক ভুয়া পেজ রয়েছে। তাই জানাশোনা ও পরিচিত প্রতিষ্ঠান থেকে অনলাইন কেনাকাটা করার চেষ্টা করুন। সবার পছন্দ মাথায় রাখুন পরিবার কিংবা বাইরের যার জন্যই কেনাকাটা করবেন, সম্পূর্ণ নিজের ইচ্ছেমতো না চলে তাদের পছন্দ-অপছন্দও মাথায় রাখুন। ঈদের খুশি যেন কারোর মন খারাপের কারণ না হয় সেদিকে একটু নজর রাখুন। তাড়াহুড়া করবেন না কেনাকাটা করার ক্ষেত্রে তাড়াহুড়া করবেন না। এতে অসঙ্গতিপূর্ণ এবং ভুল পণ্য কেনার আশঙ্কা থাকে। তাই সময় নির্ধারণ করে সেই অনুযায়ী কেনাকাটার পরিকল্পনা করুন।

খালি পেটে চিয়া বাদামের পুডিং কেন খাবেন?
ইফতারের সময় চিয়া বাদামের পুডিং খাওয়া অত্যন্ত উপকারী। পুষ্টিবিদরা বলছেন, ‘দীর্ঘ সময় রোজা রাখার পর খালি পেটে চিয়া বাদামের পুডিং যেমন পেট ভালো রাখে তেমনি শরীরের পুষ্টিও নিশ্চিত করে।’ ক্ষুদ্র দানাদার এক ধরনের বীজই হলো চিয়া। পানিতে ভেজালে এটি ফুলে থকথকে হয়ে ওঠে। এতে রয়েছে ওমেগা-৩,ফ্যাটি এসিড, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ফাইবার। রোগ প্রতিরোধক ও শরীরের জন্য উপকারী চিয়াকে তাই সুপারফুডও বলা হয়।বাদাম, দুধ, বাহারি ফলের সঙ্গে চিয়ার পুষ্টিগুণ পেতে চিয়া বাদামের পুডিং তাই ইফতারে নিয়মিত রাখুন। এটি ঝটপট তৈরি করা যায় আবার রোজা রাখার পর খালি পেটে নিয়মিত খাওয়ার অভ্যাসে শরীরের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত হয়।বাড়িতে চিয়া বাদামের পুডিং তৈরি করতে আসুন এক নজরে জেনে নিই রেসিপিটি- প্রয়োজনীয় উপকরণ: ১ কাপ দুধ, ১/৪ কাপ চিয়া বীজ, ২-৩ টা খেজুর, ৫-৭ টা বাদাম (যেকোনো বা মিক্সড), কিশমিশ ৭টি, ১ টা কলা।যেভাবে তৈরি করবেন: চিয়া বীজ পানিতে ভিজিয়ে রাখুন ৩০ মিনিট। দুধে খেজুর ও বাদাম দিয়ে ব্লেন্ড করে নিন। এরপর এতে ভিজিয়ে রাখা চিয়া বীজ যোগ করে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। কিছুক্ষণ ফ্রিজে রাখার পর ওপরে কলার টুকরা, বাদাম কুচি ও কিশমিশ দিয়ে পরিবেশন করুন।

রোজা রাখার ৫ স্বাস্থ্য উপকারিতা জেনে নিন
রমজান মাসে রোজা রাখার ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক গুরুত্বের পাশাপাশি অসংখ্য স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে। এই মাসে রোজা রাখার মাধ্যমে শরীরকে খাবার থেকে বিরতি দেওয়া হয়। যা আমাদের সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। এই পবিত্র মাসে রোজা রাখলে শারীরিক ও আধ্যাত্মিক উভয় উভয় অর্জন করা যায়। চলুন তবে জেনে নেওয়া যাক রোজা রাখার ৫টি স্বাস্থ্য উপকারিতা সম্পর্কে- ১. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি রোজা রাখার ফলে আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়। প্রদাহ এবং অক্সিডেটিভ স্ট্রেস হ্রাস প্রো-ইনফ্ল্যামেটরি সাইটোকাইনের উৎপাদন হ্রাস করে এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের উৎপাদন বৃদ্ধি করে, যা অসুস্থতা এবং রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সহায়তা করে। পুষ্টিবিদদের মতে, রোজা অন্ত্রের আস্তরণকে শক্তিশালী করে। এটি অটোফ্যাজি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ক্ষতিকারক এবং ক্ষতিগ্রস্ত উপাদান থেকে কোষকে পরিষ্কার করে। ২. ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে রোজা ইনসুলিন সংবেদনশীলতা উন্নত করতে এবং টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।রোজার সময় শক্তির জন্য সঞ্চিত গ্লুকোজের ওপর নির্ভর করলে শরীরের গ্লুকোজের মাত্রা কমে যায়, যার ফলে গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ এবং ইনসুলিন সংবেদনশীলতা উন্নত হয়। গবেষণা অনুসারে, রমজান মাসে রোজা রাখার ইতিবাচক ফলাফল রয়েছে। এটি ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি করে এবং ইনসুলিন প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস করে। ৩. ওজন কমায় ওজন কমানোর জন্য রোজা একটি দুর্দান্ত উপায়। সাহরি ও ইফতারে খাবারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে এবং ক্যালোরি গ্রহণ কমিয়ে এই মাসে ওজন কমানো সম্ভব হতে পারে। তবে রমজান মাস ছাড়া বছরের অন্যান্য সময়েও অতিরিক্ত খাওয়ার প্রলোভন এড়াতে হবে। ৪. হৃদরোগের জন্য ভালো রোজা রাখলে তা হৃদরোগ এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে পারে। এটি রক্তচাপ এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা হ্রাস করে, যা প্রদাহ কমাতে এবং রক্ত প্রবাহ উন্নত করতে সহায়তা করে। তবে যাদের আগে থেকেই হৃদরোগ আছে তাদের রোজা শুরু করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ৫. মস্তিষ্কের কার্যকারিতা উন্নত করে রোজা রাখার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য স্বাস্থ্য উপকারিতার মধ্যে একটি হলো মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা এবং মস্তিষ্কের কার্যকারিতার উন্নতি। রমজান মাসে মস্তিষ্ক থেকে প্রাপ্ত নিউরোট্রপিক ফ্যাক্টর (BDNF) উৎপাদন বেশ বৃদ্ধি পায়। BDNF হলো একটি প্রোটিন যা মস্তিষ্কের কোষের বৃদ্ধি এবং বেঁচে থাকার জন্য সহায়তা করে। এটি স্মৃতিশক্তি, শেখা এবং মানসিক স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করে।

ইফতারে রাখুন সুস্বাদু চিকেন সালাদ
ইফতারে ভাজাপোড়া ছাড়া অনেকেরই চলে না। তবে একনাগারে ভাজাপোড়া খেতে খেতে একঘেয়েমি চলে আসে। তাই স্বাদে একটু ভিন্নতা আনতে খেতে পারেন সুস্বাদু ও স্বাস্থ্যকর চিকেন সালাদ। মজাদার এ খাবারটি আপনি ঘরে বসেই বানাতে পারবেন। রইলো রেসিপি- সালাদের জন্য চিকেন তৈরির উপকরণ- ১ কাপ হাড় ছাড়া মুরগির মাংস, ২ টেবিল চামচ ময়দা, ১ চা চামচ পেঁয়াজ বাটা, ১ চা চামচ গার্লিক পাউডার, হাফ চা চামচ মরিচ গুঁড়া, ১ চা চামচ গোল মরিচ গুঁড়া, ১ টেবিল চামচ টমেটো সস, স্বাদমতো লবণ। সালাদের জন্য যা লাগবে- শসা, গাজর, টমেটো, লেটুস কুচি এবং ভাঁজা মচমচে নুডলস, লেবুর রস, অল্প অলিভ ওয়েল। পদ্ধতি মাংসের সঙ্গে সব উপকরণ ভালোভাবে মিশিয়ে মেরিনেট হওয়ার জন্য ১৫ মিনিট রেখে দিন। এরপর চুলায় প্যান বসিয়ে হালকা তেল দিয়ে মেরিনেট করে রাখা মাংস ভেজে নিন। মাংস ভাজা হলে এবার শসা, গাজর, টমেটো, লেটুস কুচিতে সামান্য লবণ, ভাজা নুডলস, লেবুর রস আর সামান্য অলিভ ওয়েল দিয়ে মেখে নিন। ব্যস তৈরি হয়ে গেলে মজাদার চিকেন সালাদ। এবার আপনার পছন্দমতো পাত্রে পরিবেশন করুন সুস্বাদু চিকেন সালাদ।

গরমে পেট ভালো রাখার ৫ উপায়
শীতের পরে গ্রীষ্ম। দীর্ঘদিনের একঘেয়েমি কাটিয়ে চাঙা হওয়ার সময় এখন। ঝলমলে রোদ আর সুস্বাদু মৌসুমী ফলের উপস্থিতি মেলে এসময়। তবে তার সঙ্গে তাপপ্রবাহ, পানিশূন্যতা, পেট ফাঁপা, অ্যাসিডিটি এবং সংক্রমণের মতো হজমজনিত সমস্যার ঝুঁকিও বেড়ে যায়। একটি সুস্থ অন্ত্র সামগ্রিক সুস্থতার চাবিকাঠি এবং গ্রীষ্মকালে হজমের যত্ন নিলে তা অস্বস্তি এড়াতে কাজ করে। গরমের সময়ে পেট অর্থাৎ হজমশক্তি ভালো রাখার উপায় জেনে নিন- ১. শরীরকে স্মার্টভাবে হাইড্রেট করুন গরমে পানি আমাদের অন্ত্রের সবচেয়ে ভালো বন্ধু, তবে তা পান করতে হবে স্মার্টভাবে। সকালে হালকা গরম পানিতে চুমুক দিলে হজমশক্তি বৃদ্ধি পায়, অন্যদিকে ডাবের পানি এবং ডিটক্স পানীয় ইলেক্ট্রোলাইট ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। অত্যধিক ঠান্ডা পানীয় এড়িয়ে চলুন, কারণ তা হজমকে ধীর করে দিতে পারে এবং পেট ফাঁপার কারণ হতে পারে। এসময় পুদিনা এবং মৌরির মতো ভেষজ চা-ও সতেজ রাখতে পারে। ২. ভারী এবং ভাজা খাবার থেকে সাবধান থাকুন চর্বিযুক্ত, ভাজা এবং অতিরিক্ত মসলাদার খাবার অন্ত্রে জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করতে পারে, বিশেষ করে যখন তাপমাত্রা বেড়ে যায়। এসবের পরিবর্তে সালাদ, দই জাতীয় খাবার এবং গোটা শস্যের মতো হালকা এবং ঠান্ডা খাবার খান। অঙ্কুরিত, মসুর ডাল এবং হালকা রান্না করা শাক-সবজি হজমে সহজতর হয় এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ করে। ৩. মৌসুমী ফল এবং শাক-সবজি উপভোগ করুন গ্রীষ্ম বিভিন্ন ধরনের হাইড্রেটিং এবং ফাইবার সমৃদ্ধ ফল নিয়ে আসে যা প্রাকৃতিকভাবে অন্ত্রের স্বাস্থ্যকে উন্নত করে। তরমুজ, শসা, পেঁপে এবং আমে প্রচুর এনজাইম এবং ফাইবার থাকে যা হজমে সাহায্য করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করে। ঘরে তৈরি দই, বাটারমিল্কের মতো গাঁজানো খাবারে উপকারী প্রোবায়োটিক থাকে, যা অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়াকে শক্তিশালী করে এবং হজমশক্তি উন্নত করে। ৪. প্রাকৃতিক প্রিবায়োটিক এবং প্রোবায়োটিক খান অন্ত্র ভালো ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য বজায় রাখে। গ্রীষ্মকাল প্রিবায়োটিক এবং প্রোবায়োটিক উভয়ই খাওয়ার উপযুক্ত সময়। রসুন, পেঁয়াজ এবং কলার মতো প্রিবায়োটিক সমৃদ্ধ খাবার অন্ত্র-বান্ধব ব্যাকটেরিয়াকে পুষ্ট করে, অন্যদিকে ঘরে তৈরি দই, গাঁজানো আচার এবং লাচ্ছির মতো প্রোবায়োটিক উৎস স্বাস্থ্যকর জীবাণু প্রবেশ করায়, পেটফাঁপা এবং অ্যাসিডিটি কমায়। ৫. খালি পায়ে হাঁটুন ঘাস বা বালির উপর খালি পায়ে হাঁটা, যা গ্রাউন্ডিং নামেও পরিচিত, পেট ভালো রাখতে এই অভ্যাস মেনে চলতে পারেন। এটি প্রদাহ এবং চাপের মাত্রা কমিয়ে অন্ত্রের স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে সাহায্য করে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যে পৃথিবীর পৃষ্ঠের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ অন্ত্রের মাইক্রোবায়োমকে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করে, সামগ্রিক সুস্থতা বৃদ্ধি করে। এছাড়াও এই অভ্যাস হজম নিয়ন্ত্রণে রেখে প্রকৃতির সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের এটি একটি সহজ এবং আরামদায়ক উপায় হতে পারে।

সেহরি ও ইফতারে ডায়াবেটিস রোগীর করণীয়
ডায়াবেটিক রোগীদের কঠোর নিয়মকানুন মেনে খাবার ও ওষুধ খেতে হয়। কিন্তু রোজা থাকার কারণে নিয়মকানুনে পরিবর্তন হয়। তাই, রোজা রেখে খাবারের দীর্ঘ বিরতিতে ডায়াবেটিস রোগীরা এ সময় নিজেকে কীভাবে সুস্থ রাখবেন জানেন? রোজায় সবারই লাইফস্টাইলে একটি বড় পরিবর্তন আসে। এ পরিবর্তন কারও সমস্যা না হলেও রোগীরা বিশেষ করে ডায়াবেটিস রোগীরা অসুবিধায় পড়েন। তাই, ডায়াবেটিস রোগীদের এ সময় খাবার ও ওষুধের সমন্বয় করার বিকল্প উপায় নেই বলেই মনে করছেন চিকিৎসকরা।কারণ খাবার আর ওষুধ গ্রহণের সময় পরিবর্তন হওয়ায় রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমা বা বাড়ার আশঙ্কা থাকে। এ সমস্যা মোকাবিলা করতে রমজানের সময় ডায়াবেটিস রোগীদের যে বিষয়গুলো মেনে চলতে হবে তা হলো:যাদের সকালে নাস্তার আগে বা পরে ডায়াবেটিসের ওষুধ খেতে হয়, সেটি তারা ইফতারের সময় খাবেন। আর রাতের ওষুধ খাবেন সেহরির সময়। দুপুরের ওষুধ চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে সমন্বয় করে নিতে হবে।ডায়াবেটিস রোগীদের কিছুক্ষণ পর পর অল্প খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। কিন্তু রোজার সময় তাদের প্রায় ১৪-১৫ ঘণ্টা না খেয়ে থাকতে হয়। ফলে ভোরে ওষুধের মাত্রা একই রকম থাকলে বিকেলের দিকে রক্তে চিনির মাত্রা অনেক কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে, বিশেষ করে যারা ইনসুলিন গ্রহণ করেন, তাদের জন্য। এজন্য ভোরে ইনসুলিনের পরিমাণ অর্ধেকের কাছাকাছি গ্রহণের পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।ডায়াবেটিক রোগীদের নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। তবে রোজার সময় তাদের এই অভ্যাসে পরিবর্তন আনতে হবে। যেমন যাদের শারীরিক শ্রমের দরকার আছে কিন্তু ওজন কমানোর দরকার নেই, তারা তারাবির নামাজ পুরোটা পড়লে শারীরিক শ্রম হয়েছে বলে ধরে নেয়া যায়। কিন্তু যাদের ওজন কমানোর দরকার আছে, তাদের তারাবিহ নামাজের পর ২০ থেকে ৪০ মিনিট হাঁটতে হবে। তবে বিকেলে কোনোভাবেই শারীরিক পরিশ্রম করা যাবে না।ইফতারের সময় অধিক পরিমাণে মিষ্টি ও চর্বি জাতীয় খাবার গ্রহণ করবেন না। এ সময় পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি ও পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে। যেমন রঙিন ফলমূল, শাকসবজি, ডাল, টক দই ইত্যাদি। খেজুর খেলে মাত্র একটা বা দুইটি খেতে পারেন। এর বেশি নয়। এ সময় ভাজাপোড়া খাবার না খাওয়াই ভাল।রোজা রাখা অবস্থায় সুগার বেশি কমলে বা বেড়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। খুব বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে রোজা ভেঙে ফেলার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ ধর্মের বিধিবিধানে উল্লেখ রয়েছে, গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় রোজা না রাখতে পারলে তা পরবর্তী কোনো সময়ে রাখা যাবে।সূত্র: বিবিসি

ইফতারে যা যা খাবেন না
সারা দিন রোজা রাখার পর শরীরে শক্তি ফিরিয়ে আনার জন্য পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া অত্যন্ত জরুরি। তবে কিছু খাবার আছে যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এবং রোজার উদ্দেশ্যকেও ব্যাহত করতে পারে। তাই ইফতারে এসব খাবার এড়িয়ে চলাই ভালো। জেনে নিন ইফতারে কোন খাবারগুলো না খাওয়া উচিত- অতিরিক্ত তেলে ভাজা খাবার ইফতারে অনেকেই পেঁয়াজু, বেগুনি, চপ, সিঙারা জাতীয় খাবার খান। এ ধরনের খাবার অতিরিক্ত তেলে ভাজা হয়, যা হজমে সমস্যা তৈরি করে এবং ওজন বাড়াতে ভূমিকা রাখে। এছাড়া, এগুলো রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, যা হার্টের জন্য ক্ষতিকর। মিষ্টি ও কৃত্রিম শরবত ইফতারে অনেকেই চিনি বা কৃত্রিম রং মিশ্রিত শরবত খান। এ ধরনের শরবত রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে দেয় এবং পরে তা দ্রুত কমিয়ে আনে, যা ষ্বাস্থ্য জটিলতা তৈরি করে। এছাড়া, কৃত্রিম রং ও প্রিজারভেটিভও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। বরং প্রাকৃতিক উপাদান যেমন তোকমা, লেবু বা ফলের রস পান করা ভালো। প্রক্রিয়াজাত ও প্যাকেটজাত খাবার ইফতারে প্রক্রিয়াজাত খাবার যেমন চিপস, নুডলস, বা প্যাকেটজাত জুস এড়ানো উচিত। এগুলোতে প্রচুর পরিমাণে লবণ, চিনি এবং কৃত্রিম উপাদান থাকে, যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এগুলো খেলে পেট ভরা মনে হলেও আসলে শরীরে পুষ্টির ঘাটতি থেকে যায়। অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার ইফতারে চটপটি, নিমকি বা অন্যান্য লবণযুক্ত স্ন্যাকস খাওয়ার অভ্যাস অনেকেরই আছে। অতিরিক্ত লবণ শরীরে পানির ভারসাম্য নষ্ট করে এবং পানির তৃষ্ণা বাড়িয়ে দেয়। এছাড়া, এটি উচ্চ রক্তচাপের কারণ হতে পারে। ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় ইফতারে চা, কফি বা ক্যাফেইনযুক্ত কোনো পানীয় খাওয়া উচিত নয়। ক্যাফেইন শরীর থেকে পানি শুষে নেয়, যা রোজার সময় ডিহাইড্রেশনের কারণ হতে পারে। এছাড়া, এটি ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে, যা রমজান মাসে সুস্থ থাকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত মিষ্টি ও চর্বিযুক্ত খাবার ইফতারে জিলাপি, হালুয়া বা অন্যান্য মিষ্টি খাবার অনেকেই পছন্দ করেন। তবে এগুলো অতিরিক্ত চিনি ও চর্বিযুক্ত হওয়ায় স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এগুলো রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে দেয় এবং ওজন বৃদ্ধির কারণ হতে পারে। অতিরিক্ত ঠান্ডা পানীয় ইফতারে ঠান্ডা কোমল পানীয় বা আইসড ড্রিংকস পেটে গ্যাস তৈরি করে এবং হজমে সমস্যা সৃষ্টি করে। এছাড়া, এগুলোতে প্রচুর পরিমাণে চিনি থাকে। ইফতারের সময় স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়া উচিত, যা শরীরকে সুস্থ রাখবে এবং রোজার উদ্দেশ্যকেও সম্মান করবে। অতিরিক্ত তেলে ভাজা খাবার, মিষ্টি, লবণযুক্ত স্ন্যাকস এবং ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলুন। বরং ফলমূল, খেজুর, সবজি, ডাল এবং প্রাকৃতিক শরবতের মতো স্বাস্থ্যকর খাবার খান। এতে করে রমজান মাসে আপনি সুস্থ ও প্রাণবন্ত থাকবেন।

রোজা রাখলে শরীরে যা ঘটে
সিয়াম সাধনার মাস রমজান। সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা পুরো মাস আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য রোজা রাখেন, মশগুল থাকেন ইবাদতে। রোজা রাখা অবস্থায় খাদ্য, পানি, পানীয়, ধূমপান ও যৌন মিলন থেকে বিরত থাকার নিয়ম আছে ইসলামে। তবে শুধু ধর্মীয় রীতি অনুসারেই বরং রোজা রাখার বৈজ্ঞানিক অনেক সুফল আছে। রমজানে এক মাস রোজায় শরীরে অনেক শারীরবৃত্তীয়, জৈব রাসায়নিক, বিপাকীয় ও আধ্যাত্মিক পরিবর্তন ঘটে। আসুন জেনে নিন, রোজা রাখার ফলে শরীরে কি ঘটে। গবেষণায় দেখা গেছে, রমজানের প্রথম কয়েক দিনে রক্তে শর্করার মাত্রা ও রক্তচাপ উভয়ই কমে যায়। শরীর পরিষ্কার করার প্রক্রিয়া শুরু হয় ও প্রথম কয়েক দিন সবচেয়ে কঠিন। কারণ এ সময় সাধারণত মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব ও তীব্র ক্ষুধা লাগার সমস্যা দেখা দেয়। রমজানের প্রথম সপ্তাহের পর শরীর উপবাসের সময়সূচির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে শুরু করে ও পরিপাকতন্ত্র বিশ্রাম নিতে সক্ষম হয়। পাচনতন্ত্র শরীরের শ্বেত রক্তকণিকাগুলো আরও সক্রিয় করতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে শরীরকে আরও পরিষ্কার করে, নতুন কোষ গঠন করে এবং শক্তি জোগায়। এ পর্যায়ে অঙ্গগুলোও তাদের মেরামত প্রক্রিয়া শুরু করে। অর্ধেক রমজানের পর থেকে শরীরে শক্তির মাত্রা বাড়তে শুরু করে। এ সময় মন-মেজাজ ভালো থাকে ও মস্তিষ্কের কার্যকারিতাও বাড়তে শুরু করে। এ পর্যায়ে কোলন, লিভার, কিডনি, ফুসফুস ও ত্বকের টক্সিন দূর করে ডিটক্সিং করে। রমজানের শেষের ১০ দিনে শরীর রোজায় অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। ফলে আপনি আরও উদ্যমী হয়ে পড়বেন। উন্নত স্মৃতিশক্তি ও একাগ্রতাও থাকবে। এ সময় অঙ্গগুলো তাদের নিরাময় প্রক্রিয়া শেষ করে ও এক বার সব টক্সিন অপসারণ হয়ে গেলে, শরীর তার সর্বোচ্চ ক্ষমতায় কাজ করতে সক্ষম হয়। রমজানের রোজা লোহিত রক্তকণিকা (আরবিসি), শ্বেত রক্ত কণিকা (ডাব্লিউবিসি), প্লাটিলেট (পিএলটি) গণনা, উচ্চ ঘনত্বের লাইপোপ্রোটিন কোলেস্টেরল (এইচডিএল-সি) বাড়ায়। অন্যদিকে রক্তের কোলেস্টেরল, ট্রাইগ্লিসারাইডস, নিম্ন ঘনত্বের লিপোপ্রোটিন কোলেস্টেরল (এলডিএল-সি) কমায় ও লিপোপ্রোটিন কোলেস্টেরল (ভিএলডিএল-সি) ঘনত্বও কমায়। তাছাড়া এটি শরীরের ওজন, কোমরের পরিধি, বডি মাস ইনডেক্স, শরীরের চর্বি, রক্তের গ্লুকোজ, সিস্টোলিক, ডায়াস্টোলিক রক্তচাপ ও উদ্বেগের মাত্রা। দীর্ঘ একমাস রোজা রাখলে প্রদাহ, প্রো-ইনফ্লেমেটরি সাইটোকাইনস আইএল-১বি, আইএল-১বি, আইএল-৬, টিউমার নেক্রোসিস ফ্যাক্টর এ ও ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়। সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে মস্তিষ্ক, হার্ট, ফুসফুস, লিভার, কিডনি, হেমাটোলজিক, এন্ডোক্রাইন প্রোফাইল ও জ্ঞানীয় ফাংশনের উন্নতি ঘটে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, রমজানের রোজা রাখার কোনো বিরূপ প্রভাব নেই। রোজা রাখার মাধ্যমে বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি কমানো যায়, যা স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য একটি স্বাস্থ্যকর নন-ফার্মাকোলজিক্যাল উপায়। যদিও রমজানের রোজা সব সুস্থ ব্যক্তির জন্য নিরাপদ। তবে যাদের ডায়াবেটিস মেলিটাস, করোনারি আর্টারি ডিজিজ, কিডনি ও চোখের রোগের মতো বিভিন্ন অসুখ আছে; তাদের উচিত চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে তবেই রোজা রাখা।

ইফতারের পর রাতে যা খাবেন
সুস্থ ও ফিট থাকতে ইফতারের পর রাতের খাবার খেতে হবে খানিকটা সতর্ক হয়েই। কেননা ইফতারে ভরপেট খেয়ে রাতের খাবার না খেলে বিপদ, আবার খাবার খেলেও বিপদ! কেননা দীর্ঘ সময় খাবার বিরতির পর কয়েক ঘন্টার বিরতিতে আবার খাওয়া হঠাৎ ঠিক সামলাতে পারে না আমাদের শরীর। তাই ইফতারের পর রাতে কেমন খাবার খাবেন, সতর্ক হয়েই নিজ ও পরিবারের সদস্যদের জন্য ডায়েট তৈরি করতে হবে। মনে রাখবেন, যদি ইফতারে হালকা খাবার প্রাধান্য দেন তবে বেশি দেরী না করে রাত ১০ টার মধ্যে রাতের খাবার সেরে ফেলুন। এ সময় শরীরে প্রয়োজনীয় পুষ্টির চাহিদা পূরণ করতে ভাত, সবজি, ডাল, মাছ, মাংস প্রাধান্য দিন।আর যদি ইফতারেই ভারি খাবার প্রাধান্য দেন তবে রাতের খাবারে প্রাধান্য দিন হালকা খাবার। যেমন ভাত, সবজি, ডাল ছাড়া আর কিছুই নয়।ইফতারের খাবার অনুযায়ী রাতে ভারি কিংবা হালকা যে খাবারই প্রাধান্য দেন না কেন, মাথায় রাখুন সেসব খাবার যেগুলো দ্রুত হজম হয়।খাবার খাওয়ার পর রাতে কোনো অস্বস্তি যেন না হয় তার জন্য রাতের খাবারে সালাদের সঙ্গে রাখুন পুদিনা পাতা কুচি। অ্যাসিডিটি দূর করতে পানীয় হিসেবে খেতে পারেন জিরা পানি।রাতের খাবার শেষে একটি ছোট আকারের কলা খেতে পারেন। কলা পেটের গ্যাস দূর করতে পারে। সেই সঙ্গে এতে থাকা পটাশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম রাতে ভালো ঘুমের জন্যও কাজ করে।রাতের খাবার খাওয়ার পর দাঁড়িয়ে থাকা ভালো; কিন্তু কেউ যদি ২ মিনিট হালকা হাঁটেন, তবে তা আরও বেশি ভালো। এ অভ্যাস খাবার হজমে দ্রুত কাজ করে।মনে রাখবেন, ইফতারের পর রাতের খাবার খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘুমাতে যাবেন না। এতে শারীরিক জটিলতা তৈরি হয়। তাই রাতের খাবার খাওয়ার পর তিন ঘন্টা অপেক্ষা করুন। এসময় পরিবারের সঙ্গে সময় কাটান, নামাজ পড়ুন। তারপর ঘুমাতে যান।

রোজায় সারা দিন এনার্জি পেতে কী খাবেন?
রোজার সময় আমাদের দৈনন্দিন বাঁধাধরা নিয়মে বেশ খানিকটা পরিবর্তন চলে আসে। দিনের একটি বড় সময় না খেয়ে থাকার কারণে অনেকেরই রোজা রেখে ভীষণ দুর্বল লাগে। খাদ্য তালিকায় সঠিক খাবার না রাখার পাশাপাশি নিয়ম মেনে না চলার কারণে এমনটি হতে পারে। যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজের চিকিৎসক ও সহায় হেলথ-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ডা. তাসনিম জারা জানাচ্ছেন এ বিষয়ে। অনেকেই রোজা ভাঙেন খেজুর দিয়ে। এটি খুবই ভালো অভ্যাস। আরও বেশি পুষ্টি ও এনার্জি পেতে খেজুরের বিচি বের করে একটা কাঠবাদাম ঢুকিয়ে দিতে পারেন ভেতরে। বিশ্বের সবচেয়ে পুষ্টিকর খাবারগুলোর তালিকায় উপরের দিকেই আছে এই বাদাম। তবে এরপর অনেকেই চিনির শরবত বা জুস খান। এটা আবার স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়। এর পরিবর্তে পানি খেতে পারেন। চাইলে ডাবের পানি খেতে পারেন। এতে থাকা পটাশিয়াম, যা সারা দিনের ক্লান্তি নিমিষেই দূর করে দেবে। ইফতারে বিভিন্ন ধরনের ফল, যেমন- কলা, পেঁপে, আনারস, তরমুজ, পেয়ারা, কমলা, আপেল রাখতে পারেন। ডুবো তেলে ভাজা খাবার, যেমন- পেঁয়াজু, চপ ধরনের খাবার এড়িয়ে চললেই ভালো করবেন। এগুলোতে প্রচুর পরিমাণে ট্র্যান্সফ্যাট থাকে। এটি সবচেয়ে বিপজ্জনক ফ্যাট। এতে হৃদরোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। সারা দিন রোজা রেখে তাই এই ধরনের খাবার খেয়ে নিজের ক্ষতি ডেকে আনবেন না। জিলাপি বা বুন্দিয়ার মতো চিনি তেওয়া ও তেলে ভাজা খাবারও ইফতারে না রাখার চেষ্টা করুন। খেজুর, পানি ও ফল খেয়ে কিছু সময় বিরতি নিতে পারেন। এতে অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমবে। ইফতারে অতিরিক্ত খাবার খেলে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা বা ওজন বেড়ে যাওয়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে। কিছু সময় বিরতি নিয়ে সবজি, লাল চালের ভাত, লাল আটার রুটি, ডিম, মাছ-মাংসের মতো ভারী খাবার খেতে পারেন নিশ্চিন্তে। তবে ভাত বা রুটি খুব বেশি পরিমাণে খাবেন না। প্লেটের চার ভাগের একভাগ নেবেন ভাত। বাকি অংশ সবজি, ফল ও মাছ-মাংস দিয়ে পূর্ণ করুন। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ খাবার হচ্ছে পানি। ইফতার থেকে সাহরি পর্যন্ত আড়াই লিটার বা ১০ গ্লাস পানি খাবেন। পানির পাশাপাশি পানিজাতীয় খাবার, যেমন- তরমুজ, শসা বা টমেটো খেতে পারেন। সাহরিতে এমন খাবার বেছে নিতে হবে যেগুলো অনেকক্ষণ পর্যন্ত পেট ভরিয়ে রাখবে। ফাইবার বা আঁশজাতীয় খাবার বেশি খান সাহরিতে। চেষ্টা করুন সাদা চালের ভাতের বদলে লাল চালের ভাত খেতে। সাদা চালের ভাত দ্রুত হজম হয়ে যায়। লাল চালের ভাতে প্রচুর ফাইবার থাকে, তাই এটি অনেকক্ষণ পর্যন্ত এনার্জি দেবে আপনাকে। ভাতের সঙ্গে ঘন ডাল বা সেদ্ধ ডিম রাখতে পারেন। ভাত ছাড়া চিয়া সিডের শরবত বা চিয়া পুডিং খাওয়া যেতে পারে সাহরিতে। খেতে পারেন ওটসও। খেতে পারেন বিভিন্ন ধরনের বাদামও। বাদাম অনেক সময় পর্যন্ত পেটে থাকে।

সেহরিতে কোন খাবারগুলো এড়িয়ে চলবেন
রমজান মাসে পুষ্টিকর সেহরি সারাদিনের রোজার শক্তি জোগায়। তাই সেহরিতে কিছু খাবার এড়িয়ে চলা উচিত, যা রোজার সময় অস্বস্তি, পানিশূন্যতা বা শারীরিক দুর্বলতা সৃষ্টি করতে পারে। জেনে নিন কোন ধরনের খাবার সেহরিতে এড়িয়ে চলা জরুরি- ১. অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবারঅতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার যেমন চিপস, প্যাকেটজাত স্ন্যাকস, আচার বা প্রক্রিয়াজাত মাংস সেহরিতে এড়িয়ে চলা উচিত। অতিরিক্ত লবণ শরীরে পানির চাহিদা বাড়িয়ে তোলে, যা রোজার সময় পানিশূন্যতা সৃষ্টি করতে পারে। লবণ শরীর থেকে পানি শোষণ করে এবং প্রস্রাবের মাধ্যমে পানি বের করে দেয়, ফলে সারাদিন তৃষ্ণা অনুভূত হয়। তাই সেহরিতে কম লবণযুক্ত ও স্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নিন। ২. মিষ্টি ও চিনিযুক্ত খাবারমিষ্টি জাতীয় খাবার যেমন মিষ্টি, কেক, পেস্ট্রি বা চিনিযুক্ত পানীয় সেহরিতে এড়ানো উচিত। চিনি রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে দেয়, কিন্তু কিছুক্ষণ পরই তা দ্রুত কমিয়ে ফেলে। এর ফলে রোজার সময় দুর্বলতা, মাথাব্যথা বা ক্লান্তি অনুভূত হতে পারে। সেহরিতে প্রাকৃতিক মিষ্টি যেমন ফল বা মধু বেছে নেওয়া ভালো, যা ধীরে ধীরে শক্তি সরবরাহ করে। ৩. তেলে ভাজা ও ভারী খাবারতেলে ভাজা খাবার যেমন পেঁয়াজু, বেগুনি, পরোটা বা সমুচা সেহরিতে খঅবেন না। এই ধরনের খাবার হজম হতে বেশি সময় নেয় এবং পেটে অস্বস্তি সৃষ্টি করে। এছাড়া, তেলে ভাজা খাবার পাকস্থলীতে অ্যাসিডিটির সমস্যা তৈরি করতে পারে, যা রোজার সময় অস্বস্তি বাড়ায়। সেহরিতে হালকা ও সহজে হজম হয় এমন খাবার যেমন ওটস, ডাল, সবজি বা সেদ্ধ ডিম খাওয়া ভালো। ৪. ক্যাফেইনযুক্ত পানীয়চা, কফি বা এনার্জি ড্রিংকসে থাকা ক্যাফেইন শরীর থেকে পানি বের করে দেয় এবং পানিশূন্যতা সৃষ্টি করতে পারে। সেহরিতে ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় পান করলে সারাদিন তৃষ্ণা বেশি লাগে। এছাড়া, ক্যাফেইন ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে, যা রোজার সময় ক্লান্তি বাড়ায়। সেহরিতে পানি, দুধ বা ফলের রস পান করা ভালো। ৫. প্রক্রিয়াজাত ও ফাস্ট ফুডপ্রক্রিয়াজাত খাবার যেমন বার্গার, পিৎজা, হট ডগ বা নুডলস সেহরিতে না খাওয়া ভালো। এই ধরনের খাবারে প্রচুর পরিমাণে লবণ, চিনি ও অস্বাস্থ্যকর চর্বি থাকে, যা হজমে সমস্যা সৃষ্টি করে এবং শরীরে শক্তি কমিয়ে দেয়। এছাড়া, ফাস্ট ফুড খেলে রোজার সময় পেটে গ্যাস বা বদহজমের সমস্যা হতে পারে। ৬. অতিরিক্ত মসলাযুক্ত খাবারমসলাযুক্ত খাবার যেমন ঝাল মাংস, বিরিয়ানি উত্যাদি সেহরিতে এড়ানো উচিত। অতিরিক্ত মসলা পাকস্থলীতে জ্বালাপোড়া বা অ্যাসিডিটির সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। এছাড়া, মসলাযুক্ত খাবার তৃষ্ণা বাড়িয়ে দেয়। সেহরিতে হালকা মসলাযুক্ত ও সহজে হজম হয় এমন খাবার খাওয়া ভালো। ৭. দুগ্ধজাত পণ্যকিছু মানুষের জন্য দুধ বা দুগ্ধজাত পণ্য যেমন পনির, দই বা মাখন হজমে সমস্যা সৃষ্টি করে। এই ধরনের খাবার পেটে গ্যাস বা বদহজমের কারণ হতে পারে। যাদের ল্যাক্টোজ ইনটলারেন্স আছে, তাদের সেহরিতে দুগ্ধজাত পণ্য এড়িয়ে চলা উচিত। পরিবর্তে নারকেল দুধ বা সয়া দুধ বেছে নেওয়া যেতে পারে। ৮. অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেটযুক্ত খাবারসাদা ভাত, পাস্তা বা সাদা রুটি জাতীয় খাবারে প্রচুর পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট থাকে, যা রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে দেয়। তবে এই শর্করা দ্রুত ভেঙে যায় এবং শক্তি কমিয়ে ফেলে। এর ফলে রোজার সময় দুর্বলতা বা ক্লান্তি অনুভূত হতে পারে। সেহরিতে জটিল কার্বোহাইড্রেট যেমন ওটস, বাদামী চাল বা গমের রুটি খাওয়া ভালো, যা ধীরে ধীরে শক্তি সরবরাহ করে। ৯. অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবারঘি, মাখন বা তেল-চর্বিযুক্ত খাবার সেহরিতে এড়ানো উচিত। অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে, যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। সেহরিতে স্বাস্থ্যকর চর্বি বেছে নেওয়া ভালো। ১০. কৃত্রিম মিষ্টি ও প্রিজারভেটিভযুক্ত খাবারকৃত্রিম মিষ্টি বা প্রিজারভেটিভযুক্ত খাবার যেমন কোল্ড ড্রিংকস, জেলি বা প্যাকেটজাত জুস সেহরিতে এড়ানো উচিত। এই ধরনের খাবারে থাকা কেমিক্যাল শরীরের জন্য ক্ষতিকর এবং হজমে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। এছাড়া, কৃত্রিম মিষ্টি রক্তে শর্করার মাত্রা অনিয়মিত করে দিতে পারে। সেহরি খাওয়ার সময় সচেতনভাবে খাবার নির্বাচন করা জরুরি। অতিরিক্ত লবণ, চিনি, তেল বা মসলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে চললে রোজার সময় শারীরিক অস্বস্তি কম হবে এবং সারাদিন শক্তি ও সতেজতা বজায় থাকবে। সেহরিতে পুষ্টিকর, হালকা ও সহজে হজম হয় এমন খাবার খাওয়া উচিত, যা শরীরকে সুস্থ ও সক্রিয় রাখবে।

রমজানে সেহরি-ইফতারে যেভাবে বানাবেন সুস্বাদু হালিম
আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। আসছে পবিত্র মাহে রমজান। শুরু হয়েছে রোজার প্রস্তুতিও। রোজার সঙ্গে হালিমকে সঙ্গী করেননি এমন লোক খুবই কম আছে। হাই প্রোটিন সমৃদ্ধ এই খাবারকে সেহরি-ইফতারে সঙ্গী করতে আসুন জেনে নিই, সুস্বাদু হালিম তৈরির একটি সহজ রেসিপি। হালিম মধ্যপ্রাচ্যের খাবার হলেও বর্তমানে এটি দেশ, কাল, ধর্মের বেড়া টপকে পরিণত হয়েছে একটি সর্বজনীন খাবারে। ইতিহাস থেকে জানা যায়, এই খাবারটিকে ভারতীয় উপমহাদেশে জনপ্রিয় করে তুলেছিলেন ইয়েমেনের একটি রাজ্যের রাজা সুলতান সইফ নওয়াজ জঙ্গ। তিনি হায়দরাবাদের নিজামের দরবারে খুব শ্রদ্ধেয় অতিথি ছিলেন। তিনি যখন নৈশভোজ দিতেন, তাতে তিনি আরবি খানা হিসেবে এই হালিম রাখতেন।ভারতে খাবারটি জনপ্রিয় হলে ক্রমেই তা বাংলাদেশেও জনপ্রিয় হতে থাকে। এখন আর শুধু মুসলিমদের নয়, সব ধর্মের মানুষেরই প্রিয় খাবারের তালিকায় এটি স্থান পেয়েছে এর অতুলনীয় স্বাদের গুণে।ইফতারে সেরা হালিম তৈরির সহজ রেসিপি:যা যা লাগবে: বাড়িতে এই খাবারটি তৈরি করতে প্রয়োজন হবে খাসির মাংস ৫০০ গ্রাম, ছোলার ডাল ১৫০ গ্রাম, মুগ ডাল ১৫০ গ্রাম, মসুর ডাল ১৫০ গ্রাম, পোলাও চাল ১০০ গ্রাম, জিরা গুঁড়ো ১ টেবিল চামচ, ধনে গুঁড়ো ১ টেবিল চামচ, হলুদ গুঁড়ো ২ টেবিল চামচ, মরিচ গুঁড়ো ১ টেবিল চামচ, সাদা গোলমরিচ গুঁড়ো ১ চা-চামচ, গরম মসলা গুঁড়ো ১ টেবিল চামচ, তেল ২ কাপ, ঘি ১ চা-চামচ, পেঁয়াজ কুচি ৩ কাপ, কাঁচা মরিচ ৪টি, পুদিনা পাতা ২ টেবিল চামচ, আদা বাটা ২ চা-চামচ, রসুন ২ চা-চামচ, টক দই ১/২ কাপ, লবণ পরিমাণমতো।যেভাবে রান্না করবেন: প্রথমে একটি সসপ্যানে সব ডাল ও চাল দিয়ে ১টি কাঁচা মরিচ, হলুদ আর লবণ দিয়ে পরিমাণমতো পানি দিয়ে চুলায় বসিয়ে দিন সিদ্ধ করার জন্য। এবার অন্য আরেকটি চুলায় বসিয়ে দিন আরেকটি সসপ্যান। তাতে তেল ও ঘি দিয়ে পেঁয়াজ কুচি দিয়ে হালকা বাদামি রঙের করে নিন। এবার তাতে মাংস দিয়ে রান্না করুন পাঁচ মিনিটের মতো। এবার একে একে সব উপকরণ দিয়ে মাংসগুলো কষিয়ে নিন আধা ঘণ্টার মতো। মাংস রান্না হয়ে গেলে চেক করুন মাংসের তেল উপরে উঠে আসে কি না। এবার রান্না করা মাংসের সবটুকু ঢেলে দিন ডালের সসপ্যানটিতে। মিডিয়াম আঁচে সবকিছু মিশিয়ে নিন ১০ মিনিটের মতো। বেরেস্তা, লেবু, ধনেপাতা ও পুদিনাপাতা ওপর দিয়ে ছড়িয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন মজাদার হালিম।

ইতিহাসে ২৩ ফেব্রুয়ারি আলোচিত কী ঘটেছিল
পৃথিবীব্যাপী প্রতিদিন ঘটছে নানা ঘটনা। সেসব ঘটনাই ইতিহাসে স্থান পায়, যা কিছু ভালো, যা কিছু প্রথম, যা কিছু মানবসভ্যতার অভিশাপ-আশীর্বাদ। আজ রোববার (২৩ ফেব্রুয়ারি)। চলুন এক নজরে দেখে নেয়া যাক আজকের দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা, বিশিষ্টজনের জন্ম-মৃত্যুদিনসহ গুরুত্বপূর্ণ আরও কিছু বিষয়। ঘটনাবলি:৫৩২ - বাইজেন্টাইন সম্রাট প্রথম জাস্টিনিয়ান কনস্টান্টিনোপলে নতুন অর্থোডক্স খ্রিস্টান ব্যাসিলিকা হিসেবে হাজিয়া সোফিয়া নির্মাণের নির্দেশ দেন।৬২৪ - ঐতিহাসিক খন্দকের যুদ্ধ সংঘটিত হয়।১৭৬৮ - হায়দ্রাবাদের নিজামের সঙ্গে চুক্তি করে কর্নেল স্মিথে ব্রিটিশ আধিপত্য বিস্তার করে।১৭৭৮ - আমেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধ: কন্টিনেন্টাল আর্মিকে প্রশিক্ষণে সহায়তা করার জন্য ব্যারন ভন স্টুবেন পেনসিলভানিয়ার ভেলি ফোর্জে পৌঁছান।১৭৯৯ - ফরাসি সেনা কমান্ডার নেপোলিয়ান বোনাপার্ট মিশর দখলের পর শ্যামে হামলা চালান।১৮৩১ - সাপ্তাহিক ‘সংবাদ সুধাকর’ প্রকাশ হয়।১৮৫৪ - অরেঞ্জ ফ্রি স্টেটের স্বাধীনতা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়।১৮৭১ - লন্ডনে ইউরোপীয় সরকারগুলোর প্রতিনিধিদের একটি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।১৮৮৬ - বিশিষ্ট রসায়নবিদ চার্লস মার্টিন হল মূল্যবান অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদনের সুত্র আবিষ্কার করেন।১৮৮৭ - ফ্রেঞ্চ রিভিয়েরায় ভূমিকম্পের ফলে প্রায় ২ হাজার মানুষ প্রাণ হারান।১৮৯৮ - একটি খোলা চিঠি লেখার দায়ে ফ্রান্সে এমিল জোলাকে কারাবাস দেয়া হয়।১৯১৭ - রাশিয়ার পিটার্সবার্গে প্রথম আন্দোলনের মাধ্যমে ফেব্রুয়ারি বিদ্রোহের সূত্রপাত হয়।১৯১৮ - সোভিয়েত লাল ফৌজ প্রতিষ্ঠিত হয়।১৯১৩ - মেক্সিকোর পদচ্যুত প্রেসিডেন্ট ফ্রান্সিসকো মাদেরো গুলিতে নিহত হন।১৯১৯ - বেনিতো মুসোলিনি ইতালিতে ফ্যাসিবাদী দল গঠন করেন।১৯৪২ - দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ: জাপানি সাবমেরিন ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা বারবারার কাছে উপকূলে গোলাবর্ষণ করে।১৯৪৪ - সোভিয়েত ইউনিয়ন চেচেন ও ইংগুশদেরকে উত্তর ককেসাস থেকে মধ্য এশিয়ায় জোরপূর্বক স্থানান্তর শুরু করে।১৯৪৭ - দি ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর স্ট্যানডারডাইজেশন (আইএসও) তথা আন্তর্জাতিক মান সংস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়।১৯৪৮ - ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত পাকিস্তান গণপরিষদে উর্দু ও ইংরেজির পাশাপাশি বাংলা ব্যবহারের দাবি জানান। তার দাবি অগ্রাহ্য হয়। এমনকি গণপরিষদের অনেক বাঙালি সদস্যও তার বিরোধিতা করেন।১৯৫২ - ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে ঢাকা মেডিকেল কলেজ প্রাঙ্গণে প্রথম শহীদ মিনার নির্মাণ শুরু করে রাতের মধ্যে তা সম্পন্ন।১৯৬৬ - সিরিয়ায় বাথ পার্টির সদস্য সালাহ জাদিদ অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেন। এর ফলে জেনারেল আমিন আল-হাফিজের নেতৃত্বাধীন পূর্বের বাথপন্থি সরকার অপসারিত হয়।১৯৬৯ - সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ শেখ মুজিবুর রহমানকে বঙ্গবন্ধু উপাধিতে ভূষিত করে। গণঅভ্যুত্থানের মুখে প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান পদত্যাগে বাধ্য হন।১৯৯১ - উপসাগরীয় যুদ্ধ: স্থল সেনারা সৌদি আরবের সীমানা অতিক্রম করে ইরাকে প্রবেশ করে ফলে যুদ্ধের স্থল পর্যায় শুরু হয়।১৯৯৭ - স্কটল্যান্ডের ইডেনবার্গের রোর্সালন ইনস্টিটিউটের গবেষকরা সর্বপ্রথম পূর্ণাঙ্গ ক্লোন ভেড়া ডলির জন্মের কথা প্রকাশ করেন।১৯৯৯ - কুর্দি বিদ্রোহী নেতা আবদুল্লাহ ওজালান আঙ্কারায় রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে অভিযুক্ত হন।জন্ম:১৪১৭ - পোপ দ্বিতীয় পল।১৪৪৩ - ম্যাথিয়াস কোরভিনাস, হাঙ্গেরীয় রাজা।১৬৩৩ - ইংরেজ সেনা ও রাজনীতিক স্যামুয়েল পেপয়স।১৬৮৫ - জার্মান বংশোদ্ভূত ইংরেজ অর্গানবাদক ও সুরকার জর্জ ফ্রিডেরিক হান্ডেল।১৭২৩ - রিচার্ড প্রাইস, ওয়েলশ-ইংরেজ মন্ত্রী ও দার্শনিক।১৮৪০ - কালীপ্রসন্ন সিংহ, বাঙালি সাহিত্যিক, মহাকাব্য মহাভারতের বাংলায় অনুবাদক। কার্ল মেনগের, অস্ট্রীয় অর্থনীতিবিদ ও শিক্ষাবিদ।১৮৫০ - সিজার রিটজ, সুইস ব্যবসায়ী।১৮৬৮ - মার্কিন সমাজবিজ্ঞানী, ইতিহাসবিদ ও সমাজসেবী ডব্লিউ. ই. বি. ডু বইস।১৮৭৪ - এস্তোনিয়ান আইনজীবী, রাজনীতিবিদ ও দেশটির ১ম প্রেসিডেন্ট কনস্টানটিন পাটস।১৮৮৩ - জার্মানি সুইস মনোবিজ্ঞানী ও দার্শনিক কার্ল জাস্পেরস।১৮৮৯ - ভিক্টর ফ্লেমিং, মার্কিন পরিচালক।১৮৯৭ - রাধারমণ মিত্র মিরাট, ষড়যন্ত্র মামলায় অভিযুক্ত ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের এক বিপ্লবী ও সাহিত্য একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত বাঙালি সাহিত্যিক।১৮৯৯ - এরিক কাস্টনার, জার্মান লেখক ও কবি।১৯১৩ - প্রতুল চন্দ্র সরকার, পি সি সরকার নামে সুপরিচিত ভারতের প্রখ্যাত জাদুকর।১৯২৪ - নোবেল পুরস্কার বিজয়ী দক্ষিণ আফ্রিকান বংশোদ্ভূত মার্কিন পদার্থবিদ অ্যালান ম্যাকলিয়ড করমাক।১৯৪০ - পিটার ফন্ডা, মার্কিন অভিনেতা।১৯৪৮ - ইংরেজ পরিচালক ও প্রযোজক বিল আলেকজান্ডার।১৯৫৪ - ইউক্রেনীয় রাজনীতিবিদ ও ৩য় প্রেসিডেন্ট ভিক্টর য়ুশ্চেনকো।১৯৫৯ - ক্লেটন এন্ডারসন, মার্কিন প্রকৌশলী ও জ্যোতির্বিজ্ঞানী।১৯৬০ - অ্যালেন গ্রিফিন, অস্ট্রেলীয় রাজনীতিবিদ।১৯৬৫ - মার্কিন ব্যবসায়ী ও ডেল প্রতিষ্ঠিত মাইকেল সল ডেল।১৯৭৪ - দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটার হার্শেল গিবস।১৯৮১ - ইংরেজ ফুটবলার গ্যারেথ ব্যারি।১৯৮৩ - এমিলি ব্লান্ট, মার্কিন ইংরেজ অভিনেত্রী ও গায়িকা।১৯৯২ - ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার সাসেমিরো।১৯৯৪ - ডাকোটা ফ্যানিং, মার্কিন অভিনেত্রী।মৃত্যু:৬৬৫ - আবু মুসা আশরায়ী (র.), বিশিষ্ট সাহাবি।৭১৫ - প্রথম আল-ওয়ালিদ, উমাইয়া খলিফা।১৪৪৭ - পোপ চতুর্থ ইউজেন।১৭৬৬ - পোলিশ রাজা স্টানিস্লাও লেসযচয্য়ন্সকি।১৭৯২ - ইংরেজ চিত্রশিল্পী জশুয়া রেনল্ডস।১৮২১ - ইংরেজ কবি জন কিটস।১৮৪৮ - জন কুইন্সি এডাম্স, যুক্তরাষ্ট্রের ষষ্ঠ প্রেসিডেন্ট।১৮৫৫ - কার্ল ফ্রিড্রিশ গাউস, জার্মান গণিতবিদ এবং বিজ্ঞানী।১৯০৪- মহেন্দ্রলাল সরকার, ভারতীয় হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক, সমাজ সংস্কারক ও ইণ্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন অব কাল্টিভেশন অব সাইন্সের প্রতিষ্ঠাতা।১৯৩৪ - অ্যাডওয়ার্ড ইলগার, ইংরেজ সুরকার ও শিক্ষাবিদ।১৯৪৫ - আলেক্সেই নিকলাইয়েভিচ তল্স্তোয়, সোভিয়েত রুশ লেখক।১৯৪৭ - হাকিম হাবিবুর রহমান, বাংলার বিশিষ্ট চিকিৎসক, লেখক, রাজনীতিবিদ।১৯৫৫ - ফরাসি কবি, লেখক ও নাট্যকার পল ক্লাউডেল।১৯৬২ - সুনয়নী দেবী, স্বশিক্ষিত খ্যাতিমান ভারতীয় চিত্রশিল্পী।১৯৬৫ - ইংরেজ কমিক অভিনেতা, লেখক ও চলচ্চিত্র পরিচালক স্ট্যান লরেল।১৯৬৯ - মধুবালা, ভারতীয় অভিনেত্রী।১৯৭৩ - নোবেল পুরস্কার বিজয়ী মার্কিন চিকিৎসক ডিকিনসন ডাব্লিউ রিচার্ডস।১৯৭৬ - নোবেলশান্তি পুরস্কার বিজয়ী রানে কাস্যাঁ।১৯৯৬ - পল সাগপাক, এস্তোনীয় ভাষাবিদ।১৯৯৮ - রমন লাম্বা, ভারতীয় ক্রিকেটার।২০০১ - রবার্ট এনরিকো, ফরাসি পরিচালক ও চিত্রনাট্যলেখক।২০০৮ - স্লোভেনীয় অর্থনীতিবিদ, রাজনীতিবিদ ও ২য় প্রেসিডেন্ট জানেয ডরনোভসেক।২০১৫ - রানা ভগবানদাস, পাকিস্তানি আইনজীবী ও বিচারক, দেশটির প্রধান বিচারপতি।

শনিবার কী আছে ভাগ্যে, জেনে নিন রাশিফলে
প্রতিটি রাশির নিজস্ব স্বভাব ও গুণ-ধর্ম থাকে। তাই, প্রতিদিন গ্রহের স্থিতি অনুসারে তাদের সঙ্গে যুক্ত জাতকের জীবনে নানা ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে। এ কারণেই প্রত্যেক রাশির রাশিফল আলাদা-আলাদা হয়। শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) ভাগ্যরেখা অনুযায়ী আপনার আজকের দিনটি কেমন কাটতে পারে? ব্যক্তি, পারিবারিক ও কর্মক্ষেত্র সম্পর্কে কি বলছে জ্যোতিষশাস্ত্র? এই বিষয়গুলো সম্পর্কে যারা আগাম কিছুটা ধারণা নিয়ে রাখতে চান, তারা একবার পড়ে নিতে পারেন আজকের রাশিফল।মেষ: এই রাশির জাতক-জাতিকারা আজ কঠিন পরিশ্রমের কারণে কিছু কাজ বাতিল করতে পারেন। ব্যবসায়িক কারণে দূরের যাত্রা করতে হতে পারে। ব্যবসায়ীদের টাকা কোথাও আটকে থাকলে তা ফিরে পেতে পারেন। কাউকে মনের কোনো কথা বলার আগে একটু ভেবে নিন। উচ্চাকাঙ্খাপূরণের যোগ রয়েছে।বৃষ: পারিবারিক দায়িত্ব বাড়তে পারে বৃষ রাশির জাতক-জাতিকাদের। মনে দুশ্চিন্তা থাকবে। তবে সহজে নিজের দায়িত্ব পূরণ করতে পারবেন। বাড়ির বয়স্কদের পরামর্শ পাবেন। চাকরিজীবীরা নতুন কাজ পেতে পারেন। প্রেম জীবনে সারপ্রাইজ পেতে পারেন।মিথুন: বন্ধু ও আত্মীয়দের সঙ্গে সাক্ষাতের ফলে আর্থিক লাভ হবে। আজ ভাগ্যের ওপর কোনো কাজ ছেড়ে দেবেন না। জীবনসঙ্গীর সঙ্গে ঝামলায় জড়াতে পারেন। সন্ধ্যাবেলা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কোনো শুভ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করার সম্ভাবনা রয়েছে।কর্কট: পারিবারিক বিষয়ে ভেবেচিন্তে কথা বলুন। পরিবারের ভাই বোনের কারণে চিন্তিত হয়ে পড়তে পারেন। কর্মক্ষেত্র থেকে শুরু করে বাড়িতে সবার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করুন। অতীতে অর্থ লগ্নি করে থাকলে আজ তার ভালো মুনাফা পেতে পারেন। ছোট ব্যবসায়ীদের নগদ অর্থের অভাব দেখা দিতে পারে।সিংহ: কোনো কাজের জন্য অন্যের ওপর নির্ভরশীল থাকবেন না। সময় থাকতেই সব কাজ শেষ করুন। মায়ের স্বাস্থ্য দুর্বল হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করুন। শত্রুরা আপনার লোকসান করতে পারেন। তাদের থেকে সতর্ক থাকুন।কন্যা: নতুন ব্যবসায় বা রোজগারে পরিবর্তনের পরিকল্পনা করতে পারেন। এর জন্য সময় অনুকূল। ব্যবসায়ীদের আংশিক লাভের সম্ভাবনা রয়েছে। ব্যস্ততা এবং পরিশ্রমের ফল পাবেন আজ। মানসিক অবসাদ হতে পারে। যার ফলে আপনার বাণী কঠোর হবে। তুলা: পরিবারের সদস্যের সঙ্গে কোনো তর্ক হলে, চুপ থাকাই শ্রেয়। বাবার পরামর্শে যে কাজ করবেন, তাতে সাফল্য লাভ সম্ভব। বন্ধুদের থেকে সতর্ক থাকুন। তাদের প্রতারণার শিকার হতে পারেন। ছাত্রছাত্রীরা পড়াশোনায় কিছু সমস্যার সম্মুখীন হবেন। নিজের দুর্বলতা ও ত্রুটিগুলো থেকে বেরিয়ে আসতে চেষ্টা করুন।বৃশ্চিক: অফিস ও ব্যবসায়িক কারণে অবসাদের শিকার হতে পারেন। এর ফলে পারিবারিক পরিবেশে অশান্তি তৈরি হতে পারে। পরিবারের বড় সদস্যদের পরামর্শে সন্ধ্যার মধ্যে কোনো সমস্যার সমাধান করতে পারবেন। ব্যবসায়ে ঝুঁকি নিলে লাভান্বিত হবেন।ধনু: কর্মক্ষেত্রে সহকর্মীর সঙ্গে তর্ক হলে তাতে জড়াবেন না। নিজের কাজ পুরো করতে কোনো তাড়াহুড়ো করবেন না। তা না-হলে লোকসান হতে পারে। সাফল্য পেতে আত্মবিশ্বাস বাড়ান। পারিবারিক শান্তি বজায় থাকবে আজ।মকর: ব্যবসায়ে অন্যের তুলনায় অধিক মুনাফা হবে। চাকরিজীবীরা অন্য কোনো ব্যবসা করতে চাইলে তা শুরু করতে পারেন। বন্ধুদের সঙ্গে হইহুল্লোড়ে সময় কাটাবেন। ধর্মীয় স্থানে যাত্রার পরিকল্পনা হতে পারে। মায়ের স্বাস্থ্যের যত্ন নিন। কুম্ভ: নতুন কাজের কারণে জীবনযাপনে পরিবর্তন করতে হতে পারে। চাকরিজীবীদের পদোন্নতি হতে পারে। তা দেখে শত্রুরা আপনার ওপর ক্ষুব্ধ হবেন। আপনার শত্রুরা আপনার কাজ ভেস্তে দেয়ার চেষ্টা করবেন। ব্যস্ততা সত্ত্বেও প্রেম জীবনের জন্য সময় বের করতে পারবেন।মীন: নতুন কোনো কাজে মনোযোগ দেয়ার শুভক্ষণ আজই। ব্যবসায়ে নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারেন। বিবাদে জড়াবেন না। কাজের ফাঁকে বিশ্রামের জন্য সময় বের করুন। কল্যাণকর ও প্রয়োজনীয় কাজে অর্থ ব্যয় বাড়বে। আবেগ বশে রাখুন।

যে চার রাশির মেয়েদের প্রতি ছেলেরা বেশি আকৃষ্ট হয়
প্রেম, সম্পর্ক, আকর্ষণ- এগুলি মানুষের জীবনের অপরিহার্য অংশ। তবে কখনো কখনো আমরা মনে করি, কিছু মানুষ অন্যদের থেকে বেশি আকর্ষণীয়। আকর্ষণ শুধুমাত্র রাশির উপর নির্ভর করে না, বরং ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব, আচরণ এবং শখ-আবেগের উপরও অনেক কিছু নির্ভর করে। তবে, জ্যোতিষশাস্ত্রের মাধ্যমে কিছু রাশির মেয়েরা তাদের প্রকৃতিগত গুণাবলীর জন্য ছেলেদের কাছে বেশি আকর্ষণীয় হয়ে ওঠেন। জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী, প্রতিটি রাশির মানুষের ব্যক্তিত্ব, অভ্যন্তরীণ গুণাবলি ও আচরণ আলাদা হয়। ৪ রাশির মেয়েরা তাদের ব্যক্তিত্বের কারণে ছেলেদের কাছে বেশি আকর্ষণীয় হয়ে ওঠেন। মিথুন: এই রাশির মেয়েরা খুব 'ভোকাল', কথা বলায় খুব পারদর্শী। তাদের কথা বলার ধরনে যে কেউ আকৃষ্ট হন। তাদের প্রকৃতি মধুর ও তারা একটু প্রেমময় হয়ে থাকেন। তারা খুব দৃঢ়প্রতিজ্ঞও হন। তারা যেটা করার সিদ্ধান্ত নেয়, সেটা করেই ছাড়েন। ধনু: এই রাশির মেয়েরা স্বভাবের দিক থেকে খুব ভালো হন। তাদেরও কথা বলার ভঙ্গি খুব আকর্ষণীয়। রূপের দিক থেকে তাদের একটা আলাদা আকর্ষণ সব সময়ে বজায় থাকে। তারা সব সময়ে হাসিখুশি থাকেন। ছেলেরা সাধারণত একবার দেখেই তাদের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়ে। বৃষ: রূপ বা মাধুর্য ছাপিয়ে বৃষ রাশির মেয়েদের ব্যক্তিত্ব বেশি আকর্ষণীয় হয়ে থাকে। তারা পোশাক-আশাকের প্রতি খুব যত্নশীল হন। তারা প্রচুর অর্থ ব্যয় করেন। তারা বুদ্ধিমান ও গুণীও হন। এই রাশির মেয়েরাও ছেলেদের দ্রুত আকর্ষণ করেন। মেষ: বলা হয়, এই রাশির মেয়েদের প্রতি ছেলেরা সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট হয়ে থাকে। জ্যোতিষ অনুযায়ী, মেষ রাশির মেয়েরা ভিড়ের মধ্যে থেকেও নিজেদের জন্য একটা আলাদা পরিচয় তৈরি করে নিতে পারেন। এ ক্ষেত্রে অনেক বিষয় কাজ করে। তবে সামগ্রিকভাবে এদের স্টাইল সবার থেকে আলাদা হয়। আলাদা করে রূপ, পোশাক বা বাচনভঙ্গিটা তাদের ক্ষেত্রে তাই বড় হয়ে ওঠে না। তবে তাদের কথা বলার ধরন অবশ্যই আলাদা হয়। মন জয় করে সবার।

২২ ফেব্রুয়ারি: ইতিহাসে এই দিনে যা ঘটেছিল
সময় গড়ায় তার নিজস্ব নিয়মে, সমৃদ্ধ হয় মানবসভ্যতা। বিভিন্ন ঘটনা-দুর্ঘটনা, মনীষী কিংবা সাধারণের জন্ম-মৃত্যুর মাধ্যমে ধীরে ধীরে তৈরি হয় ইতিহাস, উন্মোচিত হয় জগতের নতুন নতুন দিগন্ত। আজ শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) ২০২৫। বছরের পর বছর পেছনে ফিরে তাকালে ঠিক আজকের এই দিনে এমন অনেক ঘটনা, অনেক আলোচিত-সমালোচিত ব্যক্তির জন্ম-মৃত্যু জানতে পারি আমরা। ঘটনাবলি:১৬৩২ – গ্যালিলিও গ্যালিলির ডায়ালগ কনসার্নিং দ্য টু চিফ ওয়ার্ল্ড সিস্টেমস প্রকাশিত।১৮৪৭ – মেক্সিকান-আমেরিকান যুদ্ধ: বুয়েনা ভিস্তার যুদ্ধ – ৫ হাজার আমেরিকান সৈনিক ১৫ হাজার মেক্সিকানকে পরাজিত করে।১৮৫৩ – এলিয়ট সেমিনারি হিসেবে ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি ইন সেইন্ট লুইস প্রতিষ্ঠিত।১৮৫৫ – ফার্মার্স হাইস্কুল হিসেবে পেনসিলভানিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠিত।১৮৬২ – জেফারসন ডেভিস আনুষ্ঠানিকভাবে কনফেডারেট স্টেটস অফ আমেরিকার রাষ্ট্রপতি হন। এরআগে ১৮৬১ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি তিনি অন্তর্বর্তীকালীন রাষ্ট্রপতি হয়েছিলেন।১৯২৪ – প্রথমবার কোনো রাষ্ট্রপতি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি ক্যালভিন কুলিজ হোয়াইট হাউস থেকে রেডিওতে বক্তব্য রাখেন।১৯৪২ – দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ: জাপানিদের বিজয় অবশ্যম্ভাবী হওয়ায় রাষ্ট্রপতি ফ্রাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্ট জেনারেল ডগলাস ম্যাকআর্থারকে ফিলিপাইন ত্যাগের নির্দেশ দেন।১৯৫২ - ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্ররা শহীদ মিনার বানানোর সিদ্ধান্ত নেন।১৯৫৮ – মিশর ও সিরিয়া যুক্ত হয়ে সংযুক্ত আরব প্রজাতন্ত্র গঠন করে।১৯৭৪ – পাকিস্তানের লাহোরে ওআইসি সম্মেলন শুরু হয়। এখানে একযোগে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় পাকিস্তান, ইরান ও তুরস্ক।১৯৭৯ – সেন্ট লুসিয়া যুক্তরাজ্যের কাছ থেকে স্বাধীন হয়।২০০৬ - ইরাকের রাজধানী বাগদাদে উত্তরে সামারা শহরে অবস্থিত আহলে বাইতের দশম ইমাম হযরত হাদী ও একাদশ ইমাম হযরত হাসান আসকারীর পবিত্র মাজার শরিফে কয়েকটি শক্তিশালী বোমা বিস্ফোরণ ঘটে।২০১১ - নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টাচার্চে ৬.৩ মাত্রার ভূমিকম্পে কমপক্ষে ১৮৫ জন মৃত্যুবরণ করে। জন্ম:১০৪০ - রেশি, ফরাসি রেবাই ও লেখক।১৭৩২ - জর্জ ওয়াশিংটন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম রাষ্ট্রপতি।১৮০৬ - জোসেফ ক্রেমার, পোলিশ ইতিহাসবিদ ও দার্শনিক।১৮২৭ - ভূদেব মুখোপাধ্যায় বাঙালি শিক্ষাবিদ চিন্তাবিদ ও সাহিত্যিক।১৮৩৬ - মহেশচন্দ্র ন্যায়রত্ন ভারতের বাঙালি পণ্ডিত।১৮৪০ - অগাস্ট বেবেল, জার্মান তাত্ত্বিক ও রাজনীতিবিদ।১৮৪৯ - নিকোলাই ইয়াকোভলেভিচ সনিন, রুশ গণিতবিদ ও একাডেমিক।১৮৫৭ - বিশ্বব্যাপী স্কাউট আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা রবার্ট ব্যাডেন পাওয়েল লন্ডনের স্ট্যানহোকে জন্মগ্রহণ করেন।১৮৫৭ - হেনরিখ হার্টজ, জার্মান পদার্থবিজ্ঞানী।১৮৬৩ - চার্লস ম্যাকলিয়ান এন্ড্রুজ, আমেরিকান ইতিহাসবিদ, লেখক ও একাডেমিক।১৮৮৫ - যতীন্দ্রমোহন সেনগুপ্ত, ভারতের জাতীয়তাবাদী আইনজীবী।১৮৮৭ - মুকুন্দ দাস, বাঙালি চারণকবি।১৮৮৮ - ভারতে সাইকেল নির্মাণ ও বিকাশের অন্যতম পথিকৃৎ বাঙালি শিল্পপতি সুধীরকুমার সেন।১৮৯৮ - অতুল বসু, প্রখ্যাত বাঙালি চিত্রশিল্পী।১৯০০ - লুইস বুনুয়েল, স্পেনীয় চলচ্চিত্র পরিচালক ও সুরিয়ালিস্ট আন্দোলনের নেতা।১৯০৩ - শিবপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়, ভারতীয় বাঙালি ভূগোলবিদ ও ভারতীয় ভূগোলের জনক।১৯০৬ - হুমায়ুন কবির, লেখক রাজনীতিবিদ।১৯২২ - দীপালি নাগ, রাগপ্রধান গানের প্রথম মহিলা বাঙালি শিল্পী।১৯৪৩ - গাজী মাজহারুল আনোয়ার, বাংলাদেশের জনপ্রিয় সুরকার ও গীতিকার।১৯৫৫ - ফরিদুর রেজা সাগর, বাংলাদেশি শিশুসাহিত্যিক, চলচ্চিত্র অভিনেতা, প্রযোজক ও একুশে পদক বিজয়ী গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব।১৯৬২ - স্টিভ আরউইন, অস্ট্রেলীয় প্রকৃতিবাদী ও টিভি ব্যক্তিত্ত্ব।আরও পড়ুন: তুলসি পাতার এত গুণ!মৃত্যু:৫৫৬ - ম্যাক্সিমিয়ানাস, ইতালীয় বিশপ ও সন্ত।১৬২৭ - অলিভিয়ার ভ্যান নুর্ট, ডাচ অভিযাত্রী।১৮১৬ - অ্যাডাম ফার্গুসন, স্কটিশ ইতিহাসবিদ ও দার্শনিক।১৯০৩ - হুগো উলফ, অস্ট্রীয় সুরকার।১৯০৪ - লেসলি স্টিফেন, ইংরেজ লেখক ও সমালোচক।১৯৪৪ - কস্তুরবা গান্ধী, মহাত্মা গান্ধীর স্ত্রী।১৯৫৮ - আবুল কালাম আজাদ, ভারতীয় পণ্ডিত, স্বাধীনতা আন্দোলন কর্মী, রাজনীতিবিদ, ভারতের প্রথম শিক্ষামন্ত্রী।১৯৬৪ - ভেরিয়ার এলউইন, ব্রিটিশ বংশোদ্ভূত ভারতীয় নৃতত্ত্ববিদ, নৃতাত্ত্বিক এবং উপজাতীয় কর্মী।২০০৬ - আতওয়ার বাহজাত, ইরাকি সাংবাদিক।২০০৭ - ডেনিস জনসন, আমেরিকান বাস্কেটবল খেলোয়াড় ও কোচ।

শিশু খেতে না চাইলে কী করবেন?
‘বাচ্চা ঠিকমতো খাবার খায় না’- এমন অভিযোগ অনেক মা-বাবারই। এ নিয়ে দুশ্চিন্তার শেষ না থাকলেও শিশু কেন খেতে চায় না, তার কারণ খুঁজে বের করেন না অনেকেই। পুষ্টিকর খাবারের চেয়ে অস্বাস্থ্যকর খাবার খেয়েই শিশু তার পেট ভরিয়ে রাখতে পছন্দ করে। এ অবস্থায় মা-বাবার করণীয় কী? আয়ুর্বেদশাস্ত্রে খুঁজে পাওয়া যায় এ সমস্যার সমাধান। আসুন, তা জেনে নিই আজকের আয়োজনে। শুরু থেকেই শিশুর খাবারের ব্যাপারে আপনাকে একটি সঠিক পরিকল্পনা বা নিয়ম মেনে চলতে হবে। সন্তানকে দৈনিক পাঁচ বার খেতে দিতে হবে। এ খাবার কখনো আলাদা করে খাওয়াবেন না। আপনার সন্তানকে পরিবারের সব সদস্যের সঙ্গে বসে খাবার গ্রহণ করতে দিন। এটি আপনার শিশুর রুচি ও খাবার খাওয়ার আগ্রহ বাড়িয়ে দেবে।শিশুর খাবারে আগ্রহ বাড়িয়ে তুলতে খাওয়াতে পারেন বিশেষ কিছু খাবারও। আয়ুর্বেদশাস্ত্র অনুযায়ী এ খাবারগুলো হল-কুমড়ার বীজ: কুমড়ার বীজ ফেলে না দিয়ে তা শুকিয়ে সসপ্যানে ভেজে সন্তানকে খাওয়াতে পারেন। এ বীজ কোনো কিছু খাওয়ার প্রবল ইচ্ছা তৈরি করতে পারে। এ ছাড়া এ বীজ হজমপ্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে।গাজর: গাজরের উপকারিতা অসংখ্য। এটি ক্ষুধা বাড়ানোর প্রবণতার মুকুটে আরেকটি পালক যোগ করেছে। এটি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা অনেক পুরোনো কৌশল। খাবারের প্রয়োজনে প্রায়ই ক্ষুধা পুনরুদ্ধারের জন্য প্রায় ৩০ মিনিট আগে বাচ্চাকে গাজর খেতে দিন।আদা ও তুলসী: ক্ষুধা বৃদ্ধির সঙ্গে একাধিক অসুখ নিয়ন্ত্রণ করে আদা ও তুলসী। বাড়িয়ে তোলে রোগ প্রতিরোধ শক্তিও। তাই, সন্তানকে নিয়মিত আদার রস তুলসীর সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়াতে পারেন।তেঁতুল: অগ্নিমান্দ্য দূর করে ক্ষুধা বাড়ায় তেঁতুল। তাই শিশুর ডায়েটে তেঁতুল বা এর চাটনি রাখতে পারেন। আমলকী: আমলকীতে প্রচুর ভিটামিন সি আছে। প্রতিদিন খালি পেটে আমলকী খেলে খিদা বাড়ে। এর পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধক্ষমতাও জোরদার হয়। দারুচিনি: রান্নার কাজে ব্যবহৃত হলেও এ মসলা শিশুদের খিদে বাড়িয়ে তুলতে পারে। দারুচিনি পিষে এক গ্লাস দুধের সঙ্গে মিশিয়ে পান করতে দিন বাচ্চাকে। এতে দুধের স্বাদ ও শিশুর খিদে দুই-ই বাড়বে।লেবু: লেবু দ্রুত ক্ষুধা বাড়াতে পারে। তাই, আপনি আপনার সন্তানের জন্য লেবুপানি বা লেবুর রস তৈরি করতে পারেন। এ রস পান করার পর শিগগিরই বাচ্চার পাচক সিস্টেম সক্রিয় হওয়া শুরু হবে এবং সে খাবার চাইবে। দই: পাচকতন্ত্রকে ভালো করে উদ্দীপক করে তোলে দই। তাই, নিয়মিত শিশুর খাবারে রাখতে পারেন দই। এই দই ক্ষুধা বাড়িয়ে তোলার পাশাপাশি শিশুর শরীরে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি দূর করতে কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে। অষ্টচূর্ণম: এটি একধরনের অক্টা হার্বাল আয়ুর্বেদীয় গুঁড়ো, যা বেশ জনপ্রিয়। শিশুর ক্ষুধা বাড়িয়ে তুলতে ভাত ও ঘি দিয়ে এই গুঁড়ো মিশিয়ে শিশুকে খাওয়ানোর অভ্যাস করাতে পারেন।

বই দিয়ে বাড়িয়ে তুলুন ঘরের সৌন্দর্য
বইবিলাসী মন আর তা গুছিয়ে রাখার ঢং মানুষের রুচির বহিঃপ্রকাশ। বই শুধু মানুষের মনকে আলোকিত করে না, বাড়িয়ে তোলে ঘরের সৌন্দর্য ও অভিজাত্য। তাই ভাষার মাস ফেব্রুয়ারিতে প্রাণের বইমেলায় ডুব দিয়ে কিনে নিতে পারেন পছন্দের কিছু বই। অনেকে মনে করেন, বই কেনা মানেই কিছু টাকার অপচয়। আবার বাড়িতে বই রাখার বাড়তি ঝামলো তো আছেই। কি তাইতো? আপনার দৃষ্টিভঙ্গি যদি এমন হয় তবে জেনে রাখুন, বই দিয়েই কিন্তু ঘরের সৌন্দর্য দ্বিগুণ বাড়িয়ে তোলা সম্ভব।মনের মতো ঘর সাজাতে বাড়ির প্রতিটি রুমে কত কিছুই-না ব্যবহার করি আমরা। সাধারণত প্রতিটি বাড়িকেই সুন্দর করে সাজাতে আমরা ব্যবহার করি দৃষ্টিনন্দন লাইট, নানা ধরনের ফুল, আর্টিফিশিয়াল গাছ, পেইন্টিং আরও কত কী? কিন্তু বাড়ির এই ইন্টেরিয়র ডিজাইনের ক্ষেত্রে আপনি ব্যবহার করতে পারেন বইও।যারা বেশি বই পড়েন, তাদেরকে সবাই একটু আলাদাভাবে বিচার করে থাকেন। জ্ঞানী, গুণী, বুদ্ধিমানের তালিকায় তাদের নামই রাখা হয় প্রথম সারিতে। বইয়ের ধরন দেখেই বোঝা যায় ব্যক্তির মেধার দৌড় ও ব্যক্তিত্ব।তাই বাড়িকে বই দিয়ে সাজিয়ে ফেলুন। আর এর আগে মাথায় রাখুন ভালো ভালো বইয়ের নামের তালিকা। এ ক্ষেত্রে দেশি-বিদেশি লেখকদের লেখাকে প্রাধান্য দিতে পারেন।ঘর সাজাতে দেয়ালে বইকে তুলে ধরতে পারেন। এক্ষেত্রে বইগুলোকে খুলে দেয়ালে টাঙিয়ে দিন। পুরো দেয়ালে বই লাগানো হয়ে গেলে কালো রঙের মার্কার দিয়ে তাতে আঁকতে পারেন লাইন ড্র দিয়ে কোনো সুন্দর ছবি।বইয়ের প্রচলন ঠিক কখন হয়েছিল, সে সম্পর্কে একটা ধারণা পাওয়া যায় ইতিহাস থেকে। ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, ১২৫০ সালে মিসরে আর ১৪৫০ সালে মধ্যে ইউরোপের কয়েকটি স্থানে অক্ষর বসিয়ে বই ছাপানোর কাজ শুরু হয়েছিল। এশিয়ার এদিকটায় তখন গাছের বাকল, কলাপাতা বা তালপাতায় হস্তাক্ষরে পুথি লেখা হতো। তবে সমসাময়িক ১৪৫৫ সালে গুটেনবার্গ বাইবেলটিকেই প্রথম ছাপানো বইয়ের মর্যাদা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়।তাই দেশীয় সংস্কৃতি তুলে ধরে এমন কিছু বই বইয়ের আলমারিতে সাজিয়ে রাখতে পারেন। সাজানো বইয়ের যত্নে নিয়মিত বইয়ের ধুলাবালি পরিষ্কার করুন। র্যাকে রাখা বইয়ের ক্ষেত্রে কর্নারে রাখতে পারেন নেপথলিন আর নিমপাতা। এতে আপনার পছন্দের বইগুলো পোকার আক্রমণ থেকে রেহাই পাবে।মেধা আর আত্মার পরিশুদ্ধিতে বইয়ের কদর থাকলেও বর্তমানে ইন্টেরিয়র ডিজাইনেও বেড়েছে এর ব্যবহার। বইকে দৃষ্টিনন্দনভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারেন আপনার বেডরুমে বা ড্রয়িংরুমে। এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন দৃষ্টিনন্দন বইয়ের র্যাকের ব্যবহার ঘরের সৌন্দর্য বাড়িয়ে তুলতে পারে আরও কয়েক গুণ।

শবে বরাতের পাঁচ রকেমের হালুয়ার রেসিপি
শবে বরাত ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাত। এই রাতকে ‘নাজাতের রাত’ বা ‘মাগফিরাতের রাত’ও বলা হয়। এই রাতে মুসলিমরা ইবাদত-বন্দেগিতে মগ্ন থাকেন এবং আত্মীয়-স্বজন ও গরিব-দুঃখীদের মাঝে খাবার বিতরণ করেন। শবে বরাতের অন্যতম প্রধান খাবার হলো হালুয়া। এই বিশেষ দিনে বিভিন্ন ধরনের হালুয়া তৈরি করা হয় যেমন সুজি হালুয়া, গাজরের হালুয়া, চনার ডালের হালুয়া, লাউয়ের হালুয়া ও কদুর হালুয়াসহ নানা স্বাদের হালুয়া। আপনিও সহজেই বাড়িতে এসব সুস্বাদু হালুয়া তৈরি করতে পারেন। সুজির হালুয়া রেসিপি- যা যা লাগবে: সুজি ১ কাপ, চিনি ১ কাপ (স্বাদ অনুযায়ী কম-বেশি করা যাবে), পানি ২ কাপ, ঘি ৪ টেবিল চামচ, গুঁড়া দুধ ২ টেবিল চামচ (ঐচ্ছিক), এলাচ গুঁড়া ১/২ চা চামচ, কিসমিস ২ টেবিল চামচ, বাদাম কুচি ২ টেবিল চামচ। যেভাবে বানাবেন: একটি প্যানে ঘি গরম করে তাতে এলাচ দিয়ে সুজি ভাজুন। সুজি বাদামি হয়ে গেলে এতে চিনি ও গুঁড়া দুধ দিন। এরপর ধীরে ধীরে গরম পানি ঢেলে নাড়তে থাকুন। পানি শুকিয়ে এলে কিসমিস ও বাদাম কুচি দিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। ৫ মিনিট পর চুলা বন্ধ করে ঢেকে রাখুন। পরিবেশন করার সময় উপর থেকে ঘি ছড়িয়ে দিন। চনার ডালের হালুয়া রেসিপি: যা যা লাগবে: চনার ডাল ১ কাপ, চিনি ১ কাপ, ঘি ১/২ কাপ, দুধ ১ কাপ, এলাচ গুঁড়া ১/২ চা চামচ, কিসমিস ও বাদাম কুচি ২ টেবিল চামচ। যেভাবে বানাবেন: প্রথমে চনার ডাল ৪-৫ ঘণ্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। এরপর ভালোভাবে সিদ্ধ করে ব্লেন্ড করে নিন। প্যানে ঘি দিয়ে এলাচ ফোঁড়ন দিন এবং ব্লেন্ড করা ডাল দিয়ে নেড়ে ভাজতে থাকুন। ডাল ভাজা হলে এতে চিনি ও দুধ দিন। নাড়তে নাড়তে মিশ্রণটি ঘন হলে কিসমিস ও বাদাম দিন। ঘি থেকে আলাদা হলে বুঝবেন, হালুয়া হয়ে গেছে। গাজরের হালুয়া রেসিপি- যা যা লাগবে: গাজর কুচি ২ কাপ, চিনি ১ কাপ, ঘি ১/২ কাপ, দুধ ১ কাপ, কন্ডেন্সড মিল্ক ১/২ কাপ (ঐচ্ছিক), এলাচ গুঁড়া ১/২ চা চামচ, কাজু ও কিসমিস ২ টেবিল চামচ। যেভাবে বানাবেন: প্রথমে একটি প্যানে ঘি গরম করে গাজর কুচি দিয়ে নরম হওয়া পর্যন্ত ভাজুন। এরপর এতে দুধ দিয়ে অল্প আঁচে নাড়তে থাকুন। দুধ শুকিয়ে এলে চিনি ও কন্ডেন্সড মিল্ক দিয়ে নেড়ে দিন। মিশ্রণটি ঘন হয়ে এলে এলাচ গুঁড়া ও বাদাম কুচি দিন। ভালোভাবে মিশিয়ে পরিবেশন করুন। লাউয়ের হালুয়া রেসিপি- যা যা লাগবে: লাউ কুচি ২ কাপ, চিনি ১ কাপ, ঘি ১/২ কাপ, গুঁড়া দুধ ১/২ কাপ, এলাচ গুঁড়া ১/২ চা চামচ, কিসমিস ও বাদাম ২ টেবিল চামচ। যেভাবে বানাবেন: প্রথমে লাউ ভালোভাবে কুচি করে পানি চেপে বের করে ফেলুন। একটি প্যানে ঘি গরম করে এলাচ দিয়ে লাউ দিন। লাউ থেকে পানি বের হলে এতে চিনি ও গুঁড়া দুধ দিন। মিশ্রণটি ঘন হলে কিসমিস ও বাদাম দিন। পরিবেশন করার সময় উপর থেকে ঘি ছড়িয়ে দিন। কদুর হালুয়া রেসিপি- যা যা লাগবে: কদু কুচি ২ কাপ, চিনি ১ কাপ, ঘি ১/২ কাপ, নারকেল কুঁচি ১/২ কাপ, গুঁড়া দুধ ১/২ কাপ, এলাচ গুঁড়া ১/২ চা চামচ, বাদাম কুচি ২ টেবিল চামচ। যেভাবে বানাবেন: প্রথমে কদু ভালোভাবে কেটে কুচি করুন। একটি প্যানে ঘি গরম করে এলাচ দিন। কদু কুচি দিয়ে ভাজতে থাকুন যতক্ষণ না এটি নরম হয়। এরপর এতে চিনি ও নারকেল কুঁচি দিন। মিশ্রণটি ঘন হলে গুঁড়া দুধ ও বাদাম দিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। পরিবেশন করার সময় ঘি ছড়িয়ে দিন। শবে বরাতে নিজের পরিবারের জন্য এবং অন্যদের মাঝে ভাগ করে দেওয়ার জন্য এই মজাদার হালুয়াগুলো তৈরি করুন এবং সবার সঙ্গে এই বিশেষ রাতের আনন্দ ভাগ করে নিন।

ঘাড় ও গলা কালো হয়ে যাওয়ার পাঁচ কারণ, জেনে নিন সমাধান
ঘাড় ও গলায় কালো দাগ মূলত ওজন বেশির কারণে হয়। জিনগত কারণেও হতে পারে। ডায়াবেটিস, রক্তচাপ, পিসিওএস ও হাইপারথাইরয়েডিজম থাকলে এই প্রবণতা বেশি হয়। ঘাড় ও গলায় প্রখর রোদ পড়েও সানবার্ন হয়ে এ দাগ হতে পারে। বিভিন্ন ধাতুর মোটা চেইন পরলেও হতে পারে। জেনে নিন ঘাড় বা গলা কালো হয়ে যাওয়ার পাঁচ কারণ- অ্যাকানথোসিস নাইগ্রিক্যানস: এটি একটি ত্বকের অবস্থা যেখানে ঘাড়, বগল, কনুই বা শরীরের ভাঁজযুক্ত স্থানে ত্বক কালো ও মোটা হয়ে যায়। এটি সাধারণত ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, ডায়াবেটিস, হরমোনজনিত সমস্যা বা স্থূলতার কারণে হয়ে থাকে। অতিরিক্ত সূর্যের সংস্পর্শে থাকা: যারা নিয়মিত রোদে থাকেন, তাদের ত্বক অতিরিক্ত মেলানিন উৎপাদন করতে পারে, যা হাইপারপিগমেন্টেশনের কারণ হতে পারে। হরমোনজনিত পরিবর্তন: গর্ভাবস্থা, থাইরয়েড সমস্যাসহ বিভিন্ন হরমোনের ভারসাম্যহীনতার কারণে ত্বকে কালো দাগ পড়তে পারে। পরিচ্ছন্নতার অভাব: নিয়মিত ভালোভাবে পরিষ্কার না করলে ঘাড়ে ময়লা, মৃত ত্বক জমে গিয়ে ত্বক কালো দেখাতে পারে। কিছু ওষুধ বা স্কিন কন্ডিশন: কিছু জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল, স্টেরয়েড, ইনসুলিন ও অন্যান্য ওষুধ ত্বকের রঙ পরিবর্তন করতে পারে। এছাড়া, ফাঙ্গাল ইনফেকশন বা এলার্জিও এর জন্য দায়ী হতে পারে। সমাধান: প্রতিদিন ভালোভাবে ঘাড় পরিষ্কার করুন; ময়েশ্চারাইজার ও সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন; স্বাস্থ্যকর খাবার খান এবং পর্যাপ্ত পানি পান করুন; যদি ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বা হরমোনজনিত সমস্যা থাকে, তবে ডাক্তারের পরামর্শ নিন; ঘরোয়া প্রতিকার যেমন দুধ, বেসন, লেবুর রস, অ্যালোভেরা ইত্যাদি ব্যবহার করতে পারেন। আপনার যদি দীর্ঘ দিন ধরে এই সমস্যা থাকে, তবে অবশ্যই একজন চর্ম বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেয়া ভাল।