
ড. ইউনূসকে ৫ বছর প্রধানমন্ত্রী পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা আজীবন থাকবে : সারজিস আলম
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে পাঁচ বছরের জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা আজীবন থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম। শনিবার (২৯ মার্চ) দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন। পোস্টে সারজিস আলম লেখেন, ‘প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মতো একজন স্টেটসম্যানকে পাঁচ বছরের জন্য বাংলাদেশের একটি নির্বাচিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা আমার আজীবন থাকবে।’ ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গত বছরের ৮ আগস্ট অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রধান করে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করা হয়। গত ২৬ মার্চ প্রধান উপদেষ্টা চারদিনের চীন সফরে যান। তার এই সফর ফলপ্রসূ হয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

যুক্তরাষ্ট্রের ‘আন্তর্জাতিক সাহসী নারী’ পুরস্কার পাচ্ছেন জুলাই-আগস্টের সাহসী নারীরা
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ‘আন্তর্জাতিক সাহসী নারী’ পুরস্কার পেয়েছে জুলাই-আগস্ট বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী একদল সাহসী নারী। বাংলাদেশের সাহসী নারীরা ‘মেডেলিন অলব্রাইট অনারারী গ্রুপ’ পুরস্কার পেয়েছে। উল্লেখ্য, মেডেলিন অলব্রাইট ৯০ দশকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন।মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট থেকে যুক্তরাষ্ট্র সময় শুক্রবারে আন্তর্জাতিক সাহসী নারী পুরস্কারপ্রাপ্তদের নাম ঘোষণা করা হয়। মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে বার্ষিক আন্তর্জাতিক সাহসী নারী পুরস্কার অনুষ্ঠানের আয়োজন করবেন। স্টেট ডিপার্টমেন্ট থেকে জানানো হয়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে বাংলাদেশে সহিংস দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে ছাত্র বিক্ষোভ আন্দোলনে একদল সাহসী নারী ছিলেন মূল চালিকাশক্তি। হুমকি ও সহিংসতা সত্ত্বেও তারা নিরাপত্তা বাহিনী এবং পুরুষ বিক্ষোভকারীদের মধ্যে দাঁড়িয়ে অসাধারণ সাহসিকতা প্রদর্শন করেছিলেন। যখন পুরুষ সহকর্মীদের গ্রেফতার করা হয়েছিল, তখন এই নারীরা যোগাযোগ অব্যাহত রাখার এবং বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য উদ্ভাবনী উপায় খুঁজে পেয়েছিলেন, এমনকি ইন্টারনেট সম্পূর্ণ বন্ধ থাকা সত্ত্বেও সেন্সরশিপ প্রচেষ্টাকে উপেক্ষা করে। অনিশ্চয়তার মধ্যে এই নারীদের সাহসিকতা এবং নিঃস্বার্থতা ছিল সাহসের সংজ্ঞা। গত ১৯ বছর ধরে আন্তর্জাতিক সাহসী নারী’ পুরস্কার বিশ্বজুড়ে সেসব নারীদের স্বীকৃতি দেয়; যারা ব্যতিক্রমী সাহস, শক্তি এবং নেতৃত্ব প্রদর্শন করেছেন- প্রায়শই ব্যক্তিগত ঝুঁকি এবং ত্যাগ স্বীকার করে। ২০০৭ সাল থেকে পররাষ্ট্র দফতর ৯০টিরও বেশি দেশের ২০০ জনেরও বেশি নারীকে পুরস্কার দিয়ে স্বীকৃতি দিয়েছে। বিদেশে মার্কিন কূটনৈতিক মিশনগুলো তাদের নিজ নিজ আয়োজক দেশ থেকে একজন সাহসী নারীকে মনোনীত করে এবং চূড়ান্ত প্রার্থীদের নির্বাচন করা হয় এবং বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুমোদন করেন।

মাসউদের ওপর হামলার ঘটনায় বিএনপির লজ্জিত হওয়া উচিত : সারজিস আলম
নোয়াখালীর হাতিয়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদের ওপর হামলার ঘটনায় বিএনপির লজ্জিত হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন দলটির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। মঙ্গলবার সকালে (২৫ মার্চ) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন। সারজিস লিখেছেন, ‘গতকাল আমার সহযোদ্ধা আবদুল হান্নান মাসউদের ওপর বিএনপির কিছু নেতাকর্মীর দ্বারা যে হামলা হয়েছে, এটার জন্য বিএনপির লজ্জিত হওয়া উচিত।’ তিনি বলেন, ‘বিগত ১৬ বছরে স্বৈরাচারী আমলে দল হিসেবে বিএনপি সবচেয়ে বেশি অন্যায় এবং জুলুমের শিকার হয়েছে। অতঃপর হান্নান মাসউদের মতো কিছু অকুতোভয়, আপসহীন, সাহসী তরুণদের হাত ধরে ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় বিএনপিসহ বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলো সেই স্বৈরাচারী দুঃশাসন থেকে মুক্তি পেয়েছে।’ ‘এই কৃতজ্ঞতাবোধটুকু বিএনপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সবসময় থাকা উচিত। এই মুহূর্তে বিএনপি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল। এজন্য তাদের দায়িত্ব, দায়বদ্ধতা এবং কর্মযজ্ঞ সবচেয়ে বড় হবে এটাই স্বাভাবিক।’ এই ছাত্রনেতা আরও লিখেছেন, ‘শুধু বিরোধীদল হওয়ার কারণে বিগত ১৬ বছরে বিএনপি কী কী অন্যায়-অত্যাচার এবং জুলুমের শিকার হয়েছে তার একটা সারসংক্ষেপ বিএনপির পক্ষ থেকে তাদের সারাদেশের নেতাকর্মীদের কাছে যাওয়া উচিত। পাশাপাশি এই ১৬ বছরে আওয়ামী লীগ কী কী অন্যায়-অপকর্ম করেছে এবং দিন শেষে তাদের পরিণতি কী হয়েছে তারও একটা সারমর্ম বিএনপির পক্ষ থেকে তাদের নেতাকর্মীদের কাছে থাকা উচিত। তাহলে তাদের বর্তমান আমলনামা কোনদিকে যাচ্ছে এবং সেটার পরিণতি কী হতে পারে সেটার একটি তুলনা তারা সহজে করতে পারবে।’ তিনি বলেন, ‘কারণ আজ থেকে এক যুগ আগে রাজনৈতিক পরিবেশের দিক থেকে বাংলাদেশ যে জায়গায় ছিল এখন সেই জায়গায় নেই। যেটা হতে একসময় ১৫ বছর লাগতো, এখন সেটা হতে ৫ বছর লাগবে কি না সন্দেহ। এই জেনারেশন এখনো সজাগ, রাজনৈতিকভাবে সচেতন এবং সক্রিয়। তাই বিএনপির সহযোদ্ধাদের পরামর্শ থাকবে এই সময় আর জেনারেশনটাকে আর একটু সিরিয়াসলি নেবেন।’ ‘আর যারা সন্ত্রাসী কায়দায় অভ্যুত্থানের অন্যতম কারিগরের ওপর এই হামলা করেছে তাদের দ্রুত গ্রেফতার এবং বিচার চাই।’ বলেন সারজিস আলম।

এসব কী ভাই! দুজনের একজন মিথ্যা বলছেন
সেনাপ্রধানের সঙ্গে বৈঠকের ১০ দিন পর হাসনাত আব্দুল্লাহ গত ২১ মার্চ তার ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন। তার প্রতিক্রিয়ায় আজ রোববার (২৩ মার্চ) নিজের ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন আরেক মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। সারজিস সেখানে লিখেছেন, যেভাবে এই কথাগুলো ফেসবুকে স্ট্যাটাসের মাধ্যমে এসেছে এই প্রক্রিয়াটি আমার সমীচীন মনে হয়নি বরং এর ফলে পরবর্তীতে যেকোনো স্টেকহোল্ডারের সাথে আমাদের গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা আস্থার সংকটে পড়তে পারে। দীর্ঘ ওই স্ট্যাটাসের মন্তব্যে দলটিরই আরেক নেতা, আব্দুল হান্নান মাসউদ লিখেছেন, 'এসব কি ভাই!! পাবলিকলিই বলছি- দুইজনের একজন মিথ্যা বলছেন। এটা চলতে পারে না। আর দলের গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট হোল্ড করেও আপনারা যেভাবে ব্যক্তিগতভাবে বিচরণ করছেন, এবং তা পাবলিক করে এনসিপিকেই বিতর্কিত করছেন। মানুষ এনসিপিকে নিয়ে যখন স্বপ্ন বুনছে, তখন এভাবে এনসিপিকে বিতর্কিত করা কাদের এজেন্ডা!!!সরিআর চুপ থাকতে পারলাম না।'

সেনাবাহিনী নিয়ে হাসনাতের ফেসবুক স্ট্যাটাস সমীচীন মনে হয়নি: সারজিস
সেনাবাহিনীকে নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আব্দুল্লাহর কথাগুলো যেভাবে ফেসবুক স্ট্যাটাসে এসেছে, সেই প্রক্রিয়াটি সমীচীন মনে হয়নি। এর ফলে পরবর্তীতে যেকোনো স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে দলটির গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা আস্থার সংকটে পড়তে পারে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম। সেনাপ্রধানের সঙ্গে বৈঠকের ১০ দিন পর হাসনাত আব্দুল্লাহ গত ২১ মার্চ তার ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন। তার প্রতিক্রিয়ায় আজ রোববার (২৩ মার্চ) নিজের ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন আরেক মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। সেখানে তিনি লিখেছেন, ১১ মার্চ সেনাপ্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ নিয়ে আমার জায়গা থেকে কিছু সংশোধন, সংযোজন ও বিয়োজন: সেদিন আমি এবং হাসনাত সেনাপ্রধানের সাথে গিয়ে কথা বলি। আমাদের সাথে আমাদের দলের গুরুত্বপূর্ণ আরেকজন সদস্যেরও যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু যাওয়ার পূর্বমুহূর্তে ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে তিনি যেতে পারেননি। প্রথমেই স্পষ্ট করে জানিয়ে রাখি, সেদিন সেনানিবাসে আমাদের ডেকে নেওয়া হয়নি বরং সেনাপ্রধানের মিলিটারি অ্যাডভাইজারের সাথে যখন প্রয়োজন হতো তখন ম্যাসেজের মাধ্যমে আমাদের কিছু জিজ্ঞাসা ও উত্তর আদান-প্রদান হতো। যেদিন সেনাপ্রধান পিলখানা হত্যাকাণ্ড দিবসে অনেকটা কড়া ভাষায় বক্তব্য দিলেন এবং বললেন 'এনাফ ইজ এনাফ' তখন আমি সেনাপ্রধানের মিলিটারি অ্যাডভাইসরকে জিজ্ঞাসা করি আপনাদের দৃষ্টিতে অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু দেখছেন কি না? সেনাপ্রধানের বক্তব্য তুলনামূলক straight-forward এবং harsh মনে হচ্ছে। তিনি আমাকে বললেন, তোমরা কি এ বিষয়ে সরাসরি কথা বলতে চাও? আমি বললাম- বলা যেতে পারে। এরপরে সেদিন সেনাপ্রধানের সাথে আমাদের সাক্ষাৎ হয়। সেনাভবনে সেই রুমে আমরা তিনজনই ছিলাম। সেনাপ্রধান, হাসনাত এবং আমি। মানুষ হিসেবে যেকোনো ব্যক্তি বা ব্যক্তির অভিমতকে একেকজন একেকভাবে অবজার্ভ করে। হাসনাত সেদিন তার জায়গা থেকে যেভাবে সেনাপ্রধানের বক্তব্যকে অবজার্ভ ও রিসিভ করেছে এবং ফেসবুকে লিখেছে আমার সেক্ষেত্রে কিছুটা দ্বিমত আছে। আমার জায়গা থেকে আমি সেদিনের বক্তব্যকে সরাসরি 'প্রস্তাব' দেওয়ার আঙ্গিকে দেখি না বরং 'সরাসরি অভিমত প্রকাশের' মতো করে দেখি। 'অভিমত প্রকাশ' এবং 'প্রস্তাব দেওয়া' দুটি বিষয়ের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। যদিও পূর্বের তুলনায় সেদিন সেনাপ্রধান অনেকটা স্ট্রেইট-ফরওয়ার্ড ভাষায় কথা বলছিলেন। পাশাপাশি 'রিফাইন্ড আওয়ামী লীগের জন্য 'চাপ দেওয়ার' যে বিষয়টি এসেছে সেখানে 'চাপ দেওয়া হয়েছে' এমনটি আমার মনে হয়নি। বরং রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ না আসলে দীর্ঘ মেয়াদে দেশের পরিস্থিতি এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যে সমস্যার সৃষ্টি হবে সেটা তিনি অতি আত্মবিশ্বাসের সাথে বলছিলেন। হাসনাতের বক্তব্যে যে টপিকগুলো এসেছিল, যেমন- "রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ, সাবের হোসেন, শিরিন শারমিন চৌধুরী, সোহেল তাজ; এসব নিয়ে কথা হয়েছিল। আওয়ামী লীগ ফিরে আসবে কি না, এই ইলেকশনে আওয়ামী লীগ থাকলে কী হবে না থাকলে কী হবে, আওয়ামী লীগ এই ইলেকশন না করলে কবে ফিরে আসতে পারে কিংবা আদৌ আসবে কি না, এসব বিষয় নিয়ে কথা হয়েছিল। এসব সমীকরণে দেশের উপরে কী প্রভাব পড়তে পারে, স্থিতিশীলতা কিংবা অস্থিতিশীলতা কোন পর্যায়ে যেতে পারে সেসব নিয়ে কথা হয়েছিল। কিন্তু যেই টোনে হাসনাতের ফেসবুক লেখা উপস্থাপন করা হয়েছে আমি মনে করি- কনভারসেশন ততটা এক্সট্রিম ছিল না। তবে অন্য কোনো একদিনের চেয়ে অবশ্যই স্ট্রেইট-ফরওয়ার্ড এবং সো-কনফিডেন্ট ছিল। দেশের স্থিতিশীলতার জন্য রিফাইন্ড আওয়ামী লীগের ইলেকশনে অংশগ্রহণ করা যে প্রয়োজনীয় সেই বিষয়ে সরাসরি অভিমত ছিল। হাসনাত তার বক্তব্যে আরেকটি বিষয় উল্লেখ করেছে- "আলোচনার এক পর্যায়ে বলি-যেই দল এখনো ক্ষমা চায় নাই, অপরাধ স্বীকার করে নাই, সেই দলকে আপনারা কীভাবে ক্ষমা করে দেবেন! অপরপক্ষ থেকে রেগে গিয়ে উত্তর আসে,' ইউ পিপল নো নাথিং। ইউ ল্যাক উইজডোম অ্যান্ড এক্সপিরিয়েন্স। উই আর ইন দিজ সার্ভিস ফর এটলিস্ট ফোর্টি ইয়ার্স। তোমার বয়সের থেকে বেশি।" এই কনভারসেশন টা হয়েছে এটা সত্য। কিন্তু আমাদের রুমে বসে হওয়া কনভারসেশন হঠাৎ এককভাবে শেষ করে যখন সেনাপ্রধান উঠে দাঁড়ালেন এবং রুম থেকে কথা বলতে বলতে বের হয়ে এসে যখন আমরা গাড়িতে করে ফিরবো তার পূর্বে বিদায় নেওয়ার সময় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে এই কনভারসেশন হয়েছে। সেনাপ্রধান রেগে যাওয়ার সুরে এই কথা বলেছেন বলে আমার মনে হয়নি বরং বয়সে তুলনামূলক বেশ সিনিয়র কেউ জুনিয়রদের যেভাবে অভিজ্ঞতার ভারের কথা ব্যক্ত করে সেই টোন এবং এক্সপ্রেশনে বলেছেন। 'হাসনাত না ওয়াকার' এই ন্যারেটিভ এবং স্লোগানকে আমি প্রত্যাশা করি না। হাসনাতের জায়গা ভিন্ন এবং সেনাপ্রধান জনাব ওয়াকারুজ্জামানের জায়গাও ভিন্ন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টি অন্যান্য রাজনৈতিক দল কিংবা জনগণকে মুখোমুখি দাঁড় করানোও কখনো প্রাসঙ্গিক নয়। পাশাপাশি সেনাপ্রধানের পদত্যাগ নিয়ে যে কথা দুয়েক জায়গায় আসছে সেটিও আমাদের বক্তব্য নয়। এসবের পাশাপাশি আমি আমার ব্যক্তিগত জায়গা থেকে একটি অভিমত প্রকাশ করতে চাই। আমি ভুল হতে পারি কিন্তু এই মুহূর্তে আমার এটিই সঠিক মনে হচ্ছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাথে অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর কেউ না কেউ যোগাযোগ রক্ষা করে। সেই প্রাইভেসি তারা বজায় রাখে। আমাদের সাথে সেনাপ্রধানের যে বিষয়গুলো নিয়ে কথা হয়েছে সেগুলোর সাথে আমাদের সরাসরি দ্বিমত থাকলেও আমরা সেগুলো নিয়ে আমাদের দলের ফোরামে বিস্তারিত আলোচনা করতে পারতাম, সিদ্ধান্ত নিতে পারতাম, সে অনুযায়ী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে পারতাম। কিংবা অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলোচনার মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে আওয়ামী লীগের যেকোনো ভার্সনের বিরুদ্ধে এখনকার মতই রাজপথে নামতে পারতাম। অথবা অন্য রাজনৈতিক দলগুলো সরাসরি আমাদের সাথে ঐকমত্যে না পৌঁছালে আমরা শুধুমাত্র আমাদের দলের পক্ষ থেকেই এই দাবি নিয়ে রাজপথে নামতে পারতাম। কিন্তু যেভাবে এই কথাগুলো ফেসবুকে স্ট্যাটাসের মাধ্যমে এসেছে এই প্রক্রিয়াটি আমার সমীচীন মনে হয়নি বরং এর ফলে পরবর্তীতে যেকোনো স্টেকহোল্ডারের সাথে আমাদের গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা আস্থার সংকটে পড়তে পারে। আমার এই বক্তব্যে আমার সহযোদ্ধা হাসনাতের বক্তব্যের সাথে বেশ কিছু ক্ষেত্রে দ্বিমত এসেছে। এটার জন্য অনেকে আমার সমালোচনা করতে পারেন কিন্তু আমি বিশ্বাস করি আমাদের ব্যক্তিত্ব স্রোতে গা ভাসানোর মত কখনোই ছিল না। ছিল না বলেই আমরা হাসিনা রেজিমের বন্দুকের সামনে দাঁড়িয়ে গিয়েছিলাম। আজও কেউ হাসনাতের দিকে বন্দুক তাক করলে তার সামনে দাঁড়িয়ে যাওয়ার কমিটমেন্ট আমাদের আছে। কিন্তু সহযোদ্ধার কোন বিষয় যখন নিজের জায়গা থেকে সংশোধন দেয়ার প্রয়োজন মনে করি তখন সেটাও আমি করব। সেই বিবেকবোধটুকু ছিল বলেই ৬ জুন প্রথম যেদিন শহীদ মিনারে কয়েকজন কোটা প্রথার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে যায় তাদের মধ্যে সামনের সারিতে আমরা ছিলাম। আমি বিশ্বাস করি আমাদের এই বিবেকবোধের জায়গাটুকুই আমাদের সঠিক পথে রাখবে। আত্মসমালোচনা করার এই মানসিকতাই আমাদেরকে আমাদের কাঙ্খিত গন্তব্যে নিয়ে যাবে। জুলাই গণহত্যা, বিডিআর হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ড ঘটানো 'আওয়ামীলীগের যেকোনো ভার্সনের' বাংলাদেশের রাজনীতিতে আসার বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই অব্যাহত থাকবে।

নাফ নদীতে বিজিবির ৩৩ সদস্য নিখোঁজের তথ্য ভিত্তিহীন
নাফ নদীতে মিশনে গিয়ে ৩৩ জন বিজিবি সদস্য নিখোঁজের তথ্য ‘ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। শনিবার (২২ মার্চ) রাতে বিজিবির ভেরিফায়েড ফেসবুকে পেজে এক স্ট্যাটাসে এমন তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। ওই স্ট্যাটাসে বিজিবি বলছে, নিখোঁজ রয়েছে একজন বিজিবি সদস্য। তাকে উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত ৩৩ জন বিজিবি সদস্য নিখোঁজের তথ্যটি ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। বিজিবি আরও বলছে, বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে যে, গত দুই দিনে ৩৩ জন বিজিবি সদস্য নাফ নদীতে মিশনে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের গুজবনির্ভর এই অপপ্রচারে বিজিবির দৃষ্টি আকর্ষিত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত এই তথ্যটি ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। প্রকৃত ঘটনা হলো- ২২ মার্চ ভোররাতে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপের পশ্চিমপাড়া ঘাটের নিকট দিয়ে রোহিঙ্গাবোঝাই একটি নৌকা অবৈধ উপায়ে সাগরপথে বাংলাদেশে আসার সময় প্রবল স্রোতের কারণে নৌকাটি উল্টে যায়। খবর পেয়ে সৈকতের পার্শ্ববর্তী স্থানে কর্তব্যরত বিজিবি সদস্যরা তৎক্ষণাৎ স্থানীয় জেলেদের সঙ্গে নিয়ে রোহিঙ্গাদের উদ্ধারের জন্য ছুটে যায় এবং ২৪ জন রোহিঙ্গাকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। উদ্ধারকার্য চলাকালে সমুদ্র উত্তাল থাকায় এবং অন্ধকার রাতের কারণে একজন বিজিবি সদস্য সম্ভাব্য পা পিছলে পড়ে সমুদ্রে নিখোঁজ হয়। পরবর্তীতে ডুবে যাওয়া নৌকাসহ ২৪ জন রোহিঙ্গাকে জীবিত উদ্ধার করেছে বিজিবি। সম্পূর্ণ দুর্ঘটনাটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক এবং বর্তমানে নিখোঁজ একজন বিজিবি সদস্যসহ অন্যান্য রোহিঙ্গাদের উদ্ধার কার্যক্রম সর্বান্তকরণে অব্যাহত রয়েছে বলেও জানায় বিজিবি।

টেলিগ্রামে এলো এক গুচ্ছ নতুন ফিচার
টেলিগ্রাম বর্তমানে একটি জনপ্রিয় অ্যাপ। এর মাধ্যমে একে অন্যের সঙ্গে চ্যাট করার পাশাপাশি অনেকেই অনেক কিছু শেয়ার করেন। এছাড়া ভিডিও কলের জন্য সেরা একটি অ্যাপ হচ্ছে টেলিগ্রাম। ব্যবহারকারীদের চ্যাট এবং তথ্যের নিরাপত্তায় টেলিগ্রাম নানান ফিচার যুক্ত করেছে। অ্যাপটিতে যুক্ত হয়েছে আরও বেশ কয়েকটি আপডেট। যা অ্যাপটির ব্যবহারকে আরও সহজ ও নিরাপদ করেছে। ফিচারগুলোর সম্পর্কে আসুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক- নতুন মেসেজের জন্য স্টার মার্ক করার সুবিধা। এই নতুন ফিচারে কী করতে পারবেন ব্যবহারকারীরা? টেলিগ্রাম জানিয়েছে, প্রিমিয়াম ব্যবহারকারীদের কাছে নতুন কোনো নম্বর থেকে বার্তা এলে তা স্টার করতে পারবেন তারা। যার ফলে স্প্যাম চ্যাট কমবে। এমনকি ব্যবহারকারীরা টেলিগ্রাম স্টার বানাতে পারবেন। নয়া আপডেটে ‘কন্টাক্ট কনফার্মেশন’ নামে নতুন ফিচার যোগ করা হয়েছে। এই নতুন ফিচারের ফলে কোনো অচেনা নম্বর থেকে বার্তা এলে, নতুন একটি নোটিফিকেশন আসবে ব্যবহারকারীর মোবাইলে। সেখানে বার্তা পাঠানোকারীর সব তথ্য থাকবে। তিনি কোন দেশের বাসিন্দা, কোনো গ্রুপে তারা একসঙ্গে রয়েছেন কি না, তাদের অ্যাকাউন্টের তথ্য যেমন, কবে থেকে ওই ব্যক্তি টেলিগ্রাম ব্যবহার করছেন ইত্যাদি তথ্য প্রদান করা হবে। নতুন আপডেট ভার্সনে ব্যবহারকারীরা এখন তাদের জমানো স্টারগুলো ব্যবহার করে অন্যদের প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন উপহার দিতে পারবেন। টেলিগ্রাম আরও জানিয়েছে, ব্যবহারকারীরা ২১ দিন অন্তর তাদের স্টার ব্যবহার করতে পারবেন। এছাড়াও প্রোফাইল কভারে ৬টি উপহার পিন করে রাখার সুবিধা পাবেন ব্যবহারকারীরা। সেটিংস থেকে মাই প্রোফাইলের গিফ্ট সেকশনে গিয়ে তা খুব সহজেই অ্যাক্সেস করতে পারবেন ব্যবহারকারীরা। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

সাস্ট স্ট্যাটিস্টিক্স এসোসিয়েশন ঢাকা’র নতুন কমিটি গঠন ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সাস্ট) পরিসংখ্যান বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘সাস্ট স্ট্যাটিস্টিক্স এসোসিয়েশন ঢাকা’র নতুন কমিটি গঠন ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৫ মার্চ) রাজধানীর ধানমন্ডিতে অবস্থিত বাফেট এম্পায়ার রেস্টুরেন্টে এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সংগঠনের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত করা হয়। সদস্যদের সর্বসম্মতিক্রমে এনসিসি ব্যাংকের সি. আর. এম ও ইভিপি আহসান তারিক তপুকে পুনরায় সভাপতি, বি. আই. ডব্লিউ. টি. এ-এর উপপরিচালক নুর হোসেন স্বপনকে সাধারণ সম্পাদক এবং এনআরবি সি ব্যাংকের ঢাকা দক্ষিণ জোনাল হেড ফারুক হোসেনকে সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। নতুন কমিটির নেতারা সংগঠনের কার্যক্রম আরও গতিশীল করার প্রতিশ্রুতি দেন এবং আগামীর পরিকল্পনা নিয়ে সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। ইফতার ও বাফেট ডিনারের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি শেষ হয়।

কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা ছেড়ে জামাইকে নিয়ে আসব, বললেন গ্রেপ্তার সন্ত্রাসী সাজ্জাদের স্ত্রী
চট্টগ্রামের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার (১৫ মার্চ) ঢাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সাজ্জাদকে গ্রেপ্তারের পর প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তার স্ত্রী তামান্না শারমিনের বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে তামান্না শারমিনকে বলতে শোনা যায়, ‘আমরা কাঁড়ি কাঁড়ি, বান্ডিল বান্ডিল টাকা ছেড়ে আমার জামাইকে নিয়ে আসব। যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না।’ ভিডিওতে ১৭ মামলার আসামি সাজ্জাদ হোসেনকে ১০ থেকে ১২ দিনের মধ্যে জামিনে ছাড়িয়ে আনবেন বলে জানান স্ত্রী তামান্না শারমিন। তিনি বলেন, ‘আমার জামাই গতকাল (শনিবার) রাতে গ্রেপ্তার হয়েছে, এতে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। মামলা যখন আছে, গ্রেপ্তার হবেই। আপনারা যারা ভাবতেছেন, আর কোনো দিন বের হবে না, তাদের জন্য এক বালতি সমবেদনা।’ প্রতিপক্ষকে হুমকি দিয়ে তিনি বলেন, ‘এত দিন আমরা পলাতক ছিলাম, এখন তোমাদের পলাতক থাকার পালা শুরু। খেলা শুরু হবে এখন।’ শনিবার রাত ১০টার দিকে ঢাকার একটি শপিং মলে ঘোরাঘুরি করার সময় সাজ্জাদকে আটক করে তেজগাঁও থানা–পুলিশ। এর আগে তাকে ধরতে গত ৩০ জানুয়ারি পুরস্কার ঘোষণা করেছিলেন চট্টগ্রাম নগর পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজ। এর আগের দিন নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার ওসি আরিফুর রহমানকে ফেসবুক লাইভে এসে হুমকি দিয়েছিলেন সাজ্জাদ হোসেন। পুলিশ জানায়, গত জানুয়ারিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার ওসিকে বিবস্ত্র করে পেটানোর হুমকি দিয়েছিলেন সাজ্জাদ। এরপর ‘ছোট সাজ্জাদ’ ও ‘বুড়ির নাতি’ হিসেবে পরিচিত সাজ্জাদকে ধরিয়ে দিতে পুরস্কার ঘোষণা করে পুলিশ। ফেসবুক লাইভে সাজ্জাদ বলেছিলেন, ‘ওসি আরিফ দেশের যে প্রান্তেই থাকেন না কেন, তাঁকে নগরের অক্সিজেনে ধরে এনে পেটানো হবে। প্রয়োজনে মরে যাব। কিন্তু হার মানব না।’ এ ছাড়া পুলিশ কমিশনারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘ওসি আরিফ চাঁদাবাজিসহ আমার সন্তান হত্যায় জড়িত, তাকে যাতে বদলি করা হয়।’ পরে এ ঘটনায় ওসি আরিফুর রহমান থানায় জিডি করেন। পরে তার অবস্থান সংক্রান্ত তথ্য পুলিশকে দিতে পারলে তথ্যদাতাকে উপযুক্ত অর্থ পুরস্কার ঘোষণা করেন নগর পুলিশের কমিশনার। জানা গেছে, গত বছরের ১৭ জুলাই চান্দগাঁও থানা-পুলিশ অস্ত্রসহ সাজ্জাদকে গ্রেপ্তার করে। পরের মাসের শুরুতে জামিনে বের হন তিনি। সাজ্জাদ বায়েজিদ বোস্তামী থানাসংলগ্ন হাটহাজারীর শিকারপুরের মো. জামালের ছেলে। ৪ ডিসেম্বর নগরের অক্সিজেন এলাকায় পুলিশ ধরতে গেলে গুলি ছুড়তে ছুড়তে পালিয়ে যান তিনি। এতে পুলিশসহ পাঁচজন আহত হন। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া শাখা থেকে জানানো হয়, সাজ্জাদকে গতকাল শনিবার রাজধানীর বসুন্ধরা সিটি থেকে তেজগাঁও থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করে।

হেলিকপ্টারে মাগুরা যাওয়ায় সমালোচনা নিয়ে মুখ খুললেন সারজিস
সম্প্রতি ধর্ষণের শিকার হয়ে মারা যাওয়া শিশুটির জানাজায় অংশ নিতে হেলিকপ্টারে চড়ে মাগুরা যান জাতীয় নাগরিক পার্টির দুই মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সারজিস আলম। ঢাকা থেকে মাগুরায় তাদের হেলিকপ্টারে যাওয়া-আসা নিয়ে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। এবার সে বিষয়ে ব্যাখ্যা দিলেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। শনিবার (১৫ মার্চ) দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে শেয়ার করা এক পোস্টে সারজিস বলেন, মাগুরায় যাওয়ার জন্য তারা কোনো হেলিকপ্টার ভাড়া করেন নি। বরং সেনাবাহিনী ও র্যাব এর হেলিকপ্টারে সিট থালি থাকায় তারা হেলিকপ্টারে চড়েন। ফেসবুক পোস্টে সারজিস লেখেন, সেনাবাহিনী ও র্যাব থেকে পরিবারের জন্য বরাদ্দ করা হেলিকপ্টারে যখন একাধিক সিট খালি থাকার কথা শুনেছি তখনই মাগুরায় গিয়ে তার জানাজায় অংশগ্রহণ করার ইচ্ছা ব্যক্ত করেছি এবং জানাজা শেষে আবার ঢাকায় ফিরেছি। তিনি লেখেন, ফেসবুকে দেয়া অংশটুকু কে ‘সামগ্রিক’ মনে করে মিডিয়া এবং কিছু পাবলিক জাজমেন্ট করা শুরু করল। পোস্টের শুরুতে সারজিস লেখেন, ‘চলেন সোজাসাপ্টা কিছু আলাপ করি। ওই যে- যেটা নিয়ে আপনারা আলাপ করছেন সেই ‘ফুটেজ’ নিয়ে।’ এরপর লেখেন, ‘বোন আছিয়ার সাথে নৃশংস একটা ঘটনা ঘটলো। আমি আমার জায়গা থেকে সংশ্লিষ্ট পুলিশ প্রশাসনকে জানালাম দ্রুত আসামি গ্রেপ্তার করার কথা। আবার- হাইকোর্ট থেকে ঘোষণা এলো ১৮০ দিনের মধ্যে ধর্ষণের বিচার প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে। আমি আমার জায়গা থেকে দায়িত্বশীল একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে আমার মতামত জানালাম। ১৮০ দিন অনেক বেশি হয়ে যায়। এটা ১-২ মাসের মধ্যে করা উচিত। নাহলে মানুষের মাথা থেকে ঘটনাটা অনেকটাই মুছে যায় এবং সেই অপরাধের শাস্তি আদতে সমাজে অপরাধ দমনে তেমন প্রভাব রাখতে পারে না। ব্যাপারটা এমন নয় যে আমি একাই জানিয়েছি কিংবা আমার জানানোর জন্যই গ্রেফতার হয়েছে বা আইন পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু আমার জায়গা থেকে মনে হয়েছে এটা আমার করা উচিত তাই আমি করেছি। তবে সে বিষয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেইনি। এরপর আছিয়াকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসা হলো। আমিও ঢাকা মেডিকেলে গেলাম। যখন জানলাম ICU-তে আছে তখন আর ICU-তে দেখতে যাইনি। কারণ বাইরে থেকে ICU-তে দেখতে গেলে ইনফেকশনের সম্ভাবনা থাকে। মেডিকেলের বাইরে থেকে খোঁজখবর নিয়ে চলে এসেছি। ছবি পোস্ট করিনি। এরপর যখন জরুরি অবস্থায় CMH নেওয়া হলো তখন সেদিনই সন্ধ্যায় নাগরিক পার্টির কয়েকজন সহCMH গেছি। সেখানেও ICU-তে ছিল আছিয়া। দেখতে যাওয়া সম্পূর্ণ নিষেধ ছিল বলে CMH-এর সামনে থেকে ডিউটিরত ডাক্তারের সাথে কথা বলে সার্বিক খোঁজখবর নিয়ে বাসায় ফিরেছি। ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেইনি। এরপর CMH এ থাকা আমাদের ছাত্র প্রতিনিধিদের থেকে খোঁজ নিয়েছি। সবশেষে যখন শুনলাম আছিয়া আর নেই তখন সিএমএইচে ছুটে গেছি। সেনাবাহিনী, র্যাব থেকে পরিবারের জন্য বরাদ্দকৃত হেলিকপ্টারে যখনই একাধিক সিট খালি থাকার কথা শুনেছি তখনই মাগুরায় গিয়ে আছিয়ার জানাযায় অংশগ্রহণ করার ইচ্ছা ব্যক্ত করেছি এবং জানাজা পড়ে আবার ঢাকায় ব্যাক করেছি। এই পুরো ঘটনার মধ্যে সর্বশেষ অংশটুকু আমি ফেসবুকে দিয়েছি এবং ফেসবুকে দেয়া অংশটুকুকে ‘সামগ্রিক’ মনে করে মিডিয়া এবং কিছু পাবলিক জাজমেন্ট করা শুরু করল। তার মানে আমরা যতটুকু সোশ্যাল মিডিয়া কিংবা গণমাধ্যমে প্রকাশ করি ততটুকুই হচ্ছে বলে আপনারা মনে করেন এবং সেটাকে পুরো ঘটনা ধরে জাজমেন্ট শুরু করে। অর্থাৎ আপনারাও আসলে ফুটেজের দিকেই তাকিয়ে থাকেন। আবার যদি কোনো কিছু না দেই তখন মনে করেন কিছুই করা হয়নি! কি অদ্ভুত! দিলে বলেন ফুটেজমুখী আর না দিলে বলেন কিছুই করেনি। আপনাদের এই ডাবল স্ট্যান্ডার্ড কবে একটা সিঙ্গেল স্ট্যান্ডার্ডে পরিণত হবে?’

গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী তরুণদের নিয়ে আরেকটি দল গঠনের ইঙ্গিত
গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয় অংশগ্রহণকারী তরুণদের নিয়ে আরেকটি রাজনৈতিক দল গঠনের ইঙ্গিত দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক কমিটির সাবেক নেতা মোহাম্মদ হিযবুল্লাহ (আরেফিন)। বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) রাতে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এমন ইঙ্গিত দেন তিনি। ফেসবুকে তিনি লেখেন, ‘গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয় অংশগ্রহণকারী তরুণদের সাথে আলাপ, পরামর্শ এবং তাদের সম্মিলনে আমরা একটা রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম গঠনের দিকে আগাচ্ছি, ইনশাআল্লাহ। বিদ্যমান রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন ও ধর্মীয় বিশ্বাস ও মূল্যবোধের ভিত্তিতে গঠিত এই ব-দ্বীপের সামাজিক চুক্তিসমূহের পুনর্বহাল হবে আমাদের রাজনীতির ভিত্তি। এই ব-দ্বীপের তহজিব-তমুদ্দুনকে আঁকড়ে ধরেই আমরা নতুন রাজনীতি বিনির্মাণ করবো ইনশাআল্লাহ। আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে চাঁদাবাজি-দুর্নীতি নির্ভর যেই পলিটিক্যাল ইকোনমি, আমরা তারে পরিবর্তন করতে চাই। পেশিশক্তি নির্ভর যেই রাজনৈতিক সংস্কৃতি, যেখানে মানুষের গুরুত্ব স্রেফ মিছিলে মাথা গোনা, আমরা এর পরিবর্তে রাজনীতিতে সম্মান ও শরিকানা হাজির করতে চাই। দলের ভিতরে আভ্যন্তরীণ গণতান্ত্রিক চর্চাকে জারি রাখতে চাই। ভারতীয় আগ্রাসন ও আঞ্চলিক আধিপত্যবাদ বিরোধী বলিষ্ঠ রাজনীতি হাজির করতে চাই আমরা। দুর্নীতির বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা এবং এই ব-দ্বীপের অধিবাসীদের অর্থনৈতিক আজাদির নিশ্চয়তা ও সুরক্ষা বিধান-ই হবে আমাদের অন্যতম রাজনৈতিক লক্ষ্য। নারীর হক, মর্যাদা আর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে আমাদের রাজনীতির মূলমন্ত্র। বাংলাদেশ হবে নারীদের জন্য আমান ও সুকুনের রাষ্ট্র--- এইটা হবে আমাদের রাজনৈতিক অঙ্গীকার। সামাজিক, রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সর্বত্র ন্যায়-নীতি ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা হবে আমাদের মাকসাদ।’

‘শাহবাগী’ গরু গোসল করাল শাহবাগ বিরোধী ঐক্য
‘শাহবাগী’ প্রতীক গরু গোসল করালো শাহবাগ বিরোধী ঐক্যে গ্রুপ নামে একটি প্লাটফর্ম। আজ বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) সকাল ৮টার দিকে জাতীয় যাদুঘরের সামনে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা। ‘শাহবাগী’ লেখা একটি ব্যানারে গরুর গায়ে টাঙিয়ে তাকে গোসল করিয়ে প্রতীকী প্রতিবাদ জানান তারা। গরুটিকে জবাই করে ইফতারি তৈরির জন্য রান্নার প্রস্তুতি নিচ্ছেন আয়োজকরা। জানা গেছে, ‘শেখ হাসিনার ক্যাঙারু ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে ২০১৩ সালে শাহবাগীদের চক্রান্ত থেকে জুলাই বিপ্লব পর্যন্ত ফ্যাসিস্টের হাতে শাহাদাত বরণ করা সব শহীদের রুহের মাগফিরাত কামনায়’ এ কর্মসূচি পালন করছেন তারা। আন্দোলনকারীরা জানান, গরুটিকে গোসল করানোর মাধ্যমে তারা ‘শাহবাগীদের’ একটি ম্যাসেজ দিতে চান, ‘তোমরা গোসল করো না, তোমাদের গায়ে গন্ধ’। এ জন্য তারা গরুটিকে গোসল দিয়েছেন। এতে তাদের উদ্দেশ্য ছিল, শাহবাগীদের মনে করিয়ে দেওয়া, সাধারণত সভ্য মানুষদের মতো নিয়মিত গোসল করা উচিত। তারা আরো বলেন, আজকে গোসল দেয়া গরুটিকে জবাই করে তারা শাহবাগে গণ ইফতারের আয়োজন করছেন। এ জন্য সাবাইকে দাওয়াত দিয়েছেন তারা। উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের শাহবাগ আন্দোলন, যা ‘গণজাগরণ মঞ্চ’ নামে পরিচিত, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত। এই আন্দোলনের মাধ্যমে কথিত যুদ্ধাপরাধের বিচার করা হয়েছিল। সে সময়, তাদের দাবির প্রেক্ষিতে তৎকালীন সরকার বিরোধী দলগুলোর নেতাদের বিচারিক হত্যা কার্যকর করেছিল। ফলে, সেই আন্দোলন দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অনেক বিরোধিতার মুখোমুখি হয়।

‘পুরো বাংলাদেশ বোন আছিয়ার কাছে ক্ষমাপ্রার্থী, লজ্জিত’
মাগুরায় বোনের বাড়িতে বেড়াতে এসে ধর্ষণের শিকার ৮ বছর বয়সী সেই শিশুটি মারা গেছে। বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) দুপুর ১টায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে শিশুটি। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ইতোমধ্যে শিশুটির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সেই সঙ্গে শিশুটির মৃত্যুতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকেও শোক জানানো হয়েছে। এদিকে ৮ বছরের শিশুটিকে ধর্ষণের ঘটনায় জড়িতদের ইতিহাসের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ। বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেয়া এক পোস্টে এমন দাবি জানিয়েছেন তিনি। পোস্টে হাসনাত আবদুল্লাহ শিশুটির মারা যাওয়ার কথা জানিয়ে লিখেছেন, ‘আমাদের বোন আছিয়া আর নেই। আছিয়ার ধর্ষণের বিচারের মাধ্যমে বাংলাদেশের ইতিহাসে ধর্ষকদের শাস্তির এক দৃষ্টান্ত স্থাপন হোক। বিচারহীনতা, বিচারে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ এবং দীর্ঘসূত্রতা বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থাকে যে ধ্বংসাবশেষ জায়গায় নিয়ে গিয়েছে, শিশু আছিয়ার ধর্ষকদের মৃত্যুদণ্ড দেয়ার মাধ্যমে সেই বিচার ব্যবস্থা আবার জেগে উঠুক।’ গত ৫ মার্চ বোনের বাড়ি বেড়াতে গিয়ে গভীর রাতে ধর্ষণের শিকার হয় ৮ বছরের শিশুটি। ঘটনার পর শিশুটিকে প্রথমে মাগুরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে স্থানান্তর করা হয় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানেও অবস্থার উন্নতি না হলে ৬ মার্চ রাতে অচেতন অবস্থায় শিশুটিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে ৭ মার্চ রাতে শিশুটিকে লাইফ সাপোর্ট নেয়া হয়। এরপর ৮ মার্চ সন্ধ্যা ৬টায় শিশুটিকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে সংকটাপন্ন অবস্থায় ভর্তি করা হয়। শিশুটির চিকিৎসায় সিএমএইচের প্রধান সার্জনকে প্রধান করে আটজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়ে মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছিল। বোর্ডে ছিলেন- সার্জিক্যাল বিশেষজ্ঞ, স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিদ্যা বিভাগ, প্লাস্টিক সার্জন, শিশু নিউরোলজি বিভাগ, অ্যানেসথেসিয়া, শিশু হৃদ্রোগ বিভাগ, শিশু বিভাগের সার্জন, ইউরোলজি বিভাগ, থোরাসিক সার্জন বিভাগের চিকিৎসকেরা।

এই নির্বাচনেই আ.লীগকে ফেরানোর পরিকল্পনা চলছে : হাসনাত আব্দুল্লাহ
এই নির্বাচনেই আওয়ামী লীগকে ফেরানোর পরিকল্পনা চলছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ। আজ বুধবার (১২ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের নিজের ভেরিফায়েড একাউন্টের এক স্ট্যাটাসে হাসনাত আব্দুল্লাহ এ মন্তব্য করেন। ফেসবুক স্ট্যাটাসে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘এই নির্বাচনেই আওয়ামী লীগকে ফেরানোর পরিকল্পনা চলছে। ‘রিফাইন্ড’ আওয়ামী লীগ নামে নতুন একটি ‘টেবলেট’ নিয়ে শিগগিরই হাজির হবে।’ হাসনাত আব্দুল্লাহ আরও বলেন, ‘যারা এই পরিকল্পনা করছেন, আমি আপনাদের সতর্ক করে দিচ্ছি, এখানে কোনো ‘ইফস’ এবং ‘বাটস’ নেই। বিচারের পূর্বে আওয়ামী লীগের যেকোনো ধরনের পুনর্বাসনের চেষ্টার আলাপ দেশের সার্বভৌমত্বকে হুমকির মুখে ফেলবে। সুতরাং ‘রিফাইন্ড’ আওয়ামী লীগের ট্যাবলেট নিয়ে হাজির হবেন না। আওয়ামী লীগের বিচার নিশ্চিত হওয়ার পূর্বে আর কোনো আলাপ নয়। ফুলস্টপ।’

দুই তরুণীকে হেনস্তা করা সেই রিংকু কারাগারে
রাজধানী ঢাকার লালমাটিয়ায় একটি চায়ের দোকানে দুই তরুণীর ধূমপানে বাধাদান ও তাদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে গ্রেফতার সেই রিংকুকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (১১ মার্চ) তাকে আদালতে হাজির করে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করে পুলিশ। অন্যদিকে তার জামিন চেয়ে আবেদন করেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাসুমা রহমান রিংকুর জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। জানা যায়, গত ২ মার্চ রাজধানীর লালমাটিয়ার একটি চায়ের দোকানে দুই তরুণী প্রকাশ্যে ধূমপান করছিলেন। এ সময় এক বয়স্ক ব্যক্তি তাদের ধূমপান নিয়ে আপত্তি জানান, যা নিয়ে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং রিংকু নামের এক ব্যক্তি তরুণীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও শারীরিক লাঞ্ছনার চেষ্টা করেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি শান্ত করলেও ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। পরে সোমবার (১০ মার্চ) পুলিশ অভিযুক্ত রিংকুকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের পর ফেসবুকে পোস্ট করে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।

‘লালমাটিয়ায় তরুণীকে লাঞ্ছিত করা রিংকু গ্রেফতার’
রাজধানীর লালমাটিয়ায় চায়ের দোকানে ধূমপান করা নিয়ে দুই তরুণীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় অভিযুক্ত রিংকুকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী সোমবার (১১ মার্চ) এক ফেসবুক পোস্টে এই তথ্য জানান। ফারুকী তার পোস্টে লিখেছেন, ‘লালমাটিয়ার উত্ত্যক্তকারী রিংকুকে গতকাল রাতে গ্রেফতার করা হয়েছে।’ এরপর তিনি গায়িকা ফারজানা ওয়াহিদ শায়ানের একটি গানের লাইন উল্লেখ করেন। গত ২ মার্চ, রাজধানীর লালমাটিয়ায় একটি চায়ের দোকানে দুই তরুণী প্রকাশ্যে ধূমপান করছিলেন। এ সময় এক বয়স্ক ব্যক্তি তাদের ধূমপান নিয়ে আপত্তি তোলেন, যা নিয়ে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। মুহূর্তেই সেখানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে জড়ো হন। একপর্যায়ে রিংকু নামের এক ব্যক্তি তরুণীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও শারীরিক লাঞ্ছনার চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বিষয়টির মীমাংসা করে। কিন্তু ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অনেকে সামাজিকভাবে এরা নিন্দা জানান এবং অভিযুক্তের শাস্তির দাবি তোলেন। আবার অনেকেই প্রকাশ্যে ধূমপানের বিরোধিতা করেন। বিশেষ করে নারীদের ধূমপান নিয়েও অনেকে সমালোচনা করেন। বিক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়া এই ঘটনার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেন অনেকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবি করেন এবং এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চান। মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে এক বিক্ষোভ সমাবেশে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার কুশপুত্তলিকাও দাহ করেন। ঘটনার জেরে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। পরে অভিযুক্ত রিংকুকে গ্রেফতার করা হয়। তবে তার বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত জানানো হয়নি। এই ঘটনায় এখনও পুলিশের আনুষ্ঠানিক কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

গণঅভ্যুত্থানের পরে সমাজে কোনো পরিবর্তন আসেনি : ড. সামিনা লুৎফা
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো না থাকলে অন্য ঘটনার সঙ্গে নারীর ওপর অভিঘাত বেশি হয়। নির্যাতন, হামলা ও ধর্ষণের ঘটনা বাড়ে। আদতে গণঅভ্যুত্থানের পর সমাজে কোনো পরিবর্তন আসেনি। এর মানে এটা না, ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের আমলের চেয়েও পরিস্থিতি অনেক খারাপ হয়ে গেছে। তবে কয়েক দিনের ঘটনায় সরকারের পক্ষ থেকে নির্যাতকের পক্ষে সাফাই গাওয়ায় অনেক বেশি প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। বিশেষত নারীরা অনেক বেশি ক্ষুদ্ধ হয়েছেন। লালমাটিয়ায় ভুক্তভোগী নারীর ওপর হামলা হয়েছে, যা ফৌজদারি অপরাধ। কিন্তু সরকারের সর্বোচ্চ মহল থেকে এ ঘটনায় হামলাকারীদের তো আইনের আওতায় নেওয়াই হয়নি বরং সরকারের পক্ষ থেকে হামলাকারীদের মুরব্বি বলে তাদের পক্ষালম্বন করা হয়েছে। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী নির্যাতনের ঘটনায় এ রকম একটা পরিস্থিতি তৈরি করা হলো, নির্যাতনের পক্ষে একটা গোষ্ঠী সারারাত থানার সামনে অবস্থান করল। স্বীকৃত নির্যাতকের মুক্তির দাবি জানানো হলো। সর্বশেষ সরকার এ রকম একটা অপরাধীকে এক দিনের মাথায় জামিন দিতে বাধ্য হলো। পরে সেই অপরাধীকে নির্ধারিত গোষ্ঠীটি বীরের বেশে বরণ করে নিল। একজন অপরাধীকে যদি বীর হিসেবে দেখানো হয়, তবে অন্যরাও একই অপরাধ করতে অনুপ্রাণিত হবে। আর বাদী নিরাপত্তাহীন হয়ে ভাববে, সে মামলা চালাবে কিনা? এই পরিস্থিতিতে নারীরা দেখতে পেল সমাজ ও রাষ্ট্রে ধর্ষণ আর হত্যাকাণ্ড বেড়ে যাওয়ার পরও সরকার ও বিভিন্ন গোষ্ঠী নারীর বিপক্ষে অবস্থান নিচ্ছে। রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকেও সহযোগিতা পাচ্ছে না তারা। গত শনিবার পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক দল এসব নিয়ে কথা বলেনি। আর আট বছর বয়সী শিশু ধর্ষণের ঘটনাটি নারীদের মধ্যে ক্ষোভের স্ফুলিঙ্গ হিসেবে কাজ করে। তারা তাদের আত্মসম্মান ও অধিকার ফিরে পেতে রাস্তায় নেমেছে। তাই শনিবার আন্তর্জাতিক নারী দিবসটি কেটেছে অত্যন্ত বেদনার মধ্যে। এর চেয়ে আরও বেদনাদায়ক হচ্ছে, আমাদের সমাজে নির্যাতনের শিকার একজন নারীকে যেভাবে উপস্থাপন করা হয়। আমাদের মূলধারার গণমাধ্যম এসব বিষয়ে সতর্ক থাকলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্যাতনের শিকার নারীর নাম, পরিচয় ও ছবি প্রকাশ করা হচ্ছে। এসব বিষয়ে আমরা একবারও খেয়াল করছি না, মেয়েটা যদি বেঁচে যায় তাহলে সে কি সমাজে যেতে পারবে? তার পরিবার সমাজে কীভাবে চলবে? নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুর পরিচয় প্রকাশে বিধিনিষেধ আছে। কিন্তু এই আইন মানছে না কেউ। নির্যাতনের শিকার নারীর পরিচয় প্রকাশের ক্ষেত্রে আমাদের আরও সচেতন হতে হবে। সাম্প্রতিক সময়ের ঘটনায় নারী নির্যাতনকারীকে জনসমক্ষে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি আবার উঠেছে। এটা আরও ভয়াবহ। শাস্তি যত কঠোর, মামলায় জেতার সম্ভাবনা তত কম। কারণ, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ভিকটিমকে বাঁচতে দেওয়া হবে না। সাম্প্রতিক সময়ে ফ্যাসিস্ট সরকারের লোকজন নারী নির্যাতনকে ঘিরে মিথ্যা তথ্যও ছড়াচ্ছে। তবে প্রতিটি ধর্ষণ ও নির্যাতনের ঘটনার বিচার করতে হবে। লেখক : সহযোগী অধ্যাপক, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

অফিসে আসতে দেরি, কর্মীদের বেত্রাঘাত এমডির
অফিসে দেরি করে আসায় এক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তার কর্মীদের বেত্রাঘাত করেছেন। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা দ্রুত ভাইরাল হয়। তবে ঘটনাটি কোথায় ঘটেছে, সেটি বোঝা না গেলেও, বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটির এমডি কর্মীদের লাইনে দাঁড় করিয়ে একজন একজন করে বেত্রাঘাত করছেন, আর আশপাশে থাকা অন্য কর্মীরা সে দৃশ্য চুপচাপ দেখছেন। এ সময় কাউকে ‘অফিসে ঝগড়া করো?’ বলে পেটাচ্ছেন, আবার কাউকে দেরিতে আসায় ‘টাইম লস্ট, এভরিথিং ইজ লস্ট’ বলে পেটাচ্ছেন। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিভিন্ন মহল থেকে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানানো হচ্ছে। অনেকেই এটিকে শ্রম আইনের লঙ্ঘন আখ্যা দিয়ে বিষয়টির খোঁজ নিয়ে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছেন। তবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা ব্যাখ্যার খবর পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় শ্রম অধিকার সংগঠনগুলোও নড়েচড়ে বসেছে এবং তারা এ ধরনের আচরণকে অমানবিক ও অন্যায় বলে উল্লেখ করেছে। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপের দাবি জানানো হয়েছে।

সাবেক বিডিআর সদস্যসহ কেন্দ্রীয় কারাগারের ২ বন্দির মৃত্যু
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাবেক বিডিআর সদস্যসহ ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের (কেরানীগঞ্জ) দুই বন্দির মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন, সাবেক বিডিআর সদস্য শেখ জোবায়ের হোসেন (৬৫) ও কারাবন্দি শামসুল আলম (৪৪)। ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. ফারুক এ তথ্য জানান। হাসপাতাল ও কারাসূত্রে থেকে জানা গেছে, শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সাজাপ্রাপ্ত কারাবন্দি সাবেক বিডিআর সদস্য শেখ জোবায়ের হোসেন। তাকে গত ৫ মার্চ রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার দরগাইপুর গ্রামের আব্দুল গফুরের ছেলে শেখ জোবায়ের। অপর দিকে, অসুস্থতার কারণে গত ৪ ফেব্রুয়ারি একটি বিচারাধীন মামলার আসামি শামসুল আলমকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার দিবাগত ২টার দিকে তিনি মারা যান। তিনি চাটখিল থানার একটি মামলায় বন্দি ছিলেন। নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ী উপজেলার উলুপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুর রবের ছেলে শামসুল আলম। মো. ফারুক বলেন, ‘তাদের দুজনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে।’

সড়ক-মহাসড়কে বেড়েছে ডাকাতি ও ছিনতাই, ঈদযাত্রা নিয়ে শঙ্কা
সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন সড়ক-মহাসড়কে বেড়েছে ডাকাতি ও ছিনতাই। শুধু রাতেই নয়, দিনদুপুরেও সড়কে যাত্রীবাহী বাস থামিয়ে, গাছ ফেলে হানা দিচ্ছে ডাকাতরা। যাত্রীদের মারধর করে সর্বস্ব লুট করে নিয়ে যাচ্ছে তারা। কয়েক দিনের ব্যবধানে একাধিকবার শুধু ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সাভারে একই স্থানে দিনেদুপুরে যাত্রীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় পরিবহনের যাত্রীসহ সাধারণ মানুষে মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। সড়কে ডাকাতির কারণে আসন্ন ঈদে পরিবহন খাতে অর্ধেক বাজার হারানোর আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের। ফলে সড়ক-মহাসড়কে নিরাপত্তায় প্রশাসন কী ব্যবস্থা নিচ্ছে— তা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। এদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ‘নিষ্ক্রিয়তা’ ও ‘ঢিলেঢালা টহল ব্যবস্থার’ কারণেই ডাকাতি বাড়ছে বলে দাবি করছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো। ডাকাত-আতঙ্কে দেশের সড়ক-মহাসড়কে ক্রমেই দূরপাল্লার যাত্রীও কমছে বলে দাবি করেছে যাত্রী কল্যাণ সমিতি। আর হাইওয়ে পুলিশ বলছে, নানান সীমাবদ্ধতা থাকার পরও মহাসড়কে নিরাপত্তা বাড়াতে এরইমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগসহ জনবল বাড়ানো হয়েছে। সেইসঙ্গে হাইওয়ে থানার পাশাপাশি জেলা পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে সড়কগুলোতে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। তাদের তথ্য অনুযায়ী, গত দেড় মাসে দেশের বিভিন্ন মহাসড়কে ডাকাতির ঘটনায় ১৬টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় অনেককে গ্রেফতারও করা হয়েছে। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি দুপুরে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ‘পুলিশ টাউন’ এলাকায় ‘শুভযাত্রা পরিবহন’-এর একটি বাসে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। এ সময় ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে বাসের তিন যাত্রী আহত হন। এর ১৫ দিন পর গত ২ মার্চ একই স্থানে দিনেদুপুরে আরেকটি ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার ভুক্তভোগী বাসযাত্রী নাজমুল হোসেন জানান, দুপুরে আশুলিয়ার শ্রীপুর থেকে ‘রাজধানী পরিবহন’-এর একটি বাসে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন তিনি। বাসটি ২০-২৫ জন যাত্রী নিয়ে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পুলিশ টাউন এলাকায় থামলে ডাকাতের কবলে পড়ে। এ সময় পাঁচ থেকে ছয় জন ডাকাত দেশীয় অস্ত্রের মুখে বাসের যাত্রীদের মানিব্যাগ, মোবাইল ফোন, স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান জিনিস ছিনিয়ে নেয়। ডাকাতরা তার মোবাইলটিও ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত বাস থেকে নেমে পালিয়ে যায়। তিনি আরও বলেন, ‘দিনেদুপুরে চলন্ত বাসে ডাকাতি শিকার হলাম। দিনের বেলায় বাসে উঠে ছিনতাই করছে, এতে সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত।’ এর আগে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ভোর সোয়া ৪টার দিকে টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে শিক্ষা সফরের চারটি বাস ডাকাতির কবলে পড়ে। এসময় ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া থেকে নাটোরের একটি পার্কের উদ্দেশে যাচ্ছিল শিক্ষা সফরের দলটি। সড়কে গাছ ফেলে ডাকাত দল বাসগুলোতে থাকা শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মুঠোফোন, টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায়। জাতীয় জরুরি সেবা নম্বরে (৯৯৯) ফোন করায় পুলিশ এসে পড়ায় পালিয়ে যায় ডাকাতরা। এ ঘটনায় ২৬ ফেব্রুয়ারি ঘাটাইল উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ৪ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তার আগে দেশজুড়ে আলোচিত হয় ঢাকা থেকে রাজশাহীগামী চলন্ত বাসে ডাকাতির ঘটনা। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে ‘ইউনিক রয়েল আমরি ট্রাভেলস’ নামক বাসে ডাকাতি ও নারী যাত্রীদের ওপর যৌন হয়রানির অভিযোগ ওঠে। বাসটি ঢাকা থেকে রাজশাহী যাচ্ছিল। বাসের যাত্রীদের ভাষ্যমতে, ওই দিন রাত ১১টায় ঢাকার গাবতলী থেকে বাসটি ছাড়ে। রাত সাড়ে ১২টার দিকে বাসটিতে ডাকাতরা অস্ত্রের মুখে যাত্রীদের জিম্মি করে। প্রায় সাড়ে ৩ ঘণ্টা ধরে বাসটিকে বিভিন্ন স্থানে ঘুরিয়ে ডাকাতি ও দুই নারীর শ্লীলতাহানি করে ডাকাত দল। এ ঘটনায় মূল হোতাসহ কয়েকজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পুলিশের পরিসংখ্যান বলছে, সাম্প্রতিককালে ডাকাতি ও দস্যুতার (ছিনতাই) ঘটনায় মামলা বেড়েছে। গত আগস্ট থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত ছয় মাসে ডাকাতি ও দস্যুতার ঘটনায় মামলা হয়েছে ১ হাজার ১৪৫টি, যা ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে ২০২৪ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ের তুলনায় ৩৮২টি বেশি (৫০ শতাংশ)। প্রতি বছরে দুই ঈদে দিনাজপুরে নিজ গ্রামে যান বেসরকারি চাকরিজীবী রবিউল ইসলাম। যাত্রাপথে বাসে দীর্ঘ সময় তাকে কাটাতে হয়। সাধারণত রাতেই রওনা হন ঢাকা থেকে। পৌঁছেন ভোরে। তিনি বলেন, দিনের বেলায়ই যদি সড়ক নিরাপদ না থাকে, রাতের বেলায় তো আরও বিপদ। তাহলে যাত্রাপথে ভয় থেকে যায়। আমি বেশিরভাগ সময় রাতেই রওনা করি। সড়কে নিরাপত্তা বাড়ানো জরুরি। ঢাকা থেকে সাভার অভিমুখী সাভার পরিবহনের বাসচালক সাদ্দাম হোসেন বলেন, ইদানীং বাসে ডাকাতি হচ্ছে শুনছি। সামনে ঈদের বাজার। আমরা স্বাচ্ছন্দ্যে গাড়ি চালাতে চাই। সড়কে নিরাপত্তা বাড়ালে আমাদের জন্য ভালো হয়। যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ডাকাতি-ছিনতাই হচ্ছে শুধু মহাসড়কেই না। এই ঘটনাগুলো জেলা, থানা পর্যায়ে ও বিভিন্ন আঞ্চলিক সড়কেও হচ্ছে। ফলে এসব পথে চলাচল করা যাত্রীদের মধ্যে ভয়ভীতি কাজ করছে। যার কারণে ক্রমেই যাত্রীর সংখ্যাও কমে আসছে। আমরা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করেছি। খোঁজ-খবর নিয়েছি। সড়কেও এখনও পুলিশ সক্রিয় হতে পারেনি। এ কারণে এবার ঈদ কেন্দ্র করে এ সেক্টর অর্থনৈতিকভাবে বড় ধরনের ধাক্কার মুখোমুখি হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ঈদে ৬০ হাজার কোটি টাকার বাজার আছে এ সেক্টরে। সেটি নেমে ৩০ কোটি হাজার অর্থাৎ অর্ধেকে নেমে আসতে পারে। হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি (অপারেশনস উত্তর বিভাগ) ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘ঈদের আগে মহাসড়কে যানজটে যাত্রীদের ভোগান্তি আমরা দেখেছি। তবে এবার যেটা হচ্ছে মহাসড়কে অপরাধ বেড়েছে। ৫ আগস্টে পর পুলিশের অন্যান্য ইউনিটের পাশাপাশি হাইওয়ের পুলিশও নানা সংকটে মুখে পড়েছে। সীমাবদ্ধতার মধ্যে এখনও দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে আমাদের সদস্যদের। আমাদের গাড়ির সংকট রয়েছে। ফোর্সের সংখ্যাও কম।’ সারা দেশে ৮ হাজার কিলোমিটার সড়কে হাইওয়ে পুলিশ দায়িত্ব পালন করে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এর বিপরীতে আমাদের ফোর্সের সংখ্যা মাত্র আড়াই হাজার। সীমিত সংখ্যক বাহিনী নিয়ে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আমরা ইতোমধ্যে ফোর্সের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য বলেছি। পাশাপাশি প্রতিটি হাইওয়ে থানা ও জেলা পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে দায়িত্ব পালন করবে। সে ব্যবস্থাগুলো আমরা নিচ্ছি।’

রাজনীতিতে আসার পর আমাকে গে অ্যাক্টিভিস্ট হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে কিছু মানুষ
রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার পর কিছু মানুষ ডাক্তার তাসনিম জারাকে ‘গে অ্যাক্টিভিস্ট’ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন। যা পুরোটাই বানানো গল্প বলে দাবি করেছেন তাসনিম জারা। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে এ দাবি করেন তিনি। তাসনিম জারা নতুন ঘোষিত রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব। নতুন রাজনৈতিক দলে পদ পাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি পক্ষ তার পেশাগত বিষয় নিয়ে সমালোচনা শুরু করেছেন। বিভিন্ন মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে তাসনিম জারার বিরুদ্ধে। আজকের ফেসবুক পোস্টে তাসনিম জারা বলেন, ‘রাজনীতিতে আসার পর আমাকে গে অ্যাক্টিভিস্ট হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে কিছু মানুষ। তাদের দাবি হচ্ছে, আমি ব্র্যাকের সঙ্গে এই কাজ করি। আমি এ বিষয়ে সত্যটা তুলে ধরব। যাতে কোনটা সত্য আর কোনটা তাদের বানানো গল্প সেটা আপনি নিজেই ধরতে পারেন।’ তিনি বলেন, ‘ব্র্যাকের সঙ্গে এসআরএইচআর নিয়ে সচেতনতামূলক তিনটি ভিডিও আমি তৈরি করেছি। এই তিনটি ভিডিওই আমার ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া আছে এক বছরের ও বেশি সময় যাবৎ। লাখ লাখ মানুষ ভিডিওগুলো দেখেছে। হাজার হাজার মানুষ কমেন্ট করে জানিয়েছে ভিডিও থেকে তারা উপকার পেয়েছে। প্রতিটা ভিডিওতে ব্র্যাকের নাম ও লোগো খুব স্পষ্টভাবে দেওয়া আছে কোনো লুকোছাপা নেই।’ ভিডিওগুলোর বিষয়বস্তু আমি তুলে ধরছি এবং সঙ্গে লিংকও দিয়ে দিচ্ছি - আপনি নিজেও চেক করে নেবেন। প্রথম ভিডিওর বিষয়বস্তু ছিল অনিয়মিত মাসিক বোঝার উপায় কী এবং মাসিক অনিয়মিত হলে করণীয় কী? মেয়েদের মাসিক প্রতি মাসে নির্দিষ্ট বিরতিতে হয় না, এটা স্বাভাবিক। তবে এই তথ্য না জানার কারণে অনেকে দুশ্চিন্তায় থাকেন। এই ধারণা দূর করা ও কী হলে ডাক্তারের কাছে যেতে হবে সেটা জানানোই ছিল ভিডিওটার মূল বিষয়বস্তু। (https://www.facebook.com/DoctorTasnimJara/videos/402849398757714) স্বপ্নদোষ হলে অনেকে দুশ্চিন্তা করেন যে তাদের শরীর দুর্বল হয়ে যায়। আবার কত বার স্বপ্ন দোষ হওয়া স্বাভাবিক তা নিয়েও অনেকের দুশ্চিন্তা করেন। এটা নিয়ে ছিল দ্বিতীয় ভিডিও। (https://www.facebook.com/DoctorTasnimJara/videos/667255245426418) তৃতীয় ভিডিওটা কিশোর-কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে। আমি দুশ্চিন্তা দূর করার কিছু প্রমাণিত টেকনিক শিখিয়েছি। (https://www.facebook.com/DoctorTasnimJara/videos/420114260452412) জাতীয় নাগরিক পার্টর এই নেতা আরো বলেন, ‘এই তিনটা ভিডিওর কমেন্ট পড়লে দেখবেন কত মানুষের উপকার হয়েছে। এই কাজকে যারা গে অ্যাক্টিভিজম হিসেবে তুলে ধরছেন, তাদের উদ্দেশ্য কী সেটা তাদের নাম-পরিচয় ও আগের পোস্টগুলো দেখে আপনারা নিজেরাই বুঝতে পারবেন।’ ‘ব্র্যাকের সঙ্গে এটা আমার একমাত্র কাজ নয়। ব্র্যাকের সঙ্গে আমি উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের উপায় সংক্রান্ত একটা প্রজেক্টে কাজ করেছি। করোনাকালীন কাজ করেছি।’
জিপিস্টার গ্রাহকদের জন্য এপেক্সে ঈদ অফার
ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে জিপিস্টার গ্রাহকদের বিশেষ সুবিধা দিতে এপেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেডের সাথে চুক্তি করেছে গ্রামীণফোন। দেশজুড়ে এপেক্সের ৩০০ আউটলেটে এই সুবিধা পাবেন গ্রাহকরা। লয়ালটি প্রোগ্রামকে আরো আকর্ষণীয় করতে সংকল্পবদ্ধ গ্রামীণফোন। টেলিযোগাযোগ সেবার বাইরে গ্রাহকদের অনন্য সুবিধা প্রদানের এই পদক্ষেপটি সেই প্রতিশ্রুতিরই প্রতিফলন। গ্রামীণফোনের হেড অব পার্টনারশিপস মুনিয়া গনি ও এপেক্স ফুটওয়্যারের হেড অব মার্কেটিং রায়হান কবির সম্প্রতি এ বিষয়ক চুক্তিতে সই করেন। রাজধানীর গুলশানে অ্যাপেক্স হেড অফিসে আয়োজিত ওই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উভয় কোম্পানির উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। যে কোন এপেক্স আউটলেট বা অনলাইনে (www.apex4u.com) কমপক্ষে ৩ হাজার টাকার পণ্য কিনলে ৩০০ টাকা ছাড় পাবেন জিপিস্টার সিগনেচার ও প্লাটিনাম গ্রাহকরা। মাসব্যাপী অফারটি শুরু হয়েছে গত ১ মার্চ থেকে এবং প্রথম ১০ হাজার গ্রাহক অফারটি পাবেন। অফারটি গ্রহণ করতে ‘APEX’ লিখে ২৯০০০ নাম্বারে পাঠাতে হবে জিপিস্টার গ্রাহকদের (প্লাটিনাম ও সিগনেচার স্টার গ্রাহক)। এরপর ছাড়ের জন্য তারা এসএমএসের মাধ্যমে একটি ক্যুপন কোড পাবেন যা আউটলেটে দেখাতে হবে। মুনিয়া গনি বলেন, ‘জিপিস্টার গ্রাহকদের জীবনযাত্রার মানকে আরো সমৃদ্ধ করতে এপেক্সের সাথে এই পার্টনারশিপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমাদের বিশ্বাস; যা তাদের জন্য কার্যকর ও মানসম্মত সুবিধা নিশ্চিত করবে। আশা করি, এই পার্টনারশিপের মাধ্যমে আকর্ষণীয় অফার পাবেন গ্রাহকরা।’ মো. রায়হান কবির বলেন, ‘গ্রামীণফোনের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে জিপিস্টার গ্রাহকদের বিশেষ সুবিধা দিতে পেরে আমরা আনন্দিত। এর ফলে এপেক্সে তাদের কেনাকাটা আরো আনন্দময় হয়ে উঠবে।’ প্রিমিয়াম গ্রাহকদের সব সময় মূল্যায়ন করে গ্রামীণফোন। তাদের সুবিধার জন্যই এই পার্টনারশিপ; যাতে ঈদ উপলক্ষে তাদের কেনাকাটা হয়ে উঠে আরো আকর্ষণীয় ও উপভোগ্য।

বাংলাদেশকে অমর্ত্য সেনের সবক দেওয়ার প্রয়োজন নেই: জামায়াত আমির
ভারতের নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের বাংলাদেশকে সহনশীলতার সবক দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সোমবার (৩ মার্চ) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন। জামায়াত আমির লিখেছেন, ভারতের নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন সম্প্রতি বাংলাদেশের আভ্যন্তরীণ ব্যাপারে অনাকাঙ্ক্ষিত নাক গলানোর মত কথা বলেছেন। জানি না তার বিবেক কোথায়। বাংলাদেশকে সহনশীলতার সবক দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। তিনি যে দেশে এবং সমাজে বসবাস করেন, সেই সমাজের আয়নায় নিজেকে দেখার চেষ্টা করুন। বাংলাদেশের জনগণ টানা সাড়ে ১৫ বছর সেক্যুলারিজমের নামে চরম ভণ্ডামি প্রত্যক্ষ করেছে। তিনি (অমর্ত্য সেন) পতিত স্বৈরাচারের পক্ষে খোলামেলা ওকালতি করছেন। যা বিস্ময়কর, অগ্রহণযোগ্য ও নিন্দনীয়। জামায়াতে ইসলামী সম্পর্কে যা বলেছেন তার বদ্ধমূল ধারণা থেকে বলতে চেয়েছেন। বাস্তবতা পুরোটাই উল্টো। সংখ্যালঘু বলে তিনি যাদেরকে চিহ্নিত করেছেন, সেই সমস্ত ভাই-বোনদের উপর নির্যাতনকারী দানবের নাম হচ্ছে আওয়ামী লীগ। সাহস থাকলে তা বলে দিন। পারবেন না। কারণ আপনারা সীমাবদ্ধ সুশীল। বাংলাদেশের আভ্যন্তরীণ ব্যাপারে সময়-অসময়ে নাক গলানো দেশপ্রেমিক জনগণ একেবারেই পছন্দ করেন না।

কনটেন্ট ক্রিয়েটর কাফির গ্রেপ্তার নিয়ে যা জানা গেল
কিছু দিন আগেই আগুনে পুড়ে গেছে কনটেন্ট ক্রিয়েটর নুরুজ্জামান কাফির বাড়ি। গত ১২ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত ৩টা ৫৫ মিনিটে কাফি নিজ ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে তার বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে অভিযোগ করেন। এরই প্রেক্ষিতে, ‘নিজের বাড়িতে নিজে আগুন দিয়ে অগ্নিসংযোগের নাটক। যৌথ বাহিনীর অভিযানে গ্রেপ্তার কনটেন্ট ক্রিয়েটর কাফি’ শীর্ষক একটি দাবি প্রচার করা হয়েছে। শনিবার (১ মার্চ) আন্তর্জাতিক স্বীকৃত বাংলাদেশের ফ্যাক্ট চেকিং বা তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান রিউমর স্ক্যানার এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তাদের অনুসন্ধানে জানা যায়, কনটেন্ট ক্রিয়েটর নুরুজ্জামান কাফিকে যৌথ বাহিনীর অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয়নি বরং কোন প্রকার তথ্য প্রমাণ ছাড়াই এমন দাবিটি প্রচার করা হয়েছে। অনুসন্ধানের শুরুতে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওতে ব্যবহৃত ফুটেজগুলো পর্যবেক্ষণ করে রিউমর স্ক্যানার টিম। ভিডিওর শুরুতে এক সংবাদ উপস্থাপকের সংবাদ পাঠের ফুটেজ দেখানো হয়। উপস্থাপককে বলতে দেখা যায়, ‘কনটেন্ট ক্রিয়েটর নুরুজ্জামান কাফিকে যৌথ বাহিনীর অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, অভিযোগ ছিল সে নিজের বাড়িতে নিজেই অগ্নি সংযোগের নাটক সাজিয়েছে।’ তবে, পর্যবেক্ষণে উপস্থাপকের কথা বলার ভঙ্গির সাথে অডিওর অসামঞ্জস্যতা পাওয়া যায়। এছাড়া ভিডিওতে দাবি করা হয়, যৌথ বাহিনীর অনুসন্ধানে উঠে এসেছে অগ্নিসংযোগের মূল হোতা কাফি নিজেই। আরও বলা হয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নুরুজ্জামান কাফি পূর্বপরিকল্পিতভাবে নিজ বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেন এবং পরে রাজনৈতিকভাবে সুবিধা আদায়ের উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেন। তবে নুরুজ্জামান কাফি পূর্বপরিকল্পিতভাবে নিজ বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেন দাবিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোনো প্রতিবেদনে প্রকাশ করেছে কিনা জানতে প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চ করেও মূলধারার গণমাধ্যম বা নির্ভরযোগ্য সূত্রে কোনো তথ্যপ্রমাণ খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাছাড়া, নুরুজ্জামান কাফির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, তিনি নিয়মিত ফেসবুকে সক্রিয় রয়েছেন। অর্থাৎ, এটি নিশ্চিত যে নুরুজ্জামান কাফির গ্রেপ্তারের দাবিটি মিথ্যা। আলোচিত ভিডিওগুলোর থাম্বনেইলে কাফির গ্রেপ্তারের দাবিতে প্রচারিত ছবিগুলো আলাদাভাবে যাচাই করে দেখেছে রিউমর স্ক্যানার টিম। ছবি যাচাই ১: ছবিটি রিভার্স ইমেজে সার্চ করে ডেইলি সানের ওয়েবসাইটে ২০২০ সালের ৮ নভেম্বর প্রকাশিত ‘ইফরান সেলিম, বডিগার্ড পুট গস ফাইভ-ডে রিমান্ড’ শীর্ষক শিরোনামের প্রতিবেদনের ফিচার ইমেজের সঙ্গে আলোচিত ছবির মিল খুঁজে পাওয়া যায়। প্রতিবেদনটি থেকে জানা যায়, এটি ঢাকার আদালত প্রাঙ্গণে তোলা হাজী সেলিমের ছেলে ইরফান সেলিমের ছবি। সেদিন (৮ নভেম্বর) একাধিক মামলায় ইরফান সেলিমকে রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। অর্থাৎ, কাফির ছবি দাবিতে প্রচারিত এই ছবিটি এডিট করা। এখানে ইরফান সেলিমের মুখে সম্পাদনার মাধ্যমে প্রতিস্থাপন করে কাফির মুখ বসানো হয়েছে। ছবি যাচাই ২: ছবিটি রিভার্স ইমেজ সার্চ করে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ওয়েবসাইটে গত ২১ জানুয়ারি প্রকাশিত ‘কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা কবির শিকদার গ্রেপ্তার’ শীর্ষক শিরোনামের প্রতিবেদনের ফিচার ইমেজের সাথে আলোচিত ছবির মিল খুঁজে পাওয়া যায়। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা কবির শিকদারকে গ্রেপ্তার করেছে সেনাবাহিনী। গত ১৬ জানুয়ারি দিবাগত রাত তিনটায় সেনাবাহিনী কুমিল্লা ২৩ বীর অভিযান চালিয়ে নগরীর মোঘলটুলি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। অর্থাৎ, কাফির ছবি দাবিতে প্রচারিত এই ছবিটিও এডিটেড। এখানে কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা কবির শিকদারের গ্রেপ্তারকৃত ছবিতে কাফির মুখমণ্ডল বসানো হয়েছে। ছবি যাচাই ৩: ছবিটি রিভার্স ইমেজে সার্চ করে সময় টিভির ওয়েবসাইটে ২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বর ‘ফেনীতে ভুয়া সেনা সদস্য আটক’ শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ফিচার ইমেজের সঙ্গে মিল রয়েছে। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, ফেনীর মহিপাল সার্কিট হাউজ রোড এলাকা থেকে মো. নাজমুল হাসান (২৫) নামের এক ভুয়া সেনা সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে যৌথবাহিনী। সোমবার (২০২৪ সালের ৯ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে মহিপাল এলাকা থেকে তাকে আটক করে। অর্থাৎ, কাফির ছবি দাবিতে প্রচারিত এই ছবিও এডিট করা। এখানে গ্রেপ্তারকৃত ভুয়া সেনা সদস্যের মুখমণ্ডলে কাফির মুখমণ্ডল বসানো হয়েছে। সুতরাং, নিজের বাড়িতে নিজে আগুন দেওয়ার অভিযোগ কনটেন্ট ক্রিয়েটর নুরুজ্জামান কাফিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে শীর্ষক দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা।