
ছাদ ভর্তি যাত্রী নিয়ে ঢাকা ছাড়ছে ট্রেন
শেষ সময়ে ঈদে বাড়ি ফিরছেন ঘরমুখো মানুষ। ঢাকার কমলাপুরে তাই যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড়। শুরু থেকে এবারের ট্রেনযাত্রা স্বস্তিদায়ক হলেও শনিবার (২৯ মার্চ) সন্ধ্যার পর তার উল্টো চিত্র দেখা গেছে। শনিবার কুড়িগ্রামগামী আন্তঃনগর কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ও পঞ্চগড়গামী পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ট্রেন প্রথমে ছাদ ভর্তি যাত্রী নিয়ে নির্ধারিত সময়ে ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন ছেড়ে যায়। এরপর লালমনিরহাটগামী আন্তঃনগর ট্রেন লালমনি এক্সপ্রেস রাত ৯টা ৪৬ মিনিটে ছাদ ভর্তি মানুষ নিয়ে দেশের প্রধান ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন (কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন) ছেড়েছে। শনিবার রাতে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে এমন চিত্র দেখা গেছে। ঢাকা ছেড়ে যাওয়া ট্রেনগুলোর এসি কোচ ছাড়া প্রতিটি কোচের আসন ছিল যাত্রীতে পরিপূর্ণ। এছাড়া কোচগুলোর ভেতরেও যে যেখানে পেরেছেন দাঁড়িয়ে অবস্থান নিয়েছেন। মানুষের ভিড় এতটাই যে কোচগুলোর দরজা দিয়ে ভেতরে প্রবেশের কোনো সুযোগ নেই। দরজাগুলোতে বাদুড়ঝোলা হয়েও মানুষ যাত্রা করেছেন। এসব ট্রেনের ছাদে শত শত মানুষ অবস্থান করছেন। তারা পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়েই ট্রেনের ছাদে উঠেছেন। তারপরও রেলওয়ে কর্মীরা ও পুলিশের সদস্যরা তাদের ছাদে উঠতে নিরুৎসাহিত করেছেন।এছাড়া বিভিন্ন ট্রেনের অসংখ্য যাত্রী প্ল্যাটফর্মে অবস্থান করতে দেখা গেছে। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ রেলওয়ে ঢাকা বিভাগীয় ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) মোহাম্মদ মহিউদ্দিন আরিফ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘কেউ যেন ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ করতে না পারে, সেজন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। কিন্তু তারপরও ঘরমুখো মানুষ ট্রেনের ছাদে উঠে পড়েছে। এখন যদি আমরা তাদের ফোর্স করে (জোরপূর্বক) নামাতে যাই, এতে যদি কেউ ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে আহত হন, তখন দোষটা রেলওয়েরই হবে।’

কেরানীগঞ্জ কারাগারে ঈদের তিনটি জামাত, থাকছে বিশেষ খাবারের আয়োজন
কেরানীগঞ্জে অবস্থিত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে তিনটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে দুইটি জামাত কারাগারের স্টাফদের জন্য এবং একটি জামাতে অংশ নেবেন কারাবন্দিরা। শনিবার (২৯ মার্চ) ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার একেএম মাসুম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সকাল ৭টা ও ১০টায় কারাগারের স্টাফদের জন্য পৃথক দুইটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া সকাল ৮টায় কারাগারের মাঠে বন্দিদের জন্য আরেকটি জামাতের আয়োজন করা হয়েছে। বিশেষ খাবারের আয়োজন: প্রতি বারের মতো এবারও ঈদের দিনে কারাবন্দিদের জন্য বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। একেএম মাসুম জানান, সকালে তাদের জন্য থাকবে মুড়ি, পায়েস অথবা সেমাই। দুপুরের খাবারে পরিবেশন করা হবে গরুর মাংস, মুরগির রোস্ট, ডিম, কোমল পানীয়, সালাদ ও পান-সুপারি। যারা গরুর মাংস খাবেন না, তাদের জন্য খাসির মাংসের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। রাতে থাকবে সাদা ভাতের সঙ্গে রুই মাছ ও আলুর দম। বিনোদন ও স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ: কারা সূত্রে জানা গেছে, ঈদের দ্বিতীয় দিনে বন্দিদের জন্য বিশেষ বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। পাশাপাশি ঈদের দিন স্বাভাবিক নিয়মের চেয়ে পাঁচ মিনিট বেশি সময় ধরে ফোনে বন্দিরা স্বজনদের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন। ঈদের দিন স্বজনরা কারাবন্দিদের সঙ্গে দেখা করতে পারলেও ঈদের দ্বিতীয় দিন বাসা থেকে রান্না করা খাবার নিয়ে আসতে পারবেন। তবে নির্ধারিত নিয়ম মেনে খাবার কারাগারে প্রবেশ করানো যাবে। একেএম মাসুম বলেন, ‘ঈদের দিনে দায়িত্ব পালন করা কারা স্টাফদের জন্য বিশেষ প্রীতিভোজের আয়োজন করা হয়েছে।’

চীন প্রধান উপদেষ্টার সফর গুরুত্ব সহকারে নিয়েছে: মাহফুজুর রহমান
স্বাগতিক দেশ চীন ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সফরটিকে গুরুত্ব সহকারে নিয়েছে বলে জানিয়েছেন সাবেক রাষ্ট্রদূত মাহফুজুর রহমান। তিনি বলেন, ‘এক বছরের কম সময়ের মধ্যে চীনে বাংলাদেশের সরকার প্রধানের দুইটি সফর হয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান উপদেষ্টার সফর তুলনার বিষয় রয়েছে। এর মানে হচ্ছে স্বাগতিক দেশ চীন ড. ইউনূসের সফরটিকে গুরুত্ব সহকারে নিয়েছে। বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে একটা নতুন ভারসাম্য তৈরির প্রচেষ্টা এখানে দেখা গিয়েছে।’ বিশ্লেষকরা বলছেন, ‘ড. ইউনূসের কারণে পূর্বের ঋণের সুদ হার কমানোতে ইতিবাচক মনোভাব, পানি ব্যবস্থাপনা বা বেল্ট অ্যান্ড রোড (বিআরআই) উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রযুক্তির হস্তান্তর ও চীনা প্রযুক্তি নির্ভর প্রতিষ্ঠানগুলোর রিলোকেশনের মতো বিষয়গুলো উঠে এসেছে, যা বাংলাদেশের বাণিজ্য ভবিষ্যতে তৈরি পোশাকখাতের নির্ভরতা কাটিয়ে বৈচিত্র আনতে পারবে।’ অন্য দিকে তিস্তা প্রকল্পের মতো সংবেদনশীল প্রকল্পে চীনকে আমন্ত্রণ জানানোর মাধ্যমে এমন এক অবস্থা তৈরি হয়েছে, যার ফল ইতিবাচক না নেতিবাচকভাবে বাংলাদেশের ঝুলিতে আসবে, তা বুঝতে সময় প্রয়োজন। কারণ এ প্রকল্পে চীনের সম্পৃক্ততার বড় বিরোধীতাকারি হচ্ছে ভারত। সেই সঙ্গে বিআরআইতে যুক্ত হওয়াতে বাংলাদেশের জন্য লাভজনক। তবে বিআরআইতে বাংলাদেশকে যুক্ত করে চীন কতটুকু সুফল পাবে, তার প্রশ্ন থেকেই যায়। প্রধান উপদেষ্টার সফরে চীন সরকার ও প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে মোট ২১০ কোটি মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ, ঋণ ও অনুদানের প্রতিশ্রুতি পেয়েছে বাংলাদেশ। প্রায় ৩০টি চীনা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের বিশেষ চীনা শিল্প অর্থনৈতিক অঞ্চলে এক বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের অঙ্গীকার করেছে, যা প্রধান উপদেষ্টা বেসরকারিখাতকে বাংলাদেশের উৎপাদন শিল্পে বিনিয়োগ করতে আহ্বান জানানোর পর এসেছে। চীন আরও মোংলা বন্দর আধুনিকীকরণ প্রকল্পে প্রায় ৪০ কোটি ডলার ঋণ প্রদান, চীনা শিল্প অর্থনৈতিক অঞ্চলের উন্নয়নে ৩৫ কোটি ডলার এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা হিসেবে আরও ১৫ কোটি ডলার বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। বাকি অর্থ অনুদান ও অন্যান্য ঋণ সহায়তা হিসেবে আসবে।

মেডিকেল সহায়তা নিয়ে মিয়ানমার যাচ্ছে সশস্ত্র বাহিনী
মিয়ানমারে ভয়াবহ ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা ও ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা দ্রুত বাড়ছে। হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে আহতের সংখ্যা। এমন সময় পাশে থাকার ঘোষণা দিয়ে কাল রোববার (৩০ মার্চ) বিশেষ বিমানে মেডিকেল সহায়তা নিয়ে দেশটিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর উদ্ধারকারী দল। শনিবার (২৯ মার্চ) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) থেকে পাঠানো সংবাদ বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। বার্তায় বলা হয়, ‘ভূমিকম্পে ক্ষয়-ক্ষতির প্রেক্ষিতে জরুরি ভিত্তিতে ওষুধ, ত্রাণসামগ্রী, উদ্ধার এবং মেডিকেল সহায়তা দিতে বিশেষ বিমানে কাল রোববার মিয়ানমারে যাচ্ছে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর উদ্ধারকারী দল।’ উল্লেখ্য, গতকাল শুক্রবার (২৮ মার্চ) মিয়ানমারে সংঘটিত ৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন সূত্রে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য বললেও বিবিসি জানিয়েছে, মৃতের সংখ্যা এক হাজার ৬৪৪ জনে পৌঁছেছে।

বিল্ডিং কোড না মানলে নগরে ভূমিকম্প মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনবে: আইপিডি
ঢাকা-চট্রগ্রামসহ বাংলাদেশের অধিকাংশ বড়-মাঝারি-ছোট শহরগুলো ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় একেবারেই অপ্রস্তুত। শনিবার (২৯ মার্চ) সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এমনটাই জানিয়েছে ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং এন্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি)। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘শুক্রবার (২৮ মার্চ) মিয়ানমারে সংঘটিত ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় ও আশপাশের দেশ ও অঞ্চলে সেটির বিরূপ প্রভাব পড়ে। এই ঘটনা আমাদের আরও একবার বাংলাদেশের নগরগুলোর ভূমিকম্প প্রস্তুতি না থাকা, ভবন নির্মাণে বিল্ডিং কোড এবং মহাপরিকল্পনা ও ভূমি ব্যবহার জোনিং না মানার প্রবণতার কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে। বিগত কয়েক বছরে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে ছোট ছোট অনেকগুলো ভূমিকম্প বড় আকারের ভূমিকম্পের আসন্ন পূর্বাভাস দিলেও আমাদের প্রস্তুতি প্রায় শূন্য। ফলে যে কোনো সময়ে ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটার আগেই ভূমিকম্পের ঝুঁকি কমাতে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নিতে জন্য অন্তর্বর্তী সরকারকে এখনই যথাযথ উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে আইপিডি।’ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিয়ে অনেকগুলো সংস্কার কমিশন করলেও দেশের পরিকল্পিত নগরায়ন, টেকসই আবাসন ও ভবনের নিরাপত্তা বিষয়ক কোনো কমিশন করেনি। এই বিষয়টিকে অনভিপ্রেত বলে মনে করে আইপিডি। রাজউক এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অনেকের বিরুদ্ধেই আবাসন ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বিভিন্ন আঁতাত করে দূর্নীতির মাধ্যমে যত্রতত্র অনুমোদনহীন ভবন গড়ে উঠতে দেওয়া এবং পরবর্তীতে মহাপরিকল্পনা সংশোধনের নামে সেসব ভবন ও প্রকল্পের বৈধতা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। সরু রাস্তায় বহুতল ভবন নির্মাণের অবাধ স্বাধীনতা কিংবা ১০ তলা পর্যন্ত আবাসিক ভবনকে বহুতল বিবেচনা না করে কাঠামোগত ও অগ্নি নিরাপত্তায় ছাড় দেওয়ার উদ্যোগগুলো অত্যন্ত বিপদজনক। নাগরিক, পেশাজীবী ও পরিকল্পনাবিদদের পক্ষ থেকে এই বিষয়গুলোকে বারংবার তুলে ধরা হলেও রাজউক ও মন্ত্রণালয় এই বিষয়ে মানুষের জীবনের নিরাপত্তাকে উপেক্ষা করে আবাসন ব্যবসায়ীদের গোষ্ঠীস্বার্থ রক্ষায় অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে মনে করছে আইপিডি।’ আইপিডি আরও মনে করে, ঢাকার ভূমি ব্যবহার পরিকল্পনায় মাটির ভূতাত্ত্বিক গঠন ও গুণাগুণকে বিবেচনায় নিয়ে ভূমি ব্যবহার এবং ভবনের আকার-আয়তন নির্ধারণ করা প্রয়োজন। অথচ ঢাকার নগর পরিকল্পনায় এই বিষয়গুলোকে সেভাবে বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পনা করা হচ্ছে না। ঢাকার পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলসহ ঢাকার চারিদিকে বন্যা প্রবাহ অঞ্চল ও জলাশয়-জলাভূমি ভরাট করে অধিকাংশ অনুমোদনহীন যেসব আবাসিক প্রকল্প গড়ে উঠেছে, সেখানে ইতোমধ্যে অসংখ্য বহুতল ভবন গড়ে উঠেছে। ভূমিকম্পে দুর্বল মাটির ওপর গড়ে ওঠা এসব ভবন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ঢাকার ড্যাপে এলাকাভিত্তিক ভিন্নতাকে মাথায় নিয়ে ভবনের আকার-আয়তন নির্দিষ্ট করার প্রস্তাবনা থাকলেও ইমারত নির্মাণ বিধিমালার সংশোধন প্রস্তাবনায় মন্ত্রণালয় এলাকাভিত্তিক ভিন্নতাকে বাদ দিয়ে পুরো ঢাকা মহানগরীর জন্য একই ধরনের এফএআর বা ফার মান প্রস্তাব করেছে। পৃথিবীর কোনো শহরের নগর পরিকল্পনায় এ ধরনের পরিকল্পনা ও নির্মাণ কৌশল না থাকলেও এভাবেই চলছে ঢাকার মতো অত্যন্ত অবাসযোগ্য ও ঝুঁকিপূর্ণ শহরের নগর পরিকল্পনা। এই ধরনের আত্ম-বিধ্বংসী প্রবণতা থেকে বের না হতে পারলে ঢাকার কাছাকাছি এপিসেন্টারে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পেও জীবন ও সম্পদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।

লাখ টাকার জাল নোটসহ প্রস্তুতকারী চক্রের সদস্য ধরা
বিপুল পরিমাণ জাল টাকা জব্দসহ জালনোট প্রস্তুতকারী চক্রের এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। গ্রেপ্তারকৃতের নাম রুবেল বিশ্বাস। শুক্রবার (২৮ মার্চ) রাজধানীর মালিবাগ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে র্যাব-৩’-এর একটি দল। র্যাব-৩’-এর স্টাফ অফিসার (মিডিয়া) সিনিয়র সহকারি পরিচালক সনদ বড়ুয়া জানান, র্যাব-৩’-এর একটি দল গোয়েন্দা তথ্যর ভিত্তিতে গতরাতে জালনোট প্রস্তুতকারী চক্রের সদস্য রুবেল বিশ্বাসকে (৩২) গ্রেপ্তার করে। এ সময় ১ লাখ ৯ হাজার টাকার জালনোট জব্দ করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, গ্রেপ্তার রুবেল জানান, সে একটি সংঘবদ্ধ জালনোট প্রস্তুতকারী চক্রের মূলহোতা। এই চক্রটি দীর্ঘদিন যাবৎ অবৈধভাবে বাংলাদেশী বিভিন্ন মূল্যমানের টাকার জালনোট প্রস্তুত করে তা ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে বিক্রয় করে আসছে। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে রুবেল বিশ্বাস স্বীকার করেন যে তিনি জালনোট প্রস্তুত করে।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সিল-সই জালিয়াতি: চাকরি-পদোন্নতির নামে প্রতারণার ফাঁদ
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাসহ অন্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সই-সিল জালিয়াতি ও প্রতারণায় জড়িত থাকার অভিযোগে জাফর ইকবাল (৪৬) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। র্যাব সদর দপ্তর থেকে জানানো হয়, সম্প্রতি প্রতারক জাফর ইকবাল স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাসহ অন্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের পরিচয়ে অফিসিয়াল স্বাক্ষর ও সিল ব্যবহার করে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে সাধারণ মানুষকে চাকরি দেওয়া, পদোন্নতি প্রদান, বদলি সংক্রান্ত এবং পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে গবাদি পশুসহ অন্য দ্রব্যসামগ্রী আমদানির জন্য অনুমতি প্রদান সংক্রান্ত দালালি কার্যক্রম করে প্রতারণামূলকভাবে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করে আসছিল। র্যাব ওই প্রতারককে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে। গতকার শুক্রবার (২৮ মার্চ) রাতে র্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা এবং র্যাব-১ এর একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রতারক জাফর ইকবালকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি গাইবান্ধা জেলার নবাব হোসেন প্রামাণিকের ছেলে। এ সময় তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের ভুয়া স্বাক্ষরিত বিভিন্ন নথিপত্র, বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের ভুয়া সিল, ভিজিটিং কার্ডসহ বিভিন্ন সরঞ্জামাদি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার জাফর বিভিন্ন প্রতারণার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার বিষয়ে তথ্য দিয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি র্যাবকে জানিয়েছে, উচ্চাভিলাষী জীবনযাপন করার উদ্দেশে গ্রেপ্তার জাফর প্রতারণার কাজ বেছে নেয়। তিনি দীর্ঘ দিন ধরে এই প্রতারণা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন। গ্রেপ্তার জাফর ইকবাল বিভিন্ন এলাকার চাকরি প্রত্যাশীদের বলতেন, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক রয়েছে। এভাবে চাকরি প্রত্যাশীদের বিশ্বাস অর্জন করে এবং চাকরি দেওয়ার কথা বলে নগদ অর্থ হাতিয়ে নিত। তিনি প্রতারণার মাধ্যমে চাকরি দেওয়াসহ বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পদোন্নতি, বদলি সংক্রান্ত এবং ব্যবসায়ীদের পার্শ্ববর্তী দেশের সঙ্গে গবাদি পশুসহ বিভিন্ন দ্রব্যসামগ্রী আমদানি ও রপ্তানির অনুমতি দেওয়া কথা বলে অসংখ্য ব্যক্তির কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। গ্রেপ্তার জাফর ইকবাল মূলত মিথ্যা তথ্যের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিল। সম্প্রতি এক ব্যবসায়ীকে সীমান্ত এলাকায় গবাদি পশুর বিট, খাটাল স্থাপনের ও গবাদি পশু আমদানির জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভুয়া স্বাক্ষরিত অনুমতিপত্র দেন। গ্রেপ্তার জাফর ইকবালের স্থায়ী কোনো অফিস না থাকায় বিভিন্ন সময়ে ভাড়া বাসাকে অফিস হিসেবে ব্যবহার করে আসছিল। গ্রেপ্তার জাফর ইকবালের বিরুদ্ধে গাইবান্ধা সাদুল্যাপুর থানায় মামলায় অভিযুক্ত। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গ্রেপ্তার এড়াতে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপন করে আসছিল। সর্বশেষ রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকায় আত্মগোপনে থাকাবস্থায় গ্রেপ্তার জাফরের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। এ ব্যাপারে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানান, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সই জালিয়াতিকারী র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার জাফর ইকবালকে ডিএমপিতে হস্তান্তর করা হয়েছে। তাকে ডিবি হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

চাঁদের অপেক্ষায় বাংলাদেশ
সারা বিশ্বের সঙ্গে মিল রেখে একই সঙ্গে বাংলাদেশে ঈদ উদযাপন নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা। যদিও ইসলামি চিন্তাবিদরা বলছেন, ‘কোরআন এবং হাদিসে চাঁদ দেখা সাপেক্ষে সিয়াম এবং ঈদ পালনের ওপর একাধিকবার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।’ প্রতি বছর রমজান শেষে ঈদের চাঁদ দেখা ও ঈদ উদযাপন নিয়ে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা। সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে দেশের অনেক স্থানেই পালিত হয় ঈদের আনুষ্ঠিকতা। এবার আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্য বলছে, ‘৩০ মার্চ অর্থাৎ ২৯ রমজানে সূর্যাস্তের সময় শাওয়াল মাসের চাঁদের বয়স হবে ১.০৫ দিন। আর পরের দিন ৩১ মার্চ ২.০৫ দিন। এসময় চাঁদের স্থায়িত্ব হবে ৩০ মার্চ সন্ধ্যায় ৪৩ মিনিট আর পরের দিন আকাশে চাঁদের উপস্থিতি থাকবে ৫১ মিনিট।’ আবহাওয়া অফিসের তথ্যানুযায়ী, আকাশ মেঘ মুক্ত থাকলে ৩০ মার্চ সন্ধ্যায় খালি চোখেই দেখা যেতে পারে শাওয়াল মাসের চাঁদ। সৌদি আরবসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে একই দিনে ঈদ উদযাপনের বিষয়ে এবার আলোচনা উঠলেও ইসলামি চিন্তাবিদরা কোরআন এবং হাদিসের নির্দেশনাকে মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। গত কয়েক বছর ধরে সৌদি আরবের সঙ্গে একই সঙ্গে ঈদ উদযাপন বিষয়ে শিগগিরই সরকারের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে ইসলামি ফাউন্ডেশন। কাল রোববার (৩০ মার্চ) সন্ধ্যা ৬ টা ৩২ মিনিট থেকে ৭ টা ২০ মিনিটি পর্যন্ত চাঁদ দেখার সময় নির্দিষ্ট করেছে আবহওয়া অধিদফতর।

দেশে পৌঁছেছেন ড. ইউনূস
চীন সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। শনিবার (২৯ মার্চ) রাত ৮টা ১০ মিনিটের দিকে প্রধান উপদেষ্টা ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী এয়ার চায়নার বাণিজ্যিক বিমানটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। এর আগে চার দিনের আনুষ্ঠানিক সফর শেষে শনিবার স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ৫৭ মিনিটে বেইজিং ক্যাপিটাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করেন তিনি। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহকারী মন্ত্রী ও প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের চিফ প্রোটোকল অফিসার হং লেই বিমানবন্দরে প্রধান উপদেষ্টাকে বিদায় জানান। মুহাম্মদ ইউনূস গত ২৭ মার্চ চীনের হাইনান প্রদেশে আয়োজিত বোয়াও ফোরাম ফর এশিয়া (বিএফএ) সম্মেলনে যোগ দেন। সম্মেলনের ফাঁকে তিনি বেশ কয়েকটি বৈঠকও করেন। প্রধান উপদেষ্টা ২৮ মার্চ বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। তিনি টেকসই অবকাঠামো ও জ্বালানি বিনিয়োগ, বাংলাদেশ ২.০ উৎপাদন ও বাজার সুযোগ এবং সামাজিক ব্যবসা, যুব উদ্যোক্তা এবং তিন শূন্যের বিশ্ব- এসব বিভিন্ন বিষয়ের ওপর তিনটি গোলটেবিল বৈঠকেও যোগ দেন। মুহাম্মদ ইউনূস ২৯ মার্চ পিকিং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি গ্রহণ করেন। সেখানে তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ভাষণ দেন।

ক্রেতাকে মারধর: হকার সিন্ডিকেটের চারজনকে পুলিশে দিল ছাত্র-জনতা
পণ্য কেনার সময় দরদাম করতে চাইলে রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বরে হকারদের মারধরের শিকার হন এক যুবক। পরে স্থানীয় ছাত্র-জনতা ওই হকার সিন্ডিকেটের কয়েকজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার (২৮ মার্চ) সকালে পণ্য কেনার সময় দরদাম নিয়ে ফুটপাতের এক দোকানদারের সঙ্গে এক যুবকের কথা কাটাকাটি হয়। এ সময় কয়েকজন হকার মিলে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন।এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় ছাত্র-জনতা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান।পরে শনিবার (২৯ মার্চ) দুপুরে ছাত্র-জনতা মিলে অভিযুক্তদের দোকানে যান। এ সময় হকার সিন্ডিকেটের কয়েকজনকে চিহ্নিত করে আটক করেন এবং গণধোলাই দিয়ে পুলিশের সোপর্দ করেন তারা।ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন মিরপুর মডেল থানার ডিউটি অফিসার রমজান। তিনি বলেন, ‘যুবককে মারধরের ঘটনায় মামলা হয়েছে। এ মামলায় আজ দুপুরে চার জনকে গ্রেফতার করা হয়।’

বাংলাদেশে ঈদ হতে পারে সোমবার!
বাংলাদেশে কাল রোববার (৩০ মার্চ) খোলাচোখে চাঁদ দেখা যেতে পারে। ফলে আগামী সোমবার (৩১ মার্চ) বাংলাদেশে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হতে পারে বলে প্রতিবেদন করেছে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম গালফ নিউজ। আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান কেন্দ্রের বরাত দিয়ে শনিবার (২৯ মার্চ) স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ৩৬ মিনিটে এ খবর জানানো হয়েছে।তবে এ বিষয়ে আর বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি প্রতিবেদনে।এদিকে আরব ও মুসলিম বিশ্বে আজ শনিবার (২৯ মার্চ) শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা ‘অসম্ভব’ হবে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান কেন্দ্র। বলা হচ্ছে, যেহেতু চাঁদ সূর্যের আগে অস্ত যাবে এবং সূর্যাস্তের পরে মিলন ঘটবে, তাই এদিন সন্ধ্যায় চাঁদ দেখা সম্ভব হবে না। গালফ নিউজকে দেয়া এক বিশেষ বিবৃতিতে, আমিরাতের জ্যোতির্বিদ ও এমিরেটস অ্যাস্ট্রোনমি সোসাইটির চেয়ারম্যান এবং আরব ইউনিয়ন ফর স্পেস অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোনমির সদস্য, ইব্রাহিম আল-জারওয়ান প্রকাশ করেছেন, ‘সুনির্দিষ্ট জ্যোতির্বিদ্যাগত গণনা ইঙ্গিত দেয় যে, শনিবার (২৯ মার্চ) সূর্যাস্তের পরে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা অসম্ভব।’এই গণনার ওপর ভিত্তি করে এমিরেটস অ্যাস্ট্রোনমি সোসাইটি অনুমান করছে, রমজান মাস এবার ৩০ দিন পূর্ণ করবে। অর্থাৎ ৩০ মার্চ (রোববার) হবে পবিত্র মাসের শেষ দিন। ফলে, পবিত্র ঈদুল ফিতর ৩১ মার্চ (সোমবার) হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।প্রতিবেদন মতে, যেসব দেশে শাওয়াল মাস শুরু হওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত হতে প্রকৃত দর্শন (চাঁদের) প্রয়োজন, সেখানে রমজান সম্ভবত ৩০ দিনের হবে। আর ঈদুল ফিতর পড়বে ৩১ মার্চ।তবে, যেসব অঞ্চলে সূর্যাস্তের আগে সংযোগ ঘটে, সেখানে কিছু দেশ ঐতিহ্যবাহী চাঁদ দেখার পদ্ধতির ভিত্তিতে ৩০ মার্চ, রোববার ঈদ ঘোষণা করতে পারে।

ঈদযাত্রায় বাড়তি ভাড়া, চাঁদাবাজি হবে না: সড়ক সচিব
এবারের ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক ও নিরাপদ করতে প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হক। শনিবার (২৯ মার্চ) গণপরিবহনে যাত্রীদের ভোগান্তি রোধে ঢাকা শহরের সায়েদাবাদ ও গাবতলী বাস টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ মন্তব্য করেন। সিনিয়র সচিব বলেন, ‘সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের কর্মকর্তা, বিআরটিএ-এর কর্মকর্তা, পুলিশ, শ্রমিক-মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে একযোগে বসে আমরা এ চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছি। এবারের ঈদযাত্রায় কোনো ধরনের চাঁদাবাজি থাকবে না; অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা যাবে না; ছিনতাই, চুরি, ডাকাতি হবে না; মলম পার্টির উপদ্রব থাকবে না; সর্বোপরি মানুষ শান্তিতে ও নির্বিঘ্নে ঘরে ফিরে যাবে এবং একইভাবে আসার সময় আমরা যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে কাজ করে যাব।’ বাড়তি ভাড়া আদায় সংক্রান্ত সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে এহছানুল হক বলেন, ‘প্রতিটি বাস টার্মিনালে বুথ স্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়াও পুলিশ ও র্যাবের টিম সার্বক্ষণিকভাবে তৎপর রয়েছে। বাড়তি ভাড়া আদায়সহ যাত্রীদের সব সমস্যার সমাধানে অভিযোগ পাওয়া মাত্রই অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’ সবশেষে এবারের ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক ও নিরাপদ করতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন এবং সবাইকে ঈদের আগাম শুভেচ্ছা জানিয়ে বক্তব্য শেষ করেন সড়ক সচিব। পরিদর্শনকালে বিআরটিএর চেয়ারম্যান (গ্রেড-১) মো. ইয়াসীন, পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বাস মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ, শ্রমিক ফেডারেশনের নেতৃবৃন্দ ও মিডিয়ার প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

ঈদের দিন বন্ধ থাকবে মেট্রোরেল
আসন্ন ঈদুল ফিতরের দিন দেশের প্রথম বিদ্যুৎ চালিত দ্রুতগতির গণপরিবহন মেট্রোরেল চলাচল বন্ধ থাকবে। শনিবার (২৯ মার্চ) মেট্রোরেল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানির লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ তথ্য জানানো হয়। পেজে বলা হয়, ‘ঈদুল ফিতর ২০২৫ উপলক্ষ্যে শুধুমাত্র ঈদের দিন মেট্রোরেল চলাচল বন্ধ থাকবে।’ ‘অন্য দিনগুলোতে যথা নিয়মে মেট্রোরেল চলাচল অব্যাহত থাকবে।’

স্বস্তির ঈদযাত্রায় অস্বস্তি ‘অতিরিক্ত ভাড়া’, হানিফ ও জোনাকি পরিবহনকে জরিমানা
আসন্ন ঈদুল ফিতরের সরকারি ছুটি শুরু গতকাল শুক্রবার (২৮ মার্চ) থেকে। শুক্র-শনিবার বন্ধের দিন থাকায় বেশিরভাগ মানুষই ঢাকা ছাড়া শুরু করেছেন এর আগ থেকেই। এতে করে শেষ দিকে এসে যানবাহন বা টিকিট কাউন্টারগুলোতে নেই বাড়তি চাপ। সাধারণ সময়ের মতোই যাত্রী নিয়ে ছাড়ছে বাস। রাস্তা ফাঁকা থাকায় কোথাও যানজটের সমস্যাও নেই বলে জানিয়েছেন বাস কাউন্টারের কর্মীরা। শনিবার (২৯ মার্চ) রাজধানীর সায়েদাবাদ টার্মিনাল এলাকায় বাস কাউন্টার ও আশপাশের এলাকা ঘুরে সাধারণ সময়ের মতোই যাত্রীদের উপস্থিতি দেখা যায়। কোথাও ভিড় দেখা যায়নি। ঢাকা, চট্রগ্রাম, সিলেট ও বরিশাল যাত্রায় মহাসড়কে যানজট না থাকায় সায়দাবাদ থেকে প্রায় প্রতিটি বাস নির্দিষ্ট সময় ছেড়ে যাচ্ছে। যাত্রীদের মনেও ছিল প্রশান্তি। বরিশাল যাবেন আজিজুল হক। বাস কাউন্টারে আসার সঙ্গে সঙ্গেই টিকিট পেয়েছেন। এতে অনেকটাই অবাক হয়েছেন তিনি। আজিজুল জানান, এর আগে কোনো ঈদে এমন শান্তির যাত্রা হয়নি। কাউন্টারে এসে যুদ্ধ করে টিকিট কাটতে হয়েছিল। আর আজকে এসেই টিকিট পেলাম। এরকমটা সবসময় থাকুক সেই কামনা করি। সাজেদা বেগমও বলছেন একই কথা। এ রকম সুন্দরভাবে বাড়িতে যাওয়ার কথা চিন্তা করেননি তিনি। বাস কাউন্টারে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকা, যানজট- সব মিলিয়ে ঈদযাত্রা অনেকটাই চ্যালেঞ্জিং ছিল। এবারের মতো সুন্দরভাবে আর কখনো যাত্রা করতে পারেননি বলে জানান তিনি। তবে এর মাঝে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালের বিভিন্ন বাস কাউন্টারে সরকার নির্ধারিত অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে এমন অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়েছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। শনিবার সকালে সায়েদাবাদের জনপথ মোড়ে কয়েকটি বাস কাউন্টারে অভিযান চালান ভোক্তা অধিকারের ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ-পরিচালক বিকাশ চন্দ্র দাস। এ সময় ইকোনো সার্ভিসের দুটি কাউন্টারে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় এক লাখ টাকা, হানিফ পরিবহনের কাছ থেকে ২০ হাজার ও জোনাকি পরিবহন থেকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। সকাল থেকে তেমন যাত্রীর চাপ না থাকলেও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। ঢাকা-লক্ষীপুর রুটে সরকার নির্ধারিত ভাড়া ৫৩৬ টাকা হলেও ইকোনো বাসে ৭০০ টাকা ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করেন যাত্রীরা। তবে কাউন্টার সংশ্লিষ্টরা বলছেন প্রতিটি গাড়ি ঢাকা থেকে যাত্রী নিয়ে গেলেও ঢাকা আসার পথে ফাঁকা আসছে। তাই ক্ষতি পোষাতে কিছুটা অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয় শুধু শেখার জায়গা নয়, স্বপ্ন দেখারও জায়গা : প্রধান উপদেষ্টা
চীনের পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে বিশ্বকে বদলে দিতে শিক্ষার্থীদের বড় কিছু করার স্বপ্ন দেখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। শনিবার (২৯ মার্চ) বেইজিংয়ে পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এ আহ্বান জানান। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয় বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শুধুমাত্র শেখার জায়গা নয়, এটি স্বপ্ন দেখারও জায়গা। স্বপ্ন দেখতে পারা পৃথিবীর সবচেয়ে বড় শক্তি উল্লেখ করে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, আপনি যদি স্বপ্ন দেখেন, তবে তা ঘটবেই। আপনি যদি স্বপ্ন না দেখেন, তবে তা কখনও ঘটবে না।শিক্ষার্থীদের অতীতের দিকে নজর দেওয়ার অনুরোধ করে তিনি বলেন, যা কিছু ঘটেছে, কেউ না কেউ আগে তা কল্পনা করেছিল। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, কল্পনা যেকোনো কিছু থেকে বেশি শক্তিশালী। তিনি শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে অদ্ভুত এবং অকল্পনীয় বিষয়ে স্বপ্ন দেখতে উৎসাহিত করেন, যদিও অনেক সময় এটি অসম্ভব মনে হতে পারে। অধ্যাপক ইউনূস বলেন, মানবসভ্যতার যাত্রা হলো অসম্ভবকে সম্ভব করা। সেটাই আমাদের কাজ। আর আমরাই তা করতে পারি।

ফাঁকা বুলি নয়, দৃশ্যমান অ্যাকশনে ডিবি: ডিবিপ্রধান
নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদ উদযাপনে ডিবি সর্বদা নগরবাসীর পাশে থাকবে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) রেজাউল করিম মল্লিক। তিনি বলেন, কোনো ফাঁকা বুলি নয় বরং দৃশ্যমান অ্যাকশনের মাধ্যমেই ডিবি ক্রমাগত নগরবাসীর আস্থার প্রতীকে পরিণত হচ্ছে। শনিবার (২৯ মার্চ) দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ডিবি থেকে গৃহীত কার্যক্রম সংক্রান্ত বিষয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। ডিবিপ্রধান রেজাউল করিম মল্লিক বলেন, পবিত্র ঈদুল ফিতর উৎসবমুখর ও নিরাপদ পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে ও ঈদে বাসা-বাড়ি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও বিপণিবিতানের সার্বিক নিরাপত্তায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। পবিত্র মাহে রমজানে নগরবাসী যাতে নিরাপদে ইবাদত করতে পারে সেজন্য আগে যেমন ডিবি পাশে ছিল তেমনি এবারও পাশে থাকবে। তিনি বলেন, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে ঢাকা মহানগর এলাকায় পুলিশি কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে মহানগরীতে চেকপোস্ট ও টহল কার্যক্রম বৃদ্ধি করা হয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ৫০টি থানা এলাকায় প্রতিদিন জননিরাপত্তা বিধানে দুই পালায় ডিএমপির ৬৬৭টি টহল টিম দায়িত্ব পালন করছে। এছাড়া মহানগর এলাকার নিরাপত্তা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত স্থানে ডিএমপি কর্তৃক ৭১টি পুলিশি চেকপোস্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। পুলিশকে সহায়তা করার জন্য এরই মধ্যে অক্সিলিয়ারি ফোর্স নিয়োগ করা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় তারা কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। ইউনিফর্মড পুলিশের পাশাপাশি মহানগরীর নিরাপত্তায় ডিবির উল্লেখযোগ্য সংখ্যক টিম মাঠে ক্লান্তিহীন কাজ করে যাচ্ছে। এছাড়াও নগরবাসীর নিরাপত্তায় ডিবি ভ্যানগার্ড হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে ও যাবে। ঈদ উপলক্ষে বিপণী বিতান, রেলস্টেশন, বাস ও লঞ্চ টার্মিনালে ডিবির কার্যক্রম আরও বেগবান করা হয়েছে। নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে যে কোনো প্রয়োজনে ডিবি সর্বদা নগরবাসীর সঙ্গে রয়েছে। নগরবাসীকে সঙ্গে নিয়ে যে কোন অপতৎপরতা রুখে দিতে ডিবি প্রস্তুত। তিনি আরও বলেন, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিপণিবিতান, রেল স্টেশন, বাস ও লঞ্চ টার্মিনালে কেউ যাতে নাশকতা করতে না পারে সেজন্য ডিবির গোয়েন্দা নজরদারি পূর্বের যেকোনো সময়ের চেয়ে বৃদ্ধি করা হয়েছে। এছাড়াও ডিবির সাইবার টিম তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে নজরদারি বৃদ্ধি করেছে। সাইবার স্পেস ব্যবহার করে আসন্ন ঈদ উপলক্ষে যে কোনো অপপ্রচার রোধে ডিবি তৎপর রয়েছে। প্রো-অ্যাকটিভ পুলিশিং এর অংশ হিসেবে ডিবির জাল সর্বত্র বিস্তৃত করা হয়েছে। ঢাকা মহানগরীকে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা দিতে ডিবি সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বলেন, রোজা শুরুর দিন থেকে এখন পর্যন্ত ডিবির অলআউট অ্যাকশনে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ছিনতাইকারী, ডাকাত, চাঁদাবাজ ও বিভিন্ন অভ্যাসগত অপরাধীদের গ্রেফতার করা হয়েছে। তাছাড়া ডিবির মাদকবিরোধী অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ মাদকসহ উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পেশাদার মাদক কারবারি গ্রেফতার করা হয়েছে। ছোট বড় যে কোন অপরাধীর ক্ষেত্রে ডিবি জিরো টলারেন্স নিয়ে কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। যে কোনো অপরাধের ক্ষেত্রে ডিবি ইন্টারসেপ্টর বা প্রতিবন্ধক হিসেবে কাজ করবে। ডিবির সব সদস্যের মনোবল পূর্বের যেকোনো সময়ের চেয়ে দৃঢ় রয়েছে। নগরবাসীর ভরসার কেন্দ্রবিন্দুতে পৌঁছতে ও অপরাধীদের জন্য মূর্তিমান আতঙ্ক হিসেবে পরিগণিত হতে ডিবির আন্তরিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। ডিবি তার কার্যক্রমের মাধ্যমেই থাকতে চায় নগরবাসীর ভরসার কেন্দ্রস্থলে, জনগণের দোয়ায় ও প্রার্থনায়। কোনো ফাঁকা বুলি নয় বরং ‘দৃশ্যমান অ্যাকশনের’ মাধ্যমেই ডিবি ক্রমাগত নগরবাসীর আস্থার প্রতীকে পরিণত হচ্ছে। তিনি বলেন, ঈদ শেষে মহানগরবাসী যাতে নিরাপদে ও স্বস্তিতে ঘরে ফিরতে পারে এবং কোনো ধরনের বিরূপ পরিস্থিতির সম্মুখীন না হয় সেজন্য ঈদ পরবর্তী সময়ে ডিবির বিশেষ অভিযান পরিচালিত হবে। ছিনতাইকারী, চোর, চাঁদাবাজ ও বিভিন্ন অভ্যাসগত অপরাধীদের গ্রেফতার করতে ডিবির আটটি বিভাগের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক টিম থেকে মহানগরের বিভিন্ন কৌশলগত স্থানে এ অভিযান পরিচালনা করা হবে। ডিবিপ্রধান রেজাউল করিম আরও বলেন, আসন্ন ঈদ সামনে রেখে জাল টাকা তৈরি ও সরবরাহ রোধে ডিবি অত্যন্ত তৎপর রয়েছে। এরই মধ্যে ডিবির অভিযানে বিপুল সংখ্যক জালনোট ও জালনোট তৈরির সরঞ্জামসহ চক্রের বেশ কয়েকজন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ডিবির অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া অনলাইনে জালনোট বিক্রয় ঠেকাতে ডিবির সাইবার টিম সার্বক্ষণিক অনলাইনে নজরদারি করছে। জাল নোট তৈরি, বিক্রয় ও সরবরাহ রোধে পূর্বের যেকোনো সময়ের চেয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে ডিবি। তিনি বলেন, ঈদ উপলক্ষে ডিএমপির ইউনিফর্মড পুলিশ ও ডিবির কার্যক্রমের পাশাপাশি নিরাপত্তা সচেতনতার অংশ হিসেবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও বিপণিবিতানের দায়িত্বে নিয়োজিত নিরাপত্তা রক্ষীদের ডিউটি জোরদার করতে হবে এবং যেকোনো অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা নজরদারির ব্যবস্থা রাখতে হবে। সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা তদারকি করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পুলিশের পাশাপাশি মালিক পক্ষকে স্ব স্ব মার্কেট/শপিংমলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে এবং এলাকার থানা/ফাঁড়ির সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখতে হবে। নগরবাসীর উদ্দেশ্যে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বলেন, ঈদে মহল্লা, বাসা/মার্কেটে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে থাকলে বা ঘটার সম্ভাবনা থাকলে তা স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়ি, থানা বা ডিবিকে অবহিত করবেন। তাছাড়া ডিএমপির কন্ট্রোল রুমের নম্বর অথবা ৯৯৯ এ যোগাযোগ করা যেতে পারে। তিনি বলেন, ঈদ উপলক্ষে বিপণিবিতানসহ যেকোনো স্থানে নাশকতা, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও নিরাপত্তা ঝুঁকি সম্পর্কিত যেকোনো তথ্য থাকলে ডিবিকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করতে হবে এবং তার পাশাপাশি তথ্য প্রদানকারীর পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এসময় যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (অ্যাডমিন অ্যান্ড গোয়েন্দা-দক্ষিণ) মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম; যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা-উত্তর) মোহাম্মদ রবিউল হোসেন ভুঁইয়া ও উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগ) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

চীনের সঙ্গে চট্টগ্রামের সরাসরি ফ্লাইট চালু হচ্ছে
বাংলাদেশ থেকে চীনের কুনমিং শহরে সরাসরি ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা করেছে চায়না ইস্টার্ন এয়ারলাইন্স। মূলত চীনের এই শহরে চিকিৎসা নিতে যাওয়া রোগীদের সেবায় এই উদ্যোগ দিতে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষ বিশেষ করে চট্টগ্রাম অঞ্চলের মানুষ সহজে চিকিৎসার জন্য কুনমিং যেতে পারবেন। শনিবার (২৯ মার্চ) প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, বাংলাদেশি রোগীদের চিকিৎসার জন্য কুনমিংয়ে চারটি হাসপাতাল রয়েছে। তবে বিমানের ভাড়া বেশি হওয়ায় এখন পর্যন্ত বাংলাদেশিদের জন্য সেখানে যাতায়াত বেশ ব্যয়বহুল। নতুন ফ্লাইট চালু হলে খরচ ও ভ্রমণের সময় উভয়ই কমে আসবে বলে আশা করেছেন সংশ্লিষ্টরা। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই ফ্লাইটগুলো চালু হলে কুনমিংয়ে ভ্রমণের খরচ এবং সময় দুই কমবে। এতে চীনে স্বাস্থ্য সেবা বাংলাদেশিদের জন্য সহজ হবে। বাংলাদেশের চীনে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত নজমুল ইসলাম জানিয়েছেন, কুনমিংয়ের হাসপাতালগুলোতে বাংলাদেশিদের জন্য নির্ধারিত ফ্লোর রয়েছে। তিনি বলেন, ‘চিকিৎসার ফি খুবই সহনশীল। বাংলাদেশি রোগীদের জন্য একই ফি নির্ধারিত, যা স্থানীয় চীনা রোগীরা পরিশোধ করেন।’ অর্থাৎ বাংলাদেশি রোগীদের কাছ থেকে কোনো অতিরিক্ত ফি নেওয়া হবে না। কুনমিং ভ্রমণ সহজ করতে ঢাকার বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষও ঢাকা-কুনমিং রুটের বিমান ভাড়ার মূল্য হ্রাসের উদ্যোগ নিয়েছে। চীনা কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, ভবিষ্যতে বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য আরও হাসপাতাল সুবিধা দেওয়া হতে পারে। এপ্রিল মাসে বাংলাদেশের সাংবাদিকদের একটি বড় দল কুনমিং সফরে যাবেন সেখানকার চিকিৎসা ব্যবস্থা পরিদর্শন করার জন্য। এদিকে, গত মাসে প্রথমবারের মতো কয়েকজন বাংলাদেশি চিকিৎসার জন্য কুনমিংয়ে যান। তারা হাসপাতালের মান নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করলেও বিমান ভাড়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।

সায়েদাবাদে ঘরমুখো মানুষের ভিড়
প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে বাড়ি ছুটছেন সবাই। রাজধানীর সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে অন্যান্য দিনে চেয়ে যাত্রীর চাপ বেড়েছে। নির্বিঘ্নে বাস ছাড়ছে কাউন্টার থেকে। তবে যাত্রীর চাপ থাকায় টিকিট পেতে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। কাউন্টারে এসে ১ থেকে ২ ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে। শনিবার (২৯ মার্চ) সরেজমিন সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে। যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঈদের আগ মুহূর্তে টিকিট পেতে কিছুটা কষ্ট হচ্ছে। যারা অগ্রিম টিকিট কেটে রেখেছে তারা স্বচ্ছন্দ যাচ্ছে। এছাড়া বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করছেন যাত্রীরা। বরিশালগামী আব্দুল বাকী বলেন, পদ্মা সেতু হওয়ায় ৪ ঘণ্টায় বরিশাল যাওয়া যায়। কিন্তু ঈদে প্রায় সব পরিবহন মূল ভাড়ার চেয়ে ২০০ টাকা ভাড়া বেশি রাখছে। বিএমএফ পরিবহনে নিয়মিত ভাড়া ৫০০। কিন্ত গতকাল থেকে ভাড়া ৭০০ রাখছে। আগামীকাল আরও বেশি ভাড়া রাখতে পারে। ২ জনের টিকিট কেটেছি ১৪০০ টাকা দিয়ে। মেহেরপুরগামী যাত্রী রফিক বলেন, আমরা সাধারণত পূর্ভাসা পরিবহনে করে যাই। আজ কাউন্টারে এসে দেখি ৬৫০ টাকার টিকিট ৯০০ টাকা করে নিচ্ছে। ৬০০ টাকার টিকেট নিচ্ছে ৮০০ টাকা করে। এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে পূর্ভাসা পরিবহনের কাউন্টার কর্মচারী সুজন জাগো নিউজকে বলেন, ঈদে যাত্রীর চাপ বেশি থাকায় আমাদের সব গাড়ি ফেরত আসে খালি। যাওয়া-আসায় অনেক তেল খরচ হয়। তাই বাড়তি টাকা নিতে হচ্ছে। লক্ষ্মীপুরগামী ইকোনো পরিবহনের বাস অন্য সময়ে ৫০০ টাকা নিলেও গত দু-দিন থেকে ভাড়া নিচ্ছে ৭০০ টাকা করে। সায়েদাবাদ এই পরিবহনের যাত্রী রাশেদ বলেন, প্রতি বছর এরা ভাড়া বাড়ায়। ৭০০ টাকা দিয়ে টিকিট নিয়েছি। ফিরতি টিকিটও ২০০ টাকা বেশি দামে বিক্রি শুরু করেছে তারা। পরিবহন কর্মচারীরা বলছেন, অন্য বারের তুলনায় এবার শেষ মুহূর্তে যাত্রীর চাপ কম। কারণ আগে ছুটি হয়ে মানুষ আগেই চলে গেছে। কাল হয়ত ভিড় আরও বাড়বে। নোয়াখালীগামী হিমালয় ও আল বারাকা পরিবহন ৫০০ টাকার ভাড়া নিচ্ছে ৫৫০ টাকা করে। ৫০ টাকা কেন বেশি নেওয়া হচ্ছে প্রশ্নের জবাবে কাউন্টার ম্যানেজার বলেন, সব বাস খালি ঢাকায় আসে। তেল, কর্মচারী খরচতো যাচ্ছে। তাই বাস ভাড়া বেশি।

মানুষ গরিব কারণ অর্থনৈতিক ব্যবস্থা সমান সুযোগ দেয়নি: প্রধান উপদেষ্টা
প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, মানুষ দক্ষতা এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষার অভাবে গরিব হয় না, তারা গরিব কারণ অর্থনৈতিক ব্যবস্থা তাদের কখনই সমান সুযোগ দেয়নি। সুতরাং দরিদ্রতা কোনও ব্যক্তির ভেতরে থাকা কিছু নয়। এখানে তাদের কোনও দোষ নেই। এটি এই ব্যবস্থার ত্রুটি যেটা আমরা আমাদের জন্য তৈরি করি। সেটি দরিদ্রতার কারণ। ভুল চিন্তা মানুষের মধ্যে সব ধরনের সমস্যা তৈরি করার কারণ। শনিবার (২৯ মার্চ) বেইজিংয়ের পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ে দেওয়া এক ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘আমি নিজেকে দোষারোপ করি আগামী প্রজন্মের কাছে ভুল চিন্তার প্রসারে ভূমিকা রাখা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অংশ হওয়ায়। আমার মধ্যে অপরাধবোধ হয়, কারণ আমরা এখন পর্যন্ত ধারণার পরিবর্তন করতে পারিনি। যে কারণে মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। আমার কাজ হলো, যে ব্যবস্থায় আমরা তরুণদের শেখাচ্ছি সেগুলোর ত্রুটি খুঁজে বের করা। যাতে একই জিনিসের পুনরাবৃত্তি আগামী প্রজন্মের মধ্যে না হয়। এই ব্যবস্থা ধনীদের উদ্দেশ্যে সাজানো হয়েছে, গরিবদের জন্য নয়। এই বাস্তবতা আমাকে একটি বিপরীত কিছু তৈরির জন্য উদ্বুদ্ধ করে।’ লাখো তরুণের স্বপ্ন বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ের এই স্বীকৃতি আমাকে লাখো তরুণের স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমার প্রতিশ্রুতির কথা মনে করিয়ে দেয়। গত বছর থেকে তারাই মূলত বাংলাদেশের পরিবর্তনের অগ্রদূত। তাদের লক্ষ্য একটি নতুন বাংলাদেশ তৈরি করা, যেখানে দারিদ্র ও ক্ষুধা থাকবে না। তাদের এই লক্ষ্য বাস্তবে রূপান্তর করতে আমরা বেশ কিছু সংস্কার কাজে হাত দিয়েছি। সুশাসন, স্বচ্ছতা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ যেন নিশ্চিত হয়, অর্থনৈতিক নীতিমালার পরিবর্তন করে অন্তর্ভুক্তিমূলক হয় এবং সবাই যেন সমান সুযোগ পায়। সংস্কার কাজ আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। আমাদের লক্ষ্য সুনির্দিষ্ট এবং কর্মপরিকল্পনা সুদূরপ্রসারী। বাংলাদেশকে শক্তিশালী এবং আরও স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে বিনিয়োগ, শিক্ষা, প্রযুক্তি এবং শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় আমরা উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে অর্থনৈতিক রূপান্তর করছি।’ প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘লেখাপড়া করে চাকরি খুঁজতে যায় আমাদের তরুণরা। আমি বরাবরই বলে আসছি, এটি একটি ভুল পদ্ধতি। মানুষ চাকরি প্রার্থী হওয়ার জন্য জন্ম নেয় না। চাকরি জিনিসটাই একটি ভুল ধারণা। মানুষ হলো সৃজনশীল। তারা সৃজনশীল কাজ করতেই পছন্দ করেন। চাকরি সৃজনশীলতাকে অস্বীকার করে। চাকরি আপনাকে সেই কাজ করতে বাধ্য করে যেটি আপনার সুপারভাইজর চায়। চাকরি এক ধরনের প্রথাগত দাসত্ব। মানুষ কোনোভাবেই দাসত্বের উপযোগী না, তারা স্বাধীন। তাদের এই ধারণার প্রচার করা উচিত, মানুষ উদ্যোক্তা হয়েই জন্ম নেয়, চাকরি প্রার্থী নয়।’ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে শিক্ষার্থীদের উদ্যোক্তা হিসেবে প্রস্তুত করা উচিত মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের এমনভাবে প্রস্তুত করা উচিত, তারা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেরিয়ে যেন সফল উদ্যোক্তা হয়, চাকরি প্রার্থী নয়। এই ধারণা একটি সাধারণ অভিজ্ঞতা থেকে এসেছে। আমি যেখানে পড়াতাম সেখানের কাছেই কিছু গ্রামীণ নারীদের মাধ্যমে আমি একটি ক্ষুদ্র উদ্যোগ নেই। আমি ক্ষুদ্র ঋণ দেওয়া শুরু করলাম শুধু এই মনে করে যে, সে যেন এই অর্থ কাজে লাগিয়ে তার জীবন বদলাতে পারে। আমি তখন জানতাম না, এই উদ্যোগ কাজে আসবে কিনা। কিন্তু দেখা গেলো তাদের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন হয়ে গেলো এবং তারা বরাবরই এই কাজের মধ্যে সচল হয়ে গেলো। এভাবে লাখো নারীর অবস্থা পাল্টে গেছে।’ তিনি বলেন, ‘এই উদাহরণ আমাকে আশ্বস্ত করেছে যে, সব মানুষই উদ্যোক্তা। আমাদের বইয়ে শেখানো হয়, বিশেষ কিছু মানুষ উদ্যোক্তা হয়ে জন্ম নেয়। বাকিদের তাদের অধীনে কাজ করতে হয়। আমি বললাম যে এটি একেবারেই ভুল ধারণা। ক্ষুদ্র ঋণ নিয়ে যদি বাংলাদেশের অতি দরিদ্র অশিক্ষিত নারীরা উদ্যোক্তা হতে পারে, যে কেউ হতে পারে। আমরা তাদের প্রশিক্ষণ দেই না, কাউকে বলিও না যে কীভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে হয়, তারা নিজেরাই সব ব্যবস্থা করে নেয়। সুতরাং এখানে একটি বড় প্রশ্ন ছুড়ে দেয়, শিক্ষার আসলে মূল উদ্দেশ্য কী? সেজন্য আমি বলে আসছি, শিক্ষা একজনের ছতরের সৃজনশীল সক্ষমতা বের করে এনে পৃথিবীর পরিবর্তন করে।’

নদী দূষণ রোধে সদরঘাটে মোবাইল কোর্ট
সদরঘাট থেকে ছেড়ে যাওয়া সকল লঞ্চে একবার ব্যবহার্য প্লাস্টিক ও পলিথিন বহন না করতে এবং খাবারের উচ্ছিষ্ট ও আবর্জনা নদীতে না ফেলে লঞ্চের নির্ধারিত বিনে ফেলার নির্দেশনা দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তরের মোবাইল কোর্ট। যাত্রীদের এ বিষয়ে সচেতন করতে সুপারভাইজার ও স্টাফসহ লঞ্চ কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের মনিটরিং অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট শাখার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে গতরাত ৯টা থেকে শুরু হয়ে গভীর রাত পর্যন্ত সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল এলাকায় এ উদ্দেশ্যে মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়। নৌপুলিশের সহযোগিতায় প্রতিটি লঞ্চে বিন রয়েছে কিনা তা পরিদর্শন করা হয়। যেখানে পর্যাপ্ত বিন নেই, সেসব লঞ্চে দ্রুত বিন সরবরাহের নির্দেশনা দেওয়া হয়। পাশাপাশি, নৌপুলিশকে এ বিষয়ে মনিটরিং জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়। লঞ্চের ভিতরে এবং টার্মিনালে একবার ব্যবহার্য প্লাস্টিক ব্যবহারের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়। অভিযানের সময় নৌপুলিশ হ্যান্ড মাইকের মাধ্যমে যাত্রীদের সচেতন করে। এছাড়া, গত রাতে কোনাবাড়ির ময়লার ভাগাড় রোড এলাকায় অবৈধভাবে পুরাতন ব্যাটারির সিসা গলানোর একটি কারখানার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে সেটি সিলগালা করা হয়। পরিবেশ সংরক্ষণে পরিবেশ অধিদপ্তরের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ঈদে যানচলাচল নিরবচ্ছিন্ন রাখতে কন্ট্রোল রুম খুলেছে বিআরটিএ
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে নিরবচ্ছিন্ন যানবাহন চলাচল রাখতে নিয়ন্ত্রণকক্ষ (কন্ট্রোল রুম) চালু করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। এ সংক্রান্ত একটি অফিস আদেশ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। বিআরটিএর সদর কার্যালয়ের তৃতীয় তলায় কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষটি খোলা হয়েছে। গতকাল ২৮ মার্চ থেকে আগামী ৫ এপ্রিল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টা এই নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা থাকবে। বিআরটিএ অফিস আদেশে বলা হয়, নিয়ন্ত্রণ কক্ষে দায়িত্ব পাওয়াদের যানজট সৃষ্টি, বাড়তি ভাড়া আদায়, অননুমোদিত/রুট পারমিটবিহীন/গতিসীমা লঙ্ঘনকৃত যানবাহন চলাচল ইত্যাদি সংক্রান্ত সার্বিক কার্যক্রম তদারকি, সমন্বয় এবং সমাধানের লক্ষ্যে উদ্যোগ গ্রহণ করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নিয়ন্ত্রণ কক্ষে যোগাযোগ করতে টেলিফোন নম্বর-১৬১০৭, মোবাইল নম্বর: ০১৫৫০-০৫১৬০৬, ০১৫৫০-০৫৬৫৭৭ এবং ০১৫৫২-১৪৬২২২। এদিকে বিআরটিএর পক্ষ থেকে সার্বিক কার্যক্রম সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ ও সমন্বয়ের জন্য পরিচালক (ইঞ্জি.) শীতাংশু শেখর বিশ্বাসকে ফোকাল পারসন হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

ঈদের ফাঁকা ঢাকায় হুমকি নেই : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
ঈদের সময় ফাঁকা ঢাকায় কোনো ধরনের ষড়যন্ত্রের হুমকি নেই বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, কোনো ধরনের ষড়যন্ত্রের হুমকি নেই। হুমকি থাকলে সেটা সবাইকে নিয়ে মোকাবিলা করা হবে। জনগণ ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করলে কেউ ষড়যন্ত্র করতে পারবে না। শনিবার (২৯ মার্চ) রাজধানীর প্রবেশ ও বহির্মুখ গাবতলী বাস টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, এবার ঈদে সবাই ছুটি ভোগ করছে কিন্তু পুলিশ বিজিবি আনসার ছুটি ভোগ করছে না। তারা কিন্তু নিশ্চিদ্রভাবে নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য ঢাকায় কাজ করছেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যাতে ভালো থাকে এজন্য তারা কাজ করে যাচ্ছে। আপনারা যাতে ভালোভাবে যেতে পারেন। আপনাদের বাসা বাড়ি ভালো থাকে। এজন্য তারা সব ধরনের কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, আমি এখানে এসেছি টিকিটের দাম বেশি আদায় করা হচ্ছে কি না বিষয়টি দেখার জন্য। প্রত্যেকটি কাউন্টারে ভাড়ার চার্ট ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে এরপরও যদি কেউ বেশি ভাড়া আদায় করে তবে আপনারা বিআরটিএ ভিজিলেন্স টিমের কাছে অভিযোগ করবেন। এছাড়াও পুলিশ কন্ট্রোল রুমে অভিযোগ করবেন। জাহাঙ্গীর আলম আরও বলেন, দুই একটা ছোটখাটো অভিযোগ রয়েছে সেগুলোর বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। সবাই আপনারা দোয়া করবেন যাত্রীরা যাতে ভালোভাবে যেতে পারে। রাস্তাঘাটে যাতে কোনো ধরনের সমস্যা না হয়। আমি চালকদের সাথে কথা বলেছি তারা রেস্ট পায় কি না। কারণ রেস্ট না পেলে সড়কে অনেক সময় দুর্ঘটনা ঘটে। এজন্য চালকরা যাতে রেস্ট পায় বিষয়টি মালিকদের বলা হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, সরকারের উদ্যোগ ছিল বলেই মানুষ এবার স্বস্তিতে বাড়ি যেতে পারছে। আমরা চেষ্টা করছি তারা যেন ভালোভাবে বাড়ি যেতে পারেন এবং ভালোভাবে আবার ঢাকায় ফিরে আসতে পারেন। নগরবাসীর ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করার লক্ষ্যে গাবতলী বাস টার্মিনাল ও আশপাশের এলাকা পরিদর্শন করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। বেলা ১১টার পর রাজধানীর প্রবেশ ও বহির্মুখ গাবতলী বাস টার্মিনাল আসেন তিনি। এসময় তিনি কাউন্টারগুলো পরিদর্শন করেন এবং ভাড়ার তালিকা দেখেন।

জাতীয় ঈদগাহে ঈদ জামাতের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন
জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে প্রধান ঈদ জামাত আয়োজনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শাহজাহান মিয়া। শনিবার (২৯ মার্চ) জাতীয় ঈদগাহ ময়দান পরিদর্শন শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান তিনি। প্রশাসক শাহজাহান জানান, জাতীয় ঈদগাহে প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লির জন্য নামাজের স্থান প্রস্তুত করা হয়েছে। যেখানে রাষ্ট্রপতি, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, কূটনীতিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ঈদের জামাতে অংশ নেবেন। এছাড়া মুসল্লিদের নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য নিচের পদক্ষেপগুলো নেওয়া হয়েছে। বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থায় পুলিশ, র্যাব ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবে। প্রশাসক জানান, ঈদ জামায়াতে মুসল্লীদের ওজু ও টয়লেটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। জরুরি স্বাস্থ্যসেবার জন্য মেডিকেল টিম ও অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত থাকবে। আর বৃষ্টি বা প্রতিকূল আবহাওয়ার কথা মাথায় রেখে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে সকাল ৯টায় দ্বিতীয় ঈদের জামাতের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রশাসক ঢাকাবাসীকে প্রধান ঈদ জামাতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমরা সব ব্যবস্থা সম্পন্ন করেছি, যাতে মুসল্লিরা স্বাচ্ছন্দ্যে ও নিরাপদে ঈদের নামাজ আদায় করতে পারেন।

ঈদযাত্রা পরিদর্শনে গাবতলী বাস টার্মিনালে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
সিয়াম সাধনার মাস রমজান। দীর্ঘ এক মাসের রোজা শেষে পরিবারের সঙ্গে ঈদুল আজহা উদযাপনে বাড়ির পথে ছুটছেন নগরের সাধারণ মানুষ। নগরবাসীর এই ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করার লক্ষ্যে গাবতলী বাস টার্মিনাল ও আশপাশের এলাকা পরিদর্শন করছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.)। শনিবার (২৯ মার্চ) বেলা ১১টার পর রাজধানীর প্রবেশ ও বাহিরমুখ গাবতলী বাস টার্মিনাল আসেন তিনি। এ সময় তিনি কাউন্টারগুলো পরিদর্শন করেন এবং ভাড়ার তালিকা দেখেন। এদিকে আজ সকাল থেকে সরেজমিনে দেখা গেছে, আসন্ন ঈদ যাত্রায় বিগত দিনগুলোতে আশানুরূপ যাত্রী না থাকার কথা জানানো হলেও আজ গাবতলী বাস টার্মিনালে মোটামুটি যাত্রীর চাপ দেখা গেছে। কোনো কোনো কাউন্টারের সামনে যাত্রীদের জটলাও দেখা গেছে। তবে বিগত বছরগুলোর মতো যাত্রীদের উপচে পড়ার চিত্র নেই। আবার প্রায় প্রতিটা কাউন্টারের টিকিট বিক্রয় প্রতিনিধিদের যাত্রী ডাকার চিত্রও দেখা গেছে। এদিকে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নজরদারির চিত্রও দেখা গেছে। টার্মিনালের প্রবেশমুখে পুলিশ ও র্যাবের কন্ট্রোল রুম দেখা গেছে। সেই সঙ্গে গাবতলী সড়কের যানজট নিরসনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখতেও দেখা গেছে।ৎএছাড়াও টার্মিনালের মাইকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করলে অভিযোগের আহ্বান ও পরিবহন কাউন্টার থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় না করতে নির্দেশনাও দেওয়া হচ্ছে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও মাইকে জানানো হয়।