
নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার বিষয়টি ঠেকানো সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, চুক্তি কোন পর্যায়ে হবে—সে বিষয়ে তিনি নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন এবং কোনো চুক্তিতে কিছু চাপিয়ে দেওয়া হবে না।
বৃহস্পতিবার (০৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রাম বন্দর ভবনের সামনে আন্দোলনরত শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা শেষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন উপদেষ্টা।
শ্রমিকদের কর্মবিরতি প্রসঙ্গে সমালোচনা করে এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “শ্রমিকরা যেসব দাবি জানিয়েছেন তা আমি বিবেচনা করছি। এরপরও যদি শ্রমিকরা কাল সকাল থেকে কাজে না ফেরেন এবং যারা কাজ করতে চায় তাদের বাঁধা দেন তাহলে সরকার হার্ড লাইনে যাবে।”
পবিত্র রমজান মাস সামনে রেখে তিনি আরও বলেন, “সামনে রমজান। বন্দরে রমজানের অনেক পণ্য আছে। এ সময় পোর্ট বন্ধ রেখে এমন কর্মসূচি কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটা মানুষকে কষ্ট দেওয়া। এটা অমানবিক। এই কষ্টের দায়ভার কে নেবে? পোর্ট বন্ধ রাখার এখতিয়ার কারো নেয়।”
শ্রমিক আন্দোলনের উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন উপদেষ্টা। তিনি বলেন, “শ্রমিক নেতাদের আমি আস্বস্ত করেছি। তারা যদি আস্বস্ত না হয়, আমি বলব তাদের অন্য মতলব আছে।”
এনসিটি ইজারা সংক্রান্ত বিষয়টি উচ্চ আদালতে বিচারাধীন থাকার কথা উল্লেখ করে এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “আদালত এখনো সিদ্ধান্ত দেননি। আর আদালত যদি বলে এই চুক্তি করা যাবে না তাহলে আমাদের আদালতের আদেশের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই।”
চুক্তি প্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছতা বা তাড়াহুড়োর অভিযোগ নাকচ করে তিনি বলেন, “চুক্তি নিয়ে কোনো ধরনের তাড়াহুড়ো করা হচ্ছে না। গত ছয় মাস ধরে ডিপি ওয়ার্ল্ডের প্রতিনিধিরা বন্দরে আসছেন। গত তিন মাস ধরে নেগোসিয়েশন চলছে। এখানে তাড়াহুড়োর কি আছে?”
দেশের স্বার্থের প্রশ্নে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে উপদেষ্টা সাংবাদিকদের বলেন, “দেশের স্বার্থ বিরোধী কোনো চুক্তি এই সরকার করবে না। অন্তত আমি যতক্ষণ আছি তা হতে দেব না।”
এর আগে সকালে প্রায় ১০টা ৩০ মিনিটে বন্দর ভবনে পৌঁছালে শ্রমিকদের তীব্র বিক্ষোভের মুখে পড়েন উপদেষ্টা। উত্তেজিত শ্রমিকদের বাধার কারণে তার গাড়িবহর প্রায় ২০ মিনিট আটকে থাকে। পরে ব্যবসায়ী নেতা ও বন্দর কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে শ্রমিকদের দুই প্রতিনিধিকে চট্টগ্রাম বোট ক্লাবে আলোচনার প্রস্তাব দিলেও শ্রমিকরা বন্দর ভবনের বাইরে আলোচনায় বসতে রাজি হননি। পরিস্থিতির কারণে দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে কোনো আলোচনা ছাড়াই শ্রমিকদের দুয়োধ্বনির মধ্যে তিনি বন্দর ভবন ত্যাগ করেন।
তবে সংকট সমাধানের উদ্যোগ হিসেবে দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে পুনরায় বন্দর ভবনে ফিরে এসে শ্রমিকদের ১৪ সদস্যের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে বসেন উপদেষ্টা। বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে বিকেলে চট্টগ্রাম বোট ক্লাবে ‘পোর্ট ইউজারস ফোরাম’-এর নেতাদের সঙ্গে আরেকটি মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।