
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) সোমবার (২০ জানুয়ারি) গুলশান-২ নগর ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা করেছে, বাড়িতে ভাড়াটিয়ার প্রবেশাধিকার সর্বসময় নিশ্চিত রাখতে হবে। বাড়ির সার্বিক নিরাপত্তা এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বাড়িওয়ালা কোনো পদক্ষেপ নিলে ভাড়াটিয়াকে আগেই অবহিত করতে হবে এবং বাস্তবায়নের আগে তার মতামত গ্রহণ করতে হবে।
ভাড়াটিয়ার অধিকার সুরক্ষায় বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৯১-এর নির্দেশনায় ডিএনসিসি ১৬টি মূল নির্দেশিকা জারি করেছে।
প্রধান নির্দেশিকাগুলো:
১. বাড়ির মালিক অবশ্যই তার সম্পত্তি বসবাসের উপযোগী রাখবেন।
২. গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি ও দৈনিক বর্জ্য সংগ্রহসহ সকল ইউটিলিটি পরিষেবা নিরবিচ্ছিন্নভাবে নিশ্চিত করতে হবে। কোনো সমস্যা হলে ভাড়াটিয়াকে অবহিত করে দ্রুত সমাধান করতে হবে।
৩. বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়া (বাড়িওয়ালার অনুমোদন সাপেক্ষে) বাড়ির ছাদ, বারান্দা ও সামনের উন্মুক্ত স্থানে সবুজায়ন (ফুল/ফল/সবজি) করতে পারবেন।
৪. অগ্নিকাণ্ড, ভূমিকম্প বা অন্যান্য দূর্যোগের কারণে নিরাপত্তার জন্য বাড়িওয়ালা ভাড়াটিয়াকে ছাদ ও মূল গেটের চাবি শর্তসাপেক্ষে প্রদান করবেন।
৫. ভাড়াটিয়া মাসের ১০ তারিখের মধ্যে মাসিক ভাড়া প্রদান করবেন। বাড়িওয়ালা অবশ্যই লিখিত রশিদ দেবেন এবং ভাড়াটিয়া স্বাক্ষরযুক্ত রশিদ সংগ্রহ করবেন।
৬. বাড়িতে ভাড়াটিয়ার যেকোনো সময়ে প্রবেশাধিকার থাকবে। বাড়িওয়ালা কোনো ব্যবস্থা নিলে ভাড়াটিয়াকে আগেই জানাতে হবে এবং বাস্তবায়নের আগে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে মতামত গ্রহণ করতে হবে।
৭. মানসম্মত ভাড়া কার্যকর হবে দুই বছর পর্যন্ত এবং ভাড়া বৃদ্ধির সময় হবে জুন-জুলাই।
৮. দুই বছরের মধ্যে ভাড়া বাড়ানো যাবে না। দুই বছরের পর দ্বিপাক্ষিক আলোচনা সাপেক্ষে ভাড়া পরিবর্তন করা যাবে।
৯. ভাড়া সময়মতো না দিলে বাড়িওয়ালা ভাড়াটিয়াকে সতর্ক করবেন। প্রয়োজন হলে ২ মাসের মধ্যে বাড়ি ছাড়ার লিখিত নোটিশ দেওয়া যাবে এবং পূর্বে স্বাক্ষরিত চুক্তি বাতিল করে উচ্ছেদ করা সম্ভব।
১০. আবাসিক চুক্তি বাতিল করতে চাইলে দুই মাসের নোটিশ দিতে হবে।
১১. মানসম্মত ভাড়ার বার্ষিক হার সংশ্লিষ্ট বাজার মূল্যের ১৫% অতিক্রম করতে পারবে না।
১২. লিখিত চুক্তিতে ভাড়ার শর্তাবলী, অগ্রিম জমা ও ছাড়ার সময় উল্লেখ থাকতে হবে।
১৩. ১–৩ মাসের বেশি অগ্রিম ভাড়া নেওয়া যাবে না।
১৪. সিটি করপোরেশন এলাকায় ওয়ার্ড ভিত্তিক বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়া সমিতি গঠন করতে হবে।
১৫. সমস্যা সমাধান করতে উভয় পক্ষের সমিতি আলোচনার মাধ্যমে কাজ করবে। সমাধান না হলে আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে জানাতে হবে।
১৬. ভাড়াটিয়ার অধিকার সুরক্ষায় ডিএনসিসি নিয়মিত সচেতনতা তৈরি করবে এবং জটিলতার ক্ষেত্রে জোন ভিত্তিক আলোচনা সভা আয়োজন করবে।