
সরকারি প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষাকে ঘিরে বড় ধরনের জালিয়াতির চেষ্টা নস্যাৎ করেছে রংপুর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। অভিযানে প্রশ্নফাঁস চক্রের পাঁচ সদস্যকে আটক করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প, স্বাক্ষরিত ফাঁকা চেক, মোবাইল ফোন ও অত্যাধুনিক ডিজিটাল ডিভাইস উদ্ধার করা হয়েছে।
আটক ব্যক্তিরা হলেন—রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার রামেশ্বরপুর গ্রামের রফিক মণ্ডলের ছেলে সারোয়ার ইসলাম (৩০), পীরগাছা উপজেলার দেউতি বাজার এলাকার চান মিয়ার ছেলে আল-আমিন মোহাম্মদ আহাদ (৩৪), পীরগঞ্জের আসমতপুর গ্রামের খাজা নাজিম উদ্দিনের ছেলে মেজবাহ হামিদুল্লাহ প্রধান (২৯), একই উপজেলার কাদিরাবাদ গ্রামের এনামুল হকের ছেলে রাশেদুল ইসলাম রকি (২৮) এবং পাবনার চাটমোহরের ছাইকোলা দীঘল গ্রামের বারেক আলীর মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস বীথি (২৬)।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) নগরীর বিভিন্ন স্থান থেকে তাদের আটক করা হয় বলে জানিয়েছেন মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী।
তিনি জানান, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ–২০২৫-এর লিখিত পরীক্ষা কেন্দ্র করে একটি সংঘবদ্ধ চক্র আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে জালিয়াতির পরিকল্পনা করছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনে ব্যবহারের উপযোগী ১৫টি ডিভাইস, ৫টি স্মার্টফোন, ২টি ফিচার ফোন, ১৩টি সিমকার্ড, ৭টি ব্লুটুথ এয়ারপড, এয়ারপডের ১৯টি ব্যাটারি, এয়ারপড বসানোর ১টি ফরসেপ জব্দ করা হয়। পাশাপাশি ১০০ টাকার ছয়টি ফাঁকা নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প, স্বাক্ষরিত দুটি ফাঁকা চেক এবং দুটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।
সনাতন চক্রবর্তী আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটকরা স্বীকার করেছে যে, পরীক্ষার্থীদের সরবরাহের উদ্দেশ্যে এসব ডিজিটাল ডিভাইস তারা সংগ্রহ করেছিল। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) রংপুর নগরীর পুলিশ লাইনসংলগ্ন ক্যাপ্টেন ব্যাকোলজি মোড় এলাকা থেকে আরও দুজনকে আটক করা হয়। তারা হলেন—মিঠাপুকুর উপজেলার কাফ্রিখাল এলাকার শরিফুল ইসলামের ছেলে গোলাম কিবরিয়া এবং গোপাল চন্দ্রের ছেলে সুমন চন্দ্র।
উল্লেখ্য, সারা দেশের মতো রংপুরেও শুক্রবার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। নগরীর ২১টি কেন্দ্রে বিকেল ৩টা থেকে ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত অনুষ্ঠিত লিখিত পরীক্ষায় কয়েক হাজার পরীক্ষার্থী অংশ নেন।