
হিমালয়ের কাছাকাছি অবস্থানের কারণে উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে বয়ে আসা শীতল বাতাসে পঞ্চগড়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ আরও তীব্র রূপ নিয়েছে। কনকনে ঠান্ডায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন জেলার সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠী।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮.০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৯০ শতাংশ এবং বাতাসের গতি ছিল ঘণ্টায় ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার।
এর আগে ভোর ৬টায় তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিসে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিন ধরেই উত্তরের হিমেল বাতাসের প্রভাবে পঞ্চগড়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বিরাজ করছে। বিকেল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দিক থেকে ঠান্ডা বাতাস বইতে শুরু করে, আর কুয়াশাচ্ছন্ন পরিবেশে শীতের তীব্রতা আরও বেড়ে যায়। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত চারপাশ ঘন কুয়াশায় ঢেকে থাকছে।
এই অবস্থায় চা শ্রমিক, পাথর শ্রমিক, রিকশা ও ভ্যানচালকসহ বিভিন্ন শ্রেণির শ্রমজীবী মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। শীতের কারণে দিনমজুরদের দৈনন্দিন আয় কমে গেছে। অনেক পরিবারকে তীব্র ঠান্ডার মধ্যেই কষ্ট করে দিন পার করতে হচ্ছে।
শীত নিবারণের জন্য জেলার বিভিন্ন এলাকায় মানুষকে খড়কুটো জ্বালিয়ে বাড়ির আশপাশ ও রাস্তাঘাটে আগুন পোহাতে দেখা গেছে। তবে প্রচণ্ড শীতে নিম্ন আয়ের মানুষের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি। অনেকেই কাজে যেতে পারছেন না, কারণ এ অঞ্চলের একটি বড় অংশের মানুষ চা বাগান, পাথর কোয়ারি ও দিনমজুরির ওপর নির্ভরশীল।
অব্যাহত এই শীত জনজীবনকে কার্যত স্থবির করে তুলেছে। শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে শিশু ও বয়স্কদের একটি অংশ হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন বলেও জানা গেছে।
এ বিষয়ে তেঁতুলিয়ার প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্র নাথ রায় বলেন, “তেঁতুলিয়ায় কয়েকদিন ধরে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বইছে। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা শুক্রবার সকাল ৯টায় ছিল ৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।” তিনি আরও জানান, তাপমাত্রা আগামী দিনে আরও কমতে পারে।