
শ্রমিক দল নেতা শাকিল মুন্সী হত্যার জের ধরে মাদারীপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে উত্তাল হয়ে ওঠে এলাকা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা চলা এই সংঘর্ষে শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে এবং উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত প্রায় তিন ঘণ্টা মাদারীপুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের নতুন মাদারীপুর এলাকায় এই সংঘর্ষ চলে। ঘটনার সময় এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পুলিশ জানায়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অভিযান চালিয়ে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে এবং নূর ইসলাম হাওলাদার নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকাটিতে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সংঘর্ষে জড়ানো এক পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন মাদারীপুর পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান আক্তার হাওলাদার। অপর পক্ষের নেতৃত্ব দেন মাদারীপুর উপজেলা শ্রমিক দলের নেতা হাছান মুন্সী। তিনি সদর উপজেলা শ্রমিক দলের একাংশের সভাপতি নিহত শাকিল মুন্সীর আপন ভাই এবং শাকিল মুন্সী হত্যা মামলার বাদী।
পুলিশ ও এলাকাবাসীর তথ্যমতে, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর মাদারীপুর পৌর শ্রমিক দলের নতুন কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটিতে আক্তার হাওলাদারের ছোট ভাই যুবলীগ নেতা লিটন হাওলাদারকে পৌর শ্রমিক দলের সভাপতি করা হয়। লিটন হাওলাদার যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকলেও চাঁদাবাজি, লুটপাট, হত্যা ও সংঘর্ষসহ একাধিক মামলার আসামি হওয়ায় এই কমিটির বিরোধিতা করেন সদর উপজেলা শ্রমিক দলের একাংশের সভাপতি শাকিল মুন্সী।
এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের ২৩ মার্চ রাতে লিটনের লোকজন শাকিল মুন্সীকে কুপিয়ে হত্যা করে বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় সদর থানায় শাকিলের ভাই হাছান মুন্সী বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় আক্তার হাওলাদারসহ কয়েকজন গ্রেপ্তার হয়ে কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পান।
এই বিরোধের জের ধরে শনিবার ভোরে আক্তার হাওলাদার পক্ষের লোকজন শ্রমিক দল নেতা হান্নান ঢালীর বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। বিষয়টি জানাজানি হলে আক্তার হাওলাদার ও হাছান মুন্সীর নেতৃত্বে দুই পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, এ সময় একের পর এক ককটেল বিস্ফোরিত হয়। পাশাপাশি একাধিক বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।
খবর পেয়ে পুলিশ, র্যাব ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে যৌথভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অভিযানে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার এবং একজনকে আটক করা হয়।
মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অবস) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “স্থানীয় দুই পক্ষের আধিপত্য নিয়ে দীর্ঘদিন যাবত ছোটখাটো ঘটনা ঘটে আসছিল। আজকে তা চরম আকার ধারন করে। দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়ান তারা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয় এবং যৌথ অভিযান চালিয়ে বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় একজনকে আটক করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।”