
চএকটি ছদ্মনাম, আর তার আড়ালে ধারাবাহিক নৃশংসতা—মশিউর রহমান সম্রাট নামে পরিচিত ব্যক্তি যে আসলে সবুজ শেখ, তা নিশ্চিত করেছে পুলিশ। তার ভাষায়, ‘থার্টি ফোর বা সানডে মানডে ক্লোজড’—এই সংকেতই ছিল হত্যা করার নির্দেশ।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাতে সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (অপারেশন) হেলাল উদ্দিন সম্রাটের প্রকৃত পরিচয় প্রকাশ করেন। এর আগে সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় তাকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে ছয়টি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।
পুলিশ জানায়, মশিউর রহমান সম্রাট নামে পরিচিত ওই ব্যক্তির আসল নাম সবুজ শেখ। তিনি মুন্সীগঞ্জ জেলার লৌহজং থানার হলুদিয়া মুছামান্দা গ্রামের বাসিন্দা এবং পান্না শেখের ছেলে। ২০২৪ সাল থেকে তিনি সাভার মডেল মসজিদ এলাকায় অবস্থান করতেন। পরে সাভার থানার আশপাশে ভবঘুরে জীবনযাপন করতেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
সর্বশেষ জোড়া হত্যাকাণ্ডে নিহত দুজনের মধ্যে একজনের পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে। পুলিশ জানায়, তার নাম তানিয়া আক্তার সোনিয়া। তিনি রাজধানীর উত্তরা এলাকার জসিম উদ্দিনের মেয়ে। পুলিশ দাবি করেছে, তিনি মানসিক প্রতিবন্ধী ছিলেন।
এ বিষয়ে সাভার মডেল থানা পুলিশের পরিদর্শক (অপারেশন) হেলাল উদ্দিন বলেন, “সম্রাটের প্রকৃত পরিচয় জানা গেছে। মূলত তার নাম সবুজ শেখ। সে গতকাল আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে হত্যার দায় স্বীকার করেছে। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। সে ভবঘুরেদের মতো চলাফেরা করতো। ছদ্মনাম ব্যবহার করে অপরাধ করেছে। তার পরিবারের সদস্যরা মুন্সিগঞ্জে থাকেন। তবে তার বিস্তারিত আর কিছু পাওয়া যায়নি।”
পুলিশের তথ্যানুযায়ী, ২০২৫ সালের ৪ জুলাই সাভার মডেল মসজিদের কাছ থেকে আসমা বেগম (৭৫) নামে এক বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর ২৯ আগস্ট রাতে সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টার থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় অজ্ঞাত এক যুবকের মরদেহ পাওয়া যায়, যার পরিচয় এখনো শনাক্ত হয়নি। একই স্থানে ১১ অক্টোবর রাতে অজ্ঞাত (৩০) বছর বয়সী এক নারীর অর্ধনগ্ন মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এরপর ১৯ ডিসেম্বর দুপুরে সাভার পৌর এলাকার থানা রোড় মহল্লার পরিত্যক্ত পৌর কমিউনিটি সেন্টারের দ্বিতীয় তলার টয়লেট থেকে আরও এক পুরুষের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই তিন হত্যাকাণ্ডে নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। সবশেষে রোববার (১৮ জানুয়ারি) দুপুরে সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারের ভেতর থেকে দুইজনের পোড়া মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এদের মধ্যে একজনের পরিচয় নিশ্চিত করা গেছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।