
রাজধানীর কুর্মিটোলা ডিপো থেকে বিপুল পরিমাণ জেট ফুয়েল চুরির অভিযোগ সামনে আসার পর ঘটনাটি তদন্তে নেমেছে পদ্মা অয়েল।
শনিবার (১৪ মার্চ) সকাল থেকেই ডিপোতে গিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই-বাছাই ও সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে সংস্থাটির একটি তদন্ত দল।
শনিবার সকাল ৭টার দিকে তদন্তকারী কর্মকর্তারা কুর্মিটোলা ডিপোতে পৌঁছে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেন। তদন্ত দলে রয়েছেন পদ্মা অয়েলের উপ মহাব্যবস্থাপক (নিরীক্ষা) ও হেড অব ইন্টারনাল অডিট অ্যান্ড কমপ্ল্যায়েন্স মো. শফিউল আজম এসিএ, ব্যবস্থাপক (পরিচালন) পেয়ার আহাম্মদ এবং কর্মকর্তা (ইঞ্জি.) কে এম আবদুর রহিম।
এর আগে ১৩ মার্চ দিবাগত রাতে একটি গণমাধ্যমে ‘অস্থিরতার মধ্যে ৭২ হাজার লিটার জেট ফুয়েল চুরি, নেপথ্যে পুরনো সিন্ডিকেট’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনের পরদিন সকালেই ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে পদ্মা অয়েলের তিন সদস্যের তদন্ত দল ডিপোতে যায়।
তদন্তের অংশ হিসেবে কর্মকর্তারা ডিপোর বিভিন্ন স্থাপনায় স্থাপিত সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করেন। একই সঙ্গে তেলবাহী গাড়ির চলাচল সংক্রান্ত তথ্য মিলিয়ে দেখতে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের ক্যামেরার ফুটেজও পর্যালোচনা করা হয়। এছাড়া ডিপোতে মজুত তেলের পরিমাণ পরিমাপ করে দেখা হয় এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গেও কথা বলেন তদন্তকারীরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বিশেষভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল ডিপো থেকে জেট ফুয়েল নিয়ে আসা ট্যাংকারগুলোর গতিপথ ও কুর্মিটোলা ডিপোতে প্রবেশ সংক্রান্ত তথ্য। নথিতে এসব গাড়ি ডিপোতে পৌঁছেছে বলে উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে তা এসেছে কি না, সেটিই যাচাই করছে তদন্ত দল।
এ বিষয়ে পদ্মা অয়েলের উপ মহাব্যবস্থাপক (নিরীক্ষা) ও হেড অব ইন্টারনাল অডিট অ্যান্ড কমপ্ল্যায়েন্স মো. শফিউল আজম এসিএ বলেন, “নিউজের পরিপ্রেক্ষিতে সকাল থেকে তদন্ত শুরু হয়। এখনো চলমান আছে। আমরা সবকিছু মিলিয়ে দেখছি।”
পদ্মা অয়েলের কর্মকর্তারা জানান, জেট ফুয়েল মূলত বিমানের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তবে তুলনামূলক কম দামের কারণে কিছু অসাধু চক্র এটি অকটেনের সঙ্গে মিশিয়ে খোলা বাজারে বিক্রি করে থাকে।
তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (১১ মার্চ) নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল পদ্মা অয়েল ডিপো থেকে জেট ফুয়েল নিয়ে রওনা হওয়া অন্তত চারটি ট্যাংকার রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পাশের কুর্মিটোলা ডিপোতে পৌঁছায়নি। গাড়িগুলোর নম্বর হলো—৪১-০৭০০, ৪২-০২৫২, ৪১-০৬৪৯ ও ৪১-০৬৯৮। যদিও কাগজে-কলমে দেখানো হয়েছে যে এসব গাড়ি ডিপোতে পৌঁছেছে। বাস্তবে ট্যাংকারগুলোতে থাকা তেল অন্যত্র পাচার করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় পদ্মা অয়েলের কুর্মিটোলা এভিয়েশন ডিপোর ব্যবস্থাপক (এভিয়েশন) মো. সাইদুল হকের নেতৃত্বে একটি পুরনো সিন্ডিকেটের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। তার বিরুদ্ধে অতীতেও তেল চুরির অভিযোগ ছিল। দীর্ঘ সময় ধরে ডিপোতে দায়িত্ব পালন করা এই কর্মকর্তাকে গত বছরের ২০ জানুয়ারি সতর্ক করে চিঠিও দেয় পদ্মা অয়েল কর্তৃপক্ষ।
তবে ওই সতর্কবার্তার পরও কার্যক্রম থামেনি বলে অভিযোগ রয়েছে। এর আগে ১৭ ফেব্রুয়ারি কুর্মিটোলা ডিপো থেকে ধারাবাহিকভাবে তেল চুরির অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)। সংস্থাটির সচিব শাহিনা সুলতানার স্বাক্ষরিত চিঠিতে কমিটিকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে চেয়ারম্যানের কাছে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে সেই প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি কমিটি।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ৮ মার্চ তদন্তের অংশ হিসেবে বিপিসির প্রতিনিধিরা কুর্মিটোলা ডিপো পরিদর্শন করেন। সে সময় তেল চুরির অভিযোগে ডিপোর কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ব্যাপকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।