
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি নির্বাচন-২০২৬-এর ভোট প্রক্রিয়া থেকে নিজেদের প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ আইনজীবী পরিষদ, চট্টগ্রাম’। একই সঙ্গে কমিশন বাতিল করে নতুন কমিশনের অধীনে পুনরায় নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানিয়েছে তারা।
বুধবার (৬ মে) বিকেলে সমিতির মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। সেখানে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন সংগঠনের প্রধান সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট শামসুল আলম।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, পুরো নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় কমিশন নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে এবং একটি নির্দিষ্ট পক্ষকে সুবিধা দিতে কাজ করছে, যার ফলে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।
অ্যাডভোকেট শামসুল আলম বলেন, মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার সময় তাদের প্রার্থীরা বিভিন্ন বাধার সম্মুখীন হন। এমনকি কমিশন কার্যালয়ে প্রবেশেও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে এবং হয়রানির ঘটনাও ঘটেছে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনি তফসিল অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বৈধ প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করার কথা থাকলেও তা করা হয়নি। বারবার যোগাযোগের পরও কমিশনের কাছ থেকে কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও দাবি করা হয়, কমিশনের পক্ষ থেকে সরাসরি ভোটের পরিবর্তে সমঝোতার মাধ্যমে নির্দিষ্ট প্রার্থীদের বিজয়ী ঘোষণার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। এতে রাজি না হওয়ায় তাদের প্রার্থীদের ওপর চাপ ও হুমকি সৃষ্টি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন সংগঠনের নেতারা।
নেতারা জানান, পুরো পরিস্থিতিতে প্রশাসনিক প্রভাব ও চাপের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। এ অবস্থায় আসন্ন নির্বাচনকে তারা গ্রহণযোগ্য মনে না করে ভোট বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ‘ঐক্যবদ্ধ আইনজীবী পরিষদ’।