
ভৌগোলিক সীমানা আর বয়সের দীর্ঘ ব্যবধান ঘুচিয়ে ভালোবাসার টানে সুদূর সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে বাংলাদেশে ছুটে এসেছেন এক দুবাই নাগরিক। আর সেই ভালোবাসাকে চিরস্থায়ী রূপ দিতে অবশেষে ধুমধাম করে বসেছেন বিয়ের পিঁড়িতে। দুবাইয়ের পঞ্চাশোর্ধ্ব নাগরিক সলেমান ও শরীয়তপুরের ২০ বছর বয়সী তরুণী সুবর্ণার এই ব্যতিক্রমী বিয়েতে কনের পরিবার ও স্থানীয়দের মাঝে বইছে আনন্দের বন্যা।
সোমবার (১৫ জুন) শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার মূলনা ইউনিয়নের সাবেক লাউখোলা গ্রামে জাঁকজমকপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে এই আন্তর্জাতিক বিয়ের কাজ সম্পন্ন হয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, জাজিরার সাবেক লাউখোলা এলাকার বাসিন্দা ফারুক খানের মেয়ে সুবর্ণা জীবিকার তাগিদে প্রায় দুই বছর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে (আবুধাবি) পাড়ি জমান। সেখানে একটি পার্কে ঘুরতে গিয়ে স্থানীয় নাগরিক সলেমানের সাথে তাঁর আকস্মিক পরিচয় হয়। সময়ের ব্যবধানে সেই পরিচয় রূপ নেয় গভীর প্রণয়ে। পরবর্তীতে সুবর্ণা বাংলাদেশে ফিরে এলে তাঁর বিরহে গত তিন দিন আগে বিমানযোগে বাংলাদেশে ছুটে আসেন সলেমান। দুই দেশের দুই বাসিন্দার এমন নিখাদ ভালোবাসার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে উভয় পরিবারের সম্মতিতে কনের বাড়িতে জাঁকজমকপূর্ণ বিয়ের আয়োজন করা হয়।
এর আগে গত রোববার রাতে এই যুগলের জমকালো গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। বিয়ের মূল আনুষ্ঠানিকতায় জামাই সলেমানের নিজস্ব অর্থায়নে প্রায় দেড় হাজার আমন্ত্রিত অতিথি ও আত্মীয়-স্বজনের জন্য রাজকীয় ভোজের ব্যবস্থা করে কনের পরিবার। ভিন্ন সংস্কৃতির দুই মানুষের এই পরিণয় নিয়ে এখন পুরো জেলাজুড়ে তুমুল আলোড়ন ও কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে।
বিয়ের পর নবদম্পতির সুখময় ও দীর্ঘায়ু জীবনের জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন শুভাকাঙ্ক্ষীরা। তবে তাড়াহুড়ো করে ভিনদেশি নাগরিকের অতীত ইতিহাস পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই না করে এমন বিয়ে দেওয়া নিয়ে স্থানীয়দের একাংশের মধ্যে কিছুটা সংশয় ও দ্বিমতও দেখা গেছে।
নাতনির এই বিশেষ বিয়ে প্রসঙ্গে সুবর্ণার নানি ফুলজান বিবি পরম আনন্দে বলেন, "নাতিন দুবাই গিয়েছিলো। সেখানে বসে তার সঙ্গে পরিচয় হয়েছে। সে বাংলাদেশে এসে নাতনিকে বিয়ে করেছে। আমরা অনেক খুশি।"
কনের নিকটাত্মীয় রুবিনা বেগম দম্পতির প্রতি শুভকামনা জানিয়ে বলেন, "দুই বছর আগে আমাদের মেয়ে বিদেশ গেছে, সেখান থেকেই এই লোকের সঙ্গে পরিচয়। এখন তারা পছন্দ করে বিয়ে করেছে। আমরা চাই তারা ভালো থাকুক।"
নিজের জীবনের এই স্মরণীয় মুহূর্তে উচ্ছ্বসিত কনে সুবর্ণা সংবাদমাধ্যমকে বলেন, "দুবাই থাকাকালীন তার সঙ্গে পরিচয় হয়েছে। এরপর থেকেই সে আমাকে ভালোবাসে। সেই ভালবাসা থেকেই বিয়ে করতে দুবাই থেকে ছুটে এসেছে। নিজের ইচ্ছেতে তাকে বিয়ে করেছি, আমি খুব খুশি।"
তবে ভিনদেশি ভাষা ও সংস্কৃতির কারণে দুবাই থেকে আসা বর সলেমান গণমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। এমনকি মেয়ের মা-বাবাও মেয়ের নতুন জীবনের সুরক্ষার কথা চিন্তা করে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত থাকেন।
এ ধরনের আন্তর্জাতিক বিয়ের আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ আহম্মেদ জানান, "এমন এধরণের কোনো খবর পাইনি। বিষয়টি খোঁজ খবর নিয়ে জানতে পারবো।"