.jpg)
পঞ্চগড়ের মিরগড় সীমান্তে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের পুশ-ইন আতঙ্ককে কেন্দ্র করে বিজিবির পাশাপাশি স্থানীয়রাও রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন। সীমান্তের বাসিন্দারা বলছেন, আতঙ্কের কারণে রাতে স্বাভাবিক ঘুম হারিয়ে গেছে, দিনেও সন্দেহজনক গতিবিধির দিকে নজর রাখতে হচ্ছে।
সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের মিরগড় সীমান্ত এলাকায় করতোয়া নদী ঘেঁষা এ সীমান্তে বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্ত পিলার বরাবর বিজিবির টহলের পাশাপাশি স্থানীয়দেরও সক্রিয় উপস্থিতি পরিলক্ষিত হয়। লাঠি, বাঁশি ও টর্চ লাইট নিয়ে তারা রাতভর পাহারা দিচ্ছেন এবং সন্দেহজনক কিছু দেখলেই বিজিবিকে জানাচ্ছেন।
গত কয়েকদিন ধরে পঞ্চগড়-১৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের আওতাধীন এ সীমান্তে পুশ-ইন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা জানান, সীমান্ত এলাকায় অস্থিরতার কারণে রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। একই পরিস্থিতি জেলার তেঁতুলিয়া, বোদা ও সদর উপজেলার বিভিন্ন সীমান্তেও বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে সীমান্ত এলাকার বাসিন্দা হোসেন আলী বলেন, ‘আগে রাত হলে ঘুমাতাম। সীমান্তে অস্থিরতার কারণে এখন রাতে ঘুম নেই। রাত জেগে অনেকেই বিজিবির সঙ্গে পাহারা দিচ্ছি। দিনে অপরিচিত কোনো লোক দেখলে খোঁজখবর নেই। সন্দেহজনক মনে হলে বিজিবিকে খবর দেই। পুশ-ইনের কারণে সব সময় আতঙ্কে থাকি। মনে হয়, কখন জানি বিজিবি-বিএসএফ গোলাগুলি শুরু হয়।’
কৃষক ফয়জুল ইসলাম বলেন, ‘শুনেছি পশ্চিমবঙ্গে নতুন ভোট হয়েছে। সেখানে সরকার পরিবর্তনের পর থেকে পুশ-ইনের ঘটনা বাড়ছে। এর আগে গত বছরের মাঝামাঝিতে কয়েক বার পুশ-ইন হয়েছিল। গত বছর একবার নারী, শিশুসহ ২১ জনকে পুশ-ইন করেছিল বিএসএফ। তবে বেশ কিছুদিন ধরে শান্তিতে ছিলাম। আবার পুশ-ইন শুরু হয়েছে।’
পাথর শ্রমিক জয়নদ্দীন বলেন, ‘এ সীমান্ত দিয়ে এখনো পুশ-ইনের ঘটনা ঘটেনি। এ সীমান্তে বিজিবি টহল ও নজরদারি বৃদ্ধি করেছে। তাদের সঙ্গে আমরাও পাহারা দিচ্ছি। সঙ্গে আনসার সদস্যরাও আছে। তাদের সঙ্গে আমরাও লাঠি, বাঁশি ও টর্চ লাইট নিয়ে পাহারা দিচ্ছি।’
হাড়িভাসা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইয়েদ নূর-ই-আলম বলেন, ‘পুশ-ইনের ঘটনা নতুন নয়। এর আগেও ঘটেছে। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠনের পর নতুন করে তৎপরতা দেখা যাচ্ছে। পুশ-ইন ঠেকাতে স্থানীয়রা বিজিবির সঙ্গে রাত জেগে টহল দিচ্ছে। কোনো বাংলাদেশি ভারতে থাকলে সেটার আইনানুগ ব্যবস্থা আছে। উভয় দেশের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকের মাধ্যমে তাদের মানবিকভাবে ফেরত দেবে। কিন্তু এ ধরনের অমানবিক ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।’
পঞ্চগড়-১৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের মিরগড় কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার মো. আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘১৮ বিজিবির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় এ পর্যন্ত কোনো পুশ-ইনের ঘটনা ঘটেনি। স্থানীয়রা সহযোগিতা করছেন। সীমান্তে সবাই সজাগ আছি। যে কোনো অপরাধ প্রতিরোধ করতে সক্ষম হবো ইনশাল্লাহ।’
নীলফামারী-৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘পুশ-ইন নিয়ে একাধিক পতাকা বৈঠকে কড়া প্রতিবাদ করেছি। রাতের আঁধারে কাউকে জোর করে ঠেলে পাঠিয়ে দেওয়া কোনোভাবেই মেনে নিতে পারি না। সীমান্ত এলাকায় মাইকিং করে স্থানীয়দের সচেতন করা হচ্ছে। বিজিবি সীমান্তে সর্বদা সজাগ রয়েছে।’