
সিলেটের হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্স খুলে টাকা গণনার সময় নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকারের পাশাপাশি কয়েকটি চিরকুটও পাওয়া গেছে। এর মধ্যে একটি চিরকুটে সদ্য প্রত্যাহার হওয়া জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সারওয়ার আলমের প্রতি সমর্থন জানিয়ে মাজারের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে।
সোমবার (২২ জুন) বিকেলে মাজার প্রাঙ্গণে চার দিনের জমা হওয়া দানের অর্থ গণনা করা হয়। এ সময় প্রশাসনের কর্মকর্তারা দানবাক্স থেকে বিভিন্ন চিঠি ও স্বর্ণালংকার উদ্ধার করেন। জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার (সাধারণ শাখা) তানভীর হোসাইন সজীব বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া চিঠিগুলোর একটি সরাসরি সারওয়ার আলমের দৃষ্টি আকর্ষণ করে লেখা। সেখানে মাজারের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয় এবং এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে মাজারের জমি দখল করে দোকান ও বাড়ি নির্মাণের অভিযোগ আনা হয়।
চিরকুটে লেখক দাবি করেন, মাজারের অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রশাসনের পদক্ষেপের কারণে সারওয়ার আলম দেশ-বিদেশে প্রশংসিত হচ্ছেন। একই সঙ্গে দরগার এক কেরানির বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও মাজারের জায়গা দখলের অভিযোগও উত্থাপন করা হয়। তবে চিরকুটে উত্থাপিত এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র কোনো সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এর আগে মাজারের আয়-ব্যয়ের হিসাব আরও স্বচ্ছ করার উদ্যোগ হিসেবে ১৮ জুন নতুন দানবাক্স স্থাপন এবং পুরোনো তিনটি ডেগ সিলগালা করে জেলা প্রশাসন। পরে রোববার (২১ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করা হয়। তার প্রত্যাহারাদেশ বাতিল করে পুনর্বহালের দাবিতে সিলেটে বিভিন্ন কর্মসূচিও পালিত হচ্ছে।
সোমবার সন্ধ্যায় দানবাক্সের অর্থ গণনা শেষে প্রশাসন জানায়, চার দিনে মাজারে মোট ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা জমা হয়েছে। দানবাক্স খুলে প্রকাশ্যে অর্থ গণনার এই উদ্যোগকে ঘিরে মাজার প্রাঙ্গণে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও কৌতূহল দেখা যায়।