
জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার রোয়াইড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে জুতাপেটা ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা হারুনুর রশিদকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে দল। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
অভিযুক্ত হারুনুর রশিদ রুকিন্দীপুর ইউনিয়ন বিএনপির ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি।
শুক্রবার (২৬ জুন) রাতে রুকিন্দীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. আমিনুর রহমান (ছোয়াত) এবং সাধারণ সম্পাদক আবু সাহেদ মো. শাহিদুল আকরাম সোহেলের স্বাক্ষরিত পৃথক অফিস আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
কারণ দর্শানোর নোটিশে উল্লেখ করা হয়, গত ২১ জুন রোয়াইড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে প্রধান শিক্ষক মো. আজাদুর রহমানের সঙ্গে হারুনুর রশিদের কথা কাটাকাটি হয়। পরে ২৬ জুন প্রধান শিক্ষক সংবাদ সম্মেলন করলে বিষয়টি ইউনিয়ন বিএনপির নজরে আসে। এ ঘটনায় হারুনুর রশিদকে তিন দিনের মধ্যে লিখিতভাবে কারণ ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
এছাড়া পৃথক অফিস আদেশে বলা হয়েছে, প্রধান শিক্ষকের সংবাদ সম্মেলনের পর বিষয়টি দলের নজরে আসে। ঘটনার প্রকৃত তথ্য উদঘাটনের জন্য সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে রুকিন্দীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি কামরুজ্জামান জুয়েলকে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন কৃষকদলের সভাপতি মতিয়ার রহমান, ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. আব্দুল হাকিম, ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মনছুর রহমান এবং ইউনিয়ন বিএনপির দপ্তর সম্পাদক মো. ফারুক হোসেন।
এর আগে শুক্রবার সকালে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের একটি কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজাদুর রহমান অভিযোগ করেন, বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে হারুনুর রশিদ তাকে জুতা দিয়ে মারধর করেন। এ ঘটনায় তিনি ২২ জুন আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
ওই অভিযোগের অনুলিপি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছেও জমা দেওয়া হয়েছে। থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগেও তিনি একই অভিযোগের কথা উল্লেখ করেছেন।
রুকিন্দীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু সাহেদ মো. শাহিদুল আকরাম সোহেল বলেন, দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হতে পারে—এমন যেকোনো অভিযোগের বিষয়ে সাংগঠনিকভাবে ব্যাখ্যা চাওয়া এবং প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে তদন্ত করা দলের নিয়মিত প্রক্রিয়া।
এ বিষয়ে জানতে রুকিন্দীপুর ইউনিয়ন বিএনপির ৯ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি হারুনুর রশিদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।