
পাবনার চাটমোহর উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ভিপি সেলিম রেজার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসায়ীদের মদদ দেওয়া এবং এলাকাবাসীকে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
‘মাদককে না বলি, সুস্থ সমাজ গড়ি’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে শনিবার (৪ জুলাই) রাতে এলাকাবাসীর উদ্যোগে উপজেলার চরপাড়া বটতলা এলাকায় গণস্বাক্ষর কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এ সময় মাদক ব্যবসায়ী ও তাদের মদদদাতাদের বিরুদ্ধে অবস্থান জানিয়ে বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ গণস্বাক্ষর করেন।
গণস্বাক্ষর চলাকালে সংক্ষিপ্ত সভায় বক্তব্য দেন গুনাইগাছা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিকুল ইসলাম আলাল, ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মজিবর রহমান, বিএনপি কর্মী হেলাল উদ্দিন, শুকুর আলী, মোরশেদা খাতুন ও জমেলা খাতুন।
বক্তারা বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় চরপাড়া এলাকায় মাদক বিক্রি ও সেবন বন্ধে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা এলাকাবাসীকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। প্রশাসনও মাদকের বিরুদ্ধে তৎপর। মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় তারা বিএনপি নেতাদের আশ্রয় নিচ্ছে। তাদের অভিযোগ, আশরাফুল নামে এক মাদক ব্যবসায়ীর পক্ষ নিয়ে উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ভিপি সেলিম রেজা তাকে দিয়ে থানায় এলাকাবাসীর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করিয়েছেন।
বক্তারা আরও বলেন, সম্প্রতি মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া এলাকার কয়েকজন বিএনপি নেতা ও এলাকাবাসীর বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসক, ইউএনও, এসি ল্যান্ড ও থানার ওসির কাছে আবারও লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ওই আশরাফুল। আর তাকে আশ্রয় দিয়ে সহযোগিতা করছেন বিএনপি নেতা সেলিম রেজা। অথচ গত ৩ জুলাই ওই অভিযুক্ত মাদক ব্যবসায়ী আশরাফুলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বারবার এলাকাবাসীকে হয়রানি না করতে প্রশাসনের কাছে দাবি জানান স্থানীয়রা। সেই সঙ্গে বিএনপি নেতা সেলিম রেজার বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নিতে জেলা ও কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে জোর দাবি জানান তারা।
এ বিষয়ে চাটমোহর উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ভিপি সেলিম রেজার বক্তব্য জানতে রোববার (৫ জুলাই) বিকেল ৬টা ৩৫ মিনিটের দিকে একাধিকবার তার মুঠোফোনে কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে খুদেবার্তা পাঠিয়েও তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
প্রসঙ্গত, এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ জুন চরপাড়া গ্রামের মাদক ব্যবসায়ী আশরাফুল ইসলামকে তার মাদক ব্যবসা বন্ধ করতে মৌখিকভাবে নিষেধ করেন এলাকাবাসী। পরদিন ৮ জুন ২ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ এনে এলাকার কয়েকজনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দেন আশরাফুল। আর তার পক্ষ নিয়ে সহযোগিতা করেন বিএনপি নেতা সেলিম রেজা। মিথ্যা অভিযোগে এলাকাবাসীকে হয়রানির প্রতিবাদে ১৩ জুন সন্ধ্যায় প্রথম বিক্ষোভ মিছিল করেন স্থানীয়রা।
১৭ জুন গুনাইগাছা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আলাল ও বিএনপি কর্মী হেলালকে লাঞ্ছিত করেন বিএনপি নেতা সেলিম রেজার চাচা, গুনাইগাছা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ইজাবত আলী প্রামাণিকের তিন ছেলে কুতুব সাধু, কুদ্দুস ভান্ডারী ও কিতাব সাধু এবং চাচাতো ভাই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম। এ ঘটনার প্রতিবাদে ২০ জুন সন্ধ্যায় দ্বিতীয় দফায় বিক্ষোভ মিছিল করেন এলাকাবাসী। এদিন মিছিল করতে গেলে বিএনপি নেতা সেলিম রেজা ও তার সহযোগীরা বাধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হন।