
টানা ভারী বৃষ্টিতে রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে পাহাড়ধস ও গাছ উপড়ে পড়ায় কাপ্তাই-চট্টগ্রাম সড়কে যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। এতে সড়কের দুই পাশে আটকা পড়েছে অসংখ্য যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী যানবাহন, ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রী ও চালকেরা।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার ওয়াগ্গা ইউনিয়নের বালুচরা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কাপ্তাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মাহমুদুল হাসান রুবেল।
স্থানীয়দের ভাষ্য, কয়েক দিনের টানা অতিবৃষ্টির কারণে মঙ্গলবার সকালে হঠাৎ পাহাড়ের একটি অংশ ধসে কাপ্তাই-চট্টগ্রাম সড়কের ওপর এসে পড়ে। একই সময়ে সড়কের ওপর একটি বড় গাছও উপড়ে পড়ে, ফলে উভয় দিকের যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
ওসি শেখ মাহমুদুল হাসান রুবেল, স্থানীয় ইউপি সদস্য মোহাম্মদ সরোয়ার এবং কাপ্তাই উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহাবুব হাসান বাবু জানান, সোমবার রাত থেকে চলমান বৃষ্টির কারণে গাছটি উপড়ে পড়ে এবং পাহাড়ধসে সড়ক মাটি দিয়ে ঢেকে যায়। এতে সড়কটি অচল হয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে ফায়ার সার্ভিস। সড়ক থেকে গাছ ও ধসে পড়া মাটি সরিয়ে যত দ্রুত সম্ভব যান চলাচল স্বাভাবিক করতে কাজ করছেন উদ্ধারকর্মীরা।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় কাদা ও মাটি অপসারণের কাজে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। তারপরও দ্রুত সড়ক পরিষ্কার করে যান চলাচল পুনরায় চালুর চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রায়হানুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কাপ্তাই থানার ওসি শেখ মাহমুদুল হাসান রুবেল, সহকারী তথ্য কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন এবং উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন।
এদিকে, টানা বর্ষণে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে পাহাড়ধসে কয়েকটি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসরত মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে।
ইউএনও মো. রায়হানুল ইসলাম জানান, জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে ১৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সেখানে আশ্রয় নেওয়া মানুষের জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে খাবারের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।