
খাগড়াছড়িতে টানা বর্ষণে জনজীবর স্থবির হয়ে পড়েছে। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সহস্রাধিক পরিবার জলাবদ্ধতা ও পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় খাগড়াছড়ির চেঙ্গী ও মাইনী নদীসহ ছড়া খালের পানি কিছুটা নেমেছে। মেরুন এলাকায় পানি অপরিরিবর্তীত রয়েছে। বৃষ্টি হলে বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
জেলা সদরের কিছু নিচু স্থানে জলাবদ্ধতার উন্নতি হলেও বেতছড়ি মার্মাপাড়া, বিচিতলা, লার্মাপাড়া, বটতলায় আংশিক এলাকায় এখন পর্যন্ত জলাবদ্ধতা রয়েছে। তবে সকাল দশটা থেকে থেমে থেমে বৃষ্টি বৃষ্টি হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে পাহাড় ধসের সম্ভাবনা রয়েছে। পাহাড় ধসের আসঙ্খায় জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
মাটিরাঙ্গায় দুপুরের পর থেকে বৃষ্টি বন্ধ রয়েছে। প্লাবিত হওয়া নিম্নাঞ্চলের বাড়ি ঘর থেকে পানি নেমে গেলেও গোমতি নদী,ধলিয়া খাল ও সীমান্তবর্তী ফেনী নদীর পানি অপরিবর্তীত রয়েছে। উল্লেখ যোগ্য কোন ধরণের পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেনি।
মহালছড়ি উপজেলার ক্যয়াংঘাট নতুনপাড়া এলাকায় সকাল ১০টায় মাটির ঘরের চাল ধসে পড়ে হালিমা বেগম (৬৫) নামে এক বৃদ্ধার পায়ের হাড় ভেঙে গুরুতর আহত হয়। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসা চলছে বলে জানা গেছে।
পানছড়ি উপজেলার লতিবান ইউনিয়নের উত্তর নালকাটা ব্রীজ সংলগ্ন শুকনোছড়ি-নালকাটা সড়ক ভেঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।
দীঘিমালার অবস্থা স্থতিশীলা রয়েছে। মাইনী নদীর পানি কিছুটা কমলেও জলাবদ্ধতা ও প্লাবিত এলাকাগুলো থেকে পানি নামেনি। উপজেলাী কবাখালি, মেরুংসহ কয়েকটিস্থানে সড়ক তলিয়ে থাকায় এখনো বন্ধ যান চলাচল। দীঘিনালা থেকে সাজেক-লংগদু ও বাঘাইছড়ি সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন।
দীঘিনালা ৩৩ কেভি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র থেকে পানি নেমে গেছে। দিঘীনালা সদরে বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করা হলেও ,বাঘাইছড়ি,সাজেক,কোবাখালী,লংগদু, মেরুন বিতরণ লাইনে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রয়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা জুড়ে ইতিমধ্যে ১৩৫টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। আকস্মিক বন্যায় ঘরবাড়ি ডুবে যাওয়ায় শতাধিক পরিবার এসব আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নিয়েছেন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুকনো / রান্না করা খাবার খাবার সর্বরাহ করা হচ্ছে।
বৃষ্টির কারণে বৃহস্পতিবার খাগড়াছড়ির সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষনা করা হয়েছে।
এদিকে খাগড়াছড়ি আসনের সাংসদ ওয়াদুদ ভুইয়ার নির্দেশে দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দদের সাথে নিয়ে খাগড়াছড়ি সদর উত্তর গঞ্জপাড়া দক্ষিণ গঞ্জপাড়া আশ্রয় কেন্দ্রেসহ বন্যা কবলিত সদরের বিভিন্ন এলাকার মানুষের মঝে খারার বিতরন অব্যাহত রয়েয়ছে। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমএন আবছার ও যুবদল সভাপতি মাহবুবুল আলম সবুজ'র নেতৃেত্বে জেলা বিএনপি অঙবগ ও সহযোগি সংগঠনের নেতৃবৃন্দেরা দুর্গতদের মাঝে রান্না করা খাবার বিতরণ করছেন।
খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত বলেন, দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসকারীদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে। জেলা জুড়ে খোলা ১৩৫টি আশ্রয়কেন্দ্রে দুর্গতদের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা ও রান্না করা খাবারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।