
কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িত তিন আসামিকে গ্রেফতার করেছে জেলা পুলিশ।
বুধবার (১৫ জুলাই) দিবাগত রাতে পুলিশের তাৎক্ষণিক সাঁড়াশি অভিযানে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন বরগুনা জেলার বামনা উপজেলার চালিতাবুনিয়া গ্রামের মৃত সুলতানের ছেলে হেলাল, মহিউদ্দিন ও জাকির।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে মিঠামইন সদর বেড়িবাঁধ এলাকায় নিজ বাড়ির সামনে জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর ও তাঁর সহযোগী হাদিসের ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। গুরুতর আহত অবস্থায় দুজনকে প্রথমে মিঠামইন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ১১টার দিকে জাহাঙ্গীর আলম মারা যান। হামলায় আহত হাদিস চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার খবর পেয়ে কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান হাসপাতালে গিয়ে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের নির্দেশ দেন। তাঁর সরাসরি তত্ত্বাবধানে জেলা পুলিশের একাধিক দল তাৎক্ষণিক সাঁড়াশি অভিযান শুরু করে।
অভিযানের একপর্যায়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িত তিন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের বর্তমানে থানা হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের পরিকল্পনাকারী ও সম্ভাব্য অন্যান্য জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান (এসপি) বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, হামলাকারীরা উপজেলার বাইরে থেকে এসে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। ঘটনার পরপরই হত্যাকাণ্ডে জড়িত তিনজনের মধ্যে একজনকে আটক করা হয়। পরে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে বাকি দুজনকেও গ্রেফতার করা হয়।
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে তারা একটি ভাড়াটে অপরাধী চক্রের সদস্য বলে তথ্য পাওয়া গেছে। অপরাধী যেই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। এ হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে কারা রয়েছে, তা উদ্ঘাটনে জেলা পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।
এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পাশাপাশি পুরো এলাকায় জেলা পুলিশের গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।