
অনলাইনে পরিচয় থেকে প্রেম, এরপর চীন থেকে বাংলাদেশে এসে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার এক তরুণীকে বিয়ে করেছেন চীনের নাগরিক সোহান চাও (৩৮)। এ ঘটনা স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ইসলাম গ্রহণের পর তার নতুন নাম রাখা হয়েছে ‘মোহাম্মদ’।
শনিবার (১৮ জুলাই) বিকেলে বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে কৌতূহলী মানুষ কসবা উপজেলার কুটি ইউনিয়নের বাইসার গ্রামের বাসিন্দা আয়েশা সুলতানার (২১) বাড়িতে ভিড় করেন। আয়েশা ওই গ্রামের আবদুল আলিমের মেয়ে। আর সোহান চাও চীনের হেনান প্রদেশের নানইয়াং শহরের বাসিন্দা সংফু ফ্যাংয়ের ছেলে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, একটি চীনা ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে প্রায় তিন মাস আগে আয়েশা ও সোহান চাওয়ের পরিচয় হয়। নিয়মিত যোগাযোগের একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে পারিবারিক সম্মতিতে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন তারা।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, গত ১২ জুন বাংলাদেশে আসেন সোহান। এরপর ১৪ জুন তাকে নিয়ে ঢাকায় যান আয়েশা। সেখানে হাইকোর্টের আইনজীবী লিমা আক্তারের মাধ্যমে সোহানের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। উভয় পরিবারের সম্মতির পর তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। এরপর এফিডেভিট সম্পন্ন করে ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী তাদের বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়।
আয়েশা সুলতানা বলেন, ‘ওয়ালটপ’ নামের একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সোহানের সঙ্গে তার পরিচয় হয়েছিল। পরিচয় থেকে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে তিনি বাংলাদেশে এসে ইসলাম গ্রহণ করেন এবং তাদের বিয়ে হয়। বর্তমানে তারা ঢাকায় অবস্থান করছেন।
আয়েশার বাবা আবদুল আলিম বলেন, ‘সোহান বাংলাদেশে আসার পর আমরা আইনজীবীর মাধ্যমে তার পরিচয় ও প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করেছি। ইসলাম গ্রহণের পর মেয়ের সঙ্গে তার বিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন মেয়ের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুতের কাজ চলছে। সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে তারা চীনে যাবেন।’
তবে স্থানীয় বাসিন্দা আলিম হোসেন এ ধরনের আন্তঃদেশীয় বিয়ের বিষয়ে সতর্কতা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, অতীতে বিদেশে নিয়ে গিয়ে বাংলাদেশি নারীদের নানা সমস্যায় পড়ার ঘটনা ঘটেছে। তাই এ ধরনের বিষয়ে সরকারি নজরদারি আরও জোরদার করা উচিত।
এ বিষয়ে কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী মোহাম্মদ রাশেদ বলেন, বিষয়টি তার জানা ছিল না। তিনি এ বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছেন। বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রেডফ্ল্যাগ শব্দ: নেই