
ভোলার লালমোহন উপজেলার লর্ডহার্ডিঞ্জ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে একটি সংখ্যালঘু পরিবারের ওপর হামলা, ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (১৮ জুলাই) সকাল ৯টার দিকে উরন সাধু বাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
হামলার শিকার গোপাল কৃষ্ণ দাস (৪২), পিতা- ওরন চন্দ দাস এবং তার স্ত্রী আখি রানি দাস (৩৩) বর্তমানে লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। শনিবার সকালে অভিযুক্ত আবু কালামের নেতৃত্বে তাদের জমিতে জোরপূর্বক চাষ দিতে গেলে তারা বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আবু কালাম, জাহিদ, কামাল মাঝি (পিতা- মোখলেস রহমান), তাদের চাচাতো ভাই শফিক (পিতা- আবদুল হক পাটোয়ারী)সহ প্রায় ৩০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলাকারীরা গোপাল কৃষ্ণ দাস ও তার স্ত্রীকে মারধর করে গুরুতর আহত করেন। এ সময় তাদের একটি টাচ মোবাইল ফোন ভেঙে ফেলা হয়। পরে বসতঘরে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়ে ঘরে থাকা নগদ ৬ হাজার টাকা নিয়ে যায় বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
গোপাল কৃষ্ণ দাস দাবি করেন, অভিযুক্তরা এর আগে তাদের বিরুদ্ধে আদালতে একটি মামলা (মামলা নং-৬১৬, তারিখ: ১ ডিসেম্বর ২০২৫) দায়ের করেছিলেন। তবে ওই মামলায় আদালত তাদের পক্ষে রায় দেন। এরপর থেকেই অভিযুক্তরা বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছিলেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আবু কালাম ও অন্যদের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ঘটনার পর থেকেই তারা পালাতোক আছেন । একাধিকবার মুঠোফোনে কল করেও তাদেরকে পাওয়া যায়নি।
লালমোহন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. অলিউল ইসলাম বলেন, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় আহত গোপাল কৃষ্ণ দাস ও তার স্ত্রী আখি রানি দাসকে উদ্ধার করে লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।