
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার এক জীবিত ব্যক্তিকে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও ভোটার তথ্যভাণ্ডারে ‘মৃত’ হিসেবে দেখানো হয়েছে। এ ভুলের কারণে ভোটাধিকার হারানোর পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি সেবা পেতেও চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন তিনি।
ভুক্তভোগী ইমান আলী শেখ উপজেলার পৌর এলাকার ফসলান্দি গ্রামের মৃত মাজম আলী শেখের ছেলে। সরকারি তথ্যভাণ্ডারের এ ভুলে তিনি এখন নিজের জীবিত থাকার প্রমাণ দিতে দপ্তরে দপ্তরে ঘুরছেন।
জানা গেছে, জাতীয় পরিচয়পত্র ও ভোটার তালিকায় ইমান আলী শেখকে মৃত হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অথচ তিনি জীবিত এবং পরিবারের সঙ্গে স্বাভাবিক জীবনযাপন করছেন।
সরকারি এ ভুলের কারণে সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে গিয়েও ভোট দিতে পারেননি তিনি। নির্বাচন কর্মকর্তারা তাকে জানান, সরকারি তথ্য অনুযায়ী তিনি মৃত। এরপর থেকে তথ্য সংশোধনের জন্য বিভিন্ন দপ্তরে একাধিকবার যোগাযোগ করলেও এখনো সমস্যার সমাধান হয়নি।
ইমান আলী শেখ বলেন, “আমি জীবিত, অথচ সরকারি কাগজে আমাকে মৃত বানিয়ে রাখা হয়েছে। নিজের জীবিত থাকার প্রমাণ দিতে অফিসে অফিসে ঘুরছি। ভোট দিতে পারিনি। এখন যেকোনো সরকারি কাজেও সমস্যায় পড়ছি।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, একজন জীবিত মানুষকে সরকারি নথিতে মৃত দেখানো চরম অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার পরিচয়। দ্রুত এ ভুল সংশোধন না হলে ভুক্তভোগী ভবিষ্যতে আরও নানা জটিলতায় পড়বেন।
এ বিষয়ে ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা নার্গিস সুলতানা বলেন, ভুক্তভোগী প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ নির্বাচন অফিসে যোগাযোগ করলে যাচাই-বাছাই শেষে তাকে পুনরায় ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের দাবি, শুধু ইমান আলী শেখের তথ্য সংশোধন করলেই দায়িত্ব শেষ হবে না। কীভাবে একজন জীবিত ব্যক্তিকে সরকারি তথ্যভাণ্ডারে মৃত দেখানো হলো, তা তদন্ত করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে আর কোনো নাগরিক এমন ভোগান্তির শিকার না হন, সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।