
পাবনায় একটি মাদরাসার শিশু শিক্ষার্থীকে চুরির অপবাদ দিয়ে নির্মমভাবে বেত্রাঘাত ও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে।
ঘটনাটি গত সোমবার (২০ জুলাই) ঘটলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনার একটি ভিডিও মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে ভাইরাল হলে বিষয়টি সবার নজরে আসে।
অভিযুক্ত সোহানুর রহমান সোহান (২৫) পাবনা সদর উপজেলার ভাড়ারা ইউনিয়নের পীরপুর গ্রামের জামিয়াতুস সুন্নাহ আবাসিক হাফিজিয়া মাদরাসার শিক্ষক।
গুরুতর আহত শিশু শিক্ষার্থী মাহফুজুর রহমান (১৩) দিনাজপুর সদর থানার গণির মোড় নতুনপাড়া এলাকার সাগর হোসেনের ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, গত সোমবার ও মঙ্গলবার দফায় দফায় শিশু শিক্ষার্থী মাহফুজুর রহমানকে মিথ্যা চুরির অপবাদ দিয়ে বেত ও লোহার রড দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে বেধড়ক মারধর করেন শিক্ষক সোহানুর রহমান সোহান। একপর্যায়ে ওই শিক্ষার্থীকে মাদরাসা থেকে বের করে দেওয়া হয়।
বিষয়টি মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে স্থানীয়দের নজরে আসে। ঘটনা জানাজানি হলে ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা সন্ধ্যা ৭টার দিকে মাদরাসায় গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক সোহানকে গণপিটুনি দেন। পরে তাঁকে আটকে রেখে ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।
এ বিষয়ে পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিকুল ইসলাম বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষক ও আহত শিশু শিক্ষার্থীকে স্থানীয়দের সহায়তায় থানায় আনা হয়। পরে দুজনকেই পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
তিনি আরও জানান, বুধবার (২২ জুলাই) অভিযুক্ত শিক্ষক সোহানকে ৫৪ ধারায় বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। আহত শিশুটি বুধবার দুপুরে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে স্থানীয় ওমর ফারুকের জিম্মায় চলে যায়। আইনগত পদক্ষেপের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।