.jpeg)
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ইসলামী যুব আন্দোলনের বন্দর থানার যুগ্ম সম্পাদক জাহিদ আল আমিন বুলবুল (৪০) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত ১১জন আসামিকে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রসহ গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সী।
তিনি জানান, নিহত বুলবুল পেশায় একজন ইজিবাইক গ্যারেজ ব্যবসায়ী। ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের খাবার সরবরাহ করেছিলেন সে। একারণে শেখ সিফাত ও তার সহযোগীরা বুলবুলের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। এর জেরে ২০২৫ সালের ২৩ জুলাই রাতে সিফাতের নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি বুলবুলের অটোরিকশার গ্যারেজে হানা দিয়ে প্রায় ১৮ লাখ ১৭ হাজার টাকার মালামাল লুট করে নেয়।
এ ঘটনায় বুলবুল বাদী হয়ে বন্দর থানায় মামলা করলে আসামিরা তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিতে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২০ আগস্ট রাত সাড়ে আটটার দিকে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে বন্দরের সালেহ নগর এলাকায় শেখ সিফাতসহ ১০-১৫ জন সশস্ত্র ব্যক্তি বুলবুলের গতিরোধ করে দাঁড়ায়।
এ সময় ধারালো অস্ত্র, লোহার পাইপ, রামদা, চাপাতি ও চাকু দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাকে গুরুতর আহত করা হয়। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় বন্দর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের পর রাতেই অভিযান চালিয়ে বন্দরের পাক পাঞ্জাতন সিটি জামে মসজিদ এলাকা থেকে সন্ত্রাসী শেখ সিফাতসহ ১১ জনকে গ্রেফতার করে এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন শেখ সিফাত, জুম্মন ওরফে হোয়াইট জুমান, মাহবুব হোসেন ওরফে মাহফুজ, রিয়াদ, মোঃ সিয়াম, মোসাঃ মিনারা, নাসিমা, রুমা, ইফরান, ইয়াসমিন ও সিজান ওরফে জিসান।
পুলিশ জানায়, প্রধান আসামি শেখ সিফাতের বিরুদ্ধে ১৪টি, জুমানের বিরুদ্ধে ৯টি এবং রিয়াদের বিরুদ্ধে ৪টি মামলা বিভিন্ন আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র ও একটি ওয়াকিটকি উদ্ধার করা হয়েছে।