
চলতি ইলিশ মৌসুমে আশানুরূপ মাছ না পাওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে হতাশায় ছিলেন পাথরঘাটার জেলেরা। আবহাওয়ার বৈরিতায় নিয়মিত সাগরে যেতে না পারায় অনেকের সংসারেও দেখা দিয়েছিল টানাপোড়েন। তবে এবার গভীর বঙ্গোপসাগরে গিয়ে এক জালেই বিপুল পরিমাণ ইলিশ পেয়ে সেই হতাশা অনেকটাই কেটেছে ‘এফবি নাজমা’ ট্রলারের জেলেদের।
মাত্র দুই ঘণ্টা জাল ফেলার পর সেটি তুলতে গিয়ে দেখা যায়, পুরো জালজুড়েই রুপালি ইলিশ। মাছের পরিমাণ এত বেশি ছিল যে, জাল থেকে ইলিশ ছাড়াতেও বেশ বেগ পেতে হয় জেলেদের। পরে প্রায় ১০০ মণ ইলিশ নিয়ে বরগুনার পাথরঘাটা বিএফডিসি মৎস্যঘাটে ফিরে আসে ট্রলারটি। মাছ বিক্রি করে প্রায় ২৫ লাখ টাকা পেয়েছেন ট্রলারটির মালিক।
দুই ঘণ্টার জালেই বিপুল ইলিশ
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এনামুল হোসাইনের মালিকানাধীন ‘এফবি নাজমা’ ট্রলারটি বিপুল পরিমাণ ইলিশ নিয়ে পাথরঘাটা বিএফডিসি মৎস্যঘাটে পৌঁছায়।
ট্রলারের মাঝি বাপ্পি মিয়া জানান, গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে গত ১৭ সেপ্টেম্বর পাথরঘাটা থেকে তারা যাত্রা শুরু করেন। শনিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে বঙ্গোপসাগরের গভীরে গিয়ে জাল ফেলেন তারা।
প্রায় দুই ঘণ্টা পর জাল তোলার সময় তাদের চোখে পড়ে অবিশ্বাস্য দৃশ্য। পুরো জালজুড়ে ধরা পড়েছে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ। একসঙ্গে এত মাছ ধরা পড়ায় জাল থেকে মাছগুলো আলাদা করতে বেশ কষ্ট করতে হয়েছে তাদের।
বৈরী আবহাওয়ায় দীর্ঘদিন হতাশায় ছিলেন জেলেরা
বাপ্পি মিয়া বলেন, গত কয়েক মাস ধরে আবহাওয়া খারাপ থাকায় ইলিশের মৌসুম চললেও তারা ঠিকমতো সাগরে মাছ ধরতে পারেননি। ফলে মাছ না পাওয়ায় হতাশার মধ্যেই দিন কাটছিল।
তবে এবার এক জালেই বিপুল পরিমাণ ইলিশ পাওয়ায় ট্রলার মালিক থেকে শুরু করে জেলে—সবাই আনন্দিত। রোববার সকালে মাছ বিক্রি শেষ করার পর রাতেই আবার গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা।
ট্রলারের জেলে আলমগীর হোসেন বলেন, চলতি ইলিশ মৌসুমে প্রত্যাশা অনুযায়ী মাছ না পাওয়ায় তাদের সংসার চালাতে অনেক কষ্ট হচ্ছিল। একসঙ্গে এত বিপুল পরিমাণ মাছ পাওয়ায় এখন জেলেদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।
ট্রলারটির মালিক এনামুল হোসাইন জানান, প্রায় ১০০ মণ ইলিশ ২৫ হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি করেছেন তারা। এতে প্রায় ২৫ লাখ টাকা পাওয়া গেছে।
তবে ধরা পড়া মাছগুলোর আকার তুলনামূলক ছোট হওয়ায় দাম কিছুটা কম হয়েছে বলে জানান তিনি। তার ভাষ্য, ইলিশগুলোর আকার আরেকটু বড় হলে একই পরিমাণ মাছ থেকে ৬০ থেকে ৭০ লাখ টাকা পর্যন্ত পাওয়া সম্ভব হতো।
পাথরঘাটা বিএফডিসি আড়তদার সমিতির সভাপতি সগীর আলম জানান, চলতি ইলিশ মৌসুমে ওই এলাকায় একটি ট্রলারে একসঙ্গে ১০০ মণ ইলিশ ধরা পড়ার ঘটনা এটাই প্রথম।
লোকসান কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর আশা
বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মাছের দেখা না পাওয়ায় ট্রলার মালিক ও জেলেরা লোকসানের মধ্যে ছিলেন। একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ ইলিশ পাওয়ায় সেই লোকসান অনেকটাই কাটিয়ে ওঠার আশা করছেন তারা।
তিনি আরও বলেন, একটি মাছধরা ট্রলারে এত বিপুল পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়ায় বিএফডিসি ঘাটে থাকা অন্য ট্রলার মালিক ও জেলেদের মধ্যেও নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। তারা সবাই এখন বুকে আশা নিয়ে গভীর বঙ্গোপসাগরে ইলিশ শিকারে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।