
টাঙ্গাইলের বাসাইলে প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একটি ব্রিজে রডের পরিবর্তে বাঁশের ফালা ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাতের আঁধারে নির্মাণকাজ চালিয়ে এ অনিয়ম করা হয়েছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
বাসাইল পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের মাইজখাড়া এলাকায় ২ হাজার ৩০৫ মিটার চেইনেজে ৯০ মিটার দীর্ঘ পিএসসি গার্ডার ব্রিজটি নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রকল্পটির চুক্তিমূল্য ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার ৬৫ টাকা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ইউনুস আল-মামুন ও মেসার্স জাকির এন্টারপ্রাইজ যৌথভাবে কাজটি করছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ব্রিজের গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোর ঢালাইয়ে লোহার রডের পরিবর্তে বাঁশের ফালা ব্যবহার করা হয়েছে। তাঁদের দাবি, সাধারণত রাত ১২টার পর থেকে ভোর পর্যন্ত শ্রমিকরা নির্মাণকাজ চালাতেন। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করায় কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দার বিরুদ্ধে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে চাঁদাবাজির মামলা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
মাইজখাড়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল আজিজ মিয়া বলেন, রাত ১২টার পর স্থানীয়রা ঘুমিয়ে পড়লে ঠিকাদারের লোকজন নির্মাণকাজ করতেন। এ নিয়ে এলাকার লোকজন কথা বলায় কয়েকজনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা করা হয়েছে।
বাসাইল উত্তরপাড়ার বাসিন্দা শিহাব খানশুর বলেন, ব্রিজ নির্মাণে নানা ধরনের অনিয়ম হচ্ছে। এসব অনিয়মের সঙ্গে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
এদিকে নির্মাণকাজে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে উপজেলা প্রকৌশল দপ্তর। বাসাইলের উপসহকারী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান বলেন, প্রকৌশল দপ্তরকে না জানিয়ে রাতের আঁধারে কাজ করা হয়েছে। বিষয়টি জেলা প্রকৌশলীকে জানিয়ে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হবে।
অভিযোগের পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। সরেজমিনে বিষয়টির সত্যতা পাওয়ার পর তিনি তদন্ত কমিটি গঠনের কথা জানান। একই সঙ্গে অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন তিনি।
স্থানীয়দের দাবি, সরকারি অর্থে নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর কাজে এমন অনিয়ম জননিরাপত্তার জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তদন্তের মাধ্যমে নির্মাণকাজে কারা জড়িত এবং কীভাবে এমন অনিয়মের সুযোগ তৈরি হয়েছে, তা বের করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।