-6ab6562652f25-6ab690738c29a.webp)
নাটোরে শিশুদের খেলাধুলাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে সাত বছর বয়সী এক শিশুর ডান হাতের শাহাদাত আঙুলের একাংশ কেটে বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগ উঠেছে এক পুলিশ কনস্টেবল ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গ্রেফতার কনস্টেবল শাকিল হোসেন (৩৮) ও তার স্ত্রী নাছরিন খাতুনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে তাদের নাটোরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে আদালতের বিচারক মো. সাদ্দাম হোসেন দুজনকেই কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পিকনিকের খেলাধুলা থেকে বিরোধ
ঘটনার সূত্রপাত হয় বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নাটোর শহরের বড় হরিশপুর পশ্চিম চেয়াম্যানপাড়া এলাকায়। পরে ওই রাতেই শিশুটির বাবা মাহমুদুল হাসান বাদী হয়ে মামলা করেন।
আহত শিশুটির নাম বায়েজিদ বিন মাহমুদ। তাকে প্রথমে নাটোর সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কনস্টেবল শাকিল হোসেন তার স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে ভুক্তভোগী শিশুর বাবা ব্যাংক কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসানের বাড়ির দ্বিতীয় তলায় ভাড়া থাকেন।
গত বুধবার রাতে শহরের চেয়ারম্যান রোড এলাকার ওই বাড়িতে ভাড়াটিয়ারা সম্মিলিতভাবে একটি পিকনিকের আয়োজন করেন। সেখানে খেলাধুলার সময় শাকিলের পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে ইবনাতের সঙ্গে বায়েজিদের মনোমালিন্য হয়। পরে ওই রাতেই সব ভাড়াটিয়া মিলে বিষয়টি মীমাংসা করে দেন।
পরদিন বাসায় ফিরে শিশুটিকে ধরে নেওয়ার অভিযোগ
তবে পরদিন বৃহস্পতিবার দায়িত্ব পালন শেষে কনস্টেবল শাকিল বাসায় ফিরে বায়েজিদকে জোর করে তার বাসা থেকে নিজের বাসায় নিয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এরপর শিশুটিকে ঘরের ভেতর আটকে দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, পরে স্ত্রী নাছরিনের সহযোগিতায় শাকিল শিশুটির ডান হাতের শাহাদাত আঙুল তরকারি কাটার বটি দিয়ে কেটে দেন।
শিশুটির চিৎকার ও আর্তনাদ শুনে অন্য ভাড়াটিয়ারা সেখানে ছুটে যান। পরে তারা তাকে উদ্ধার করে নাটোর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হওয়ায় সেখান থেকে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
খাটের পায়ার ওপর হাত রেখে আঙুল কাটার অভিযোগ
শিশুটির বরাত দিয়ে তার মা রাশেদা আক্তার জানান, খাটের পায়ার ওপর হাত রেখে তরকারি কাটার বটি দিয়ে বায়েজিদের আঙুল কেটে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে ঘটনার পর কনস্টেবল শাকিল পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে মৌখিকভাবে অভিযোগ করেন। তার দাবি, ওই শিশু তার মেয়েকে যৌন নিপীড়ন করেছে।
বাসায় গিয়ে রক্তের দাগ ও বিচ্ছিন্ন আঙুলের অংশ পায় পুলিশ
অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ওই বাসায় যায়। তবে তখন বাসাটিতে তালা দেওয়া ছিল। পরে পুলিশ তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে।
পুলিশ জানায়, ঘরের মেঝে ও খাটের পাটাতনে রক্তের দাগ পাওয়া যায়। এ ছাড়া মেঝের এক পাশে বিচ্ছিন্ন আঙুলের একটি অংশও পাওয়া গেছে।
‘ধাক্কাধাক্কি তেমন কোনো বিষয় ছিল না’
শিশুটির বাবা মাহমুদুল হাসান মিলন বলেন, একই বাড়িতে থাকার কারণে পুলিশ সদস্যের মেয়ের সঙ্গে তার ছেলের চলাফেরা ছিল। পিকনিকের অনুষ্ঠানে তাদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটেছিল, তবে সেটি তেমন কোনো বিষয় ছিল না।
তার ভাষ্য, ওই ঘটনার পর তার ছেলেকে ঘরের মধ্যে আটকে রেখে নির্মমভাবে অঙ্গহানি করা হয়েছে। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
চিকিৎসক ও পুলিশের বক্তব্য
নাটোর সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা মাহবুর রহমান বলেন, ডান হাতের একটি আঙুলের কিছু অংশ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় শিশুটিকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল।
নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতে খায়ের আলম জানান, এ ঘটনায় শিশুটির বাবা বৃহস্পতিবার থানায় কনস্টেবল শাকিল হোসেন ও তার স্ত্রী নাছরিন খাতুনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলার পর রাতেই দুজনকে গ্রেফতার করা হয়।
তিনি বলেন, শুক্রবার তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
কনস্টেবল শাকিল হোসেন জয়পুরহাট জেলার সদর থানার নিজামপুর গ্রামের হামিদুল ইসলামের ছেলে। তিনি নাটোর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের হিসাব শাখায় কর্মরত। অন্যদিকে ভুক্তভোগী বায়েজিদ নাটোর পুলিশ লাইনস স্কুলের প্রথম শ্রেণির ছাত্র।