
শরীয়তপুর শহরের প্রধান সড়কে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতা-কর্মীদের ঝটিকা মিছিলের খবর পাওয়া গেছে। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) পৌরসভা এলাকা থেকে বের হওয়া ওই মিছিলে অংশ নেওয়ার অভিযোগে মো. সায়েম (১৮) নামে এক তরুণকে আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, শুক্রবার দুপুরে শরীয়তপুর পৌরসভা এলাকা থেকে কয়েকজন হঠাৎ মিছিল বের করেন। পরে মিছিলটি শহরের প্রধান সড়ক হয়ে স্থানীয় পুলিশ বক্সের দিকে যায়। মিছিলের সময় যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক ছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে কয়েকজনকে মাথায় সাদা কাপড় বেঁধে মিছিলে অংশ নিতে দেখা যায়। ভিডিওতে ‘জয় বাংলা’, ‘জয় বঙ্গবন্ধু’, ‘চলছে লড়াই, চলবে’ এবং ‘শেখ হাসিনা লড়বে’সহ বিভিন্ন স্লোগান শোনা যায়। তবে ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ভিডিওতে নিষিদ্ধ ঘোষিত যুবলীগের নেতা সাইফুল মোল্লা ও ছাত্রলীগের কর্মী সাজিদ মোল্লাকে মিছিলের সামনের দিকে দেখা গেছে বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। সাজিদ মোল্লার মাথায় সাদা কাপড় বাঁধা ছিল বলেও ভিডিওতে দেখা যায়।
মিছিলের বিষয়টি নিশ্চিত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট দিয়েছেন সাজিদ মোল্লা বলে জানা গেছে। ওই পোস্টে তিনি দাবি করেন, প্রশাসনের নজরদারির মধ্যেও তাঁদের সংগঠনের নেতা-কর্মীরা আকস্মিকভাবে মিছিল করার সক্ষমতা রাখেন। পোস্টে শরীয়তপুর সদর উপজেলা যুবলীগের নেতা সাইফুল মোল্লার তত্ত্বাবধান এবং ইকবাল হোসেন অপু মিয়ার নির্দেশনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এসব দাবির স্বাধীন কোনো যাচাই পাওয়া যায়নি।
এদিকে মিছিলের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে মিছিলে অংশ নেওয়ার অভিযোগে মো. সায়েম নামে এক তরুণকে আটক করা হয়। তিনি শরীয়তপুর সদর উপজেলার হাজরাসার এলাকার সাইদ আকনের ছেলে।
পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, জুমার নামাজের সময় কয়েকজন মিলে শহরের প্রধান সড়কে আচমকা মিছিল বের করার চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে একজনকে আটক করে। অন্যদের শনাক্ত ও আটকের চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।
ওসি আরও বলেন, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
শরীয়তপুরে এর আগেও নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের ঝটিকা মিছিলের খবর পাওয়া গেছে। চলতি সেপ্টেম্বরেও জেলার বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের মিছিলের খবর প্রকাশিত হয়েছে।