
হবিগঞ্জ-মৌলভীবাজার-সিলেট সড়কে চলাচলকারী হবিগঞ্জের বাস মৌলভীবাজারে আটকে রাখা এবং শ্রমিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট শুরু হয়েছে।
হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপের আহ্বানে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ভোর থেকে এ কর্মসূচি শুরু হয়।
ধর্মঘটের কারণে হবিগঞ্জ জেলার অভ্যন্তরীণ সড়কসহ দূরপাল্লার সব ধরনের গণপরিবহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। জেলার বিভিন্ন যানবাহন মালিক ও শ্রমিক সমিতি এবং সংগঠনগুলোও ধর্মঘটের সঙ্গে সংহতি জানিয়েছে।
বাস আটকে রাখা ও শ্রমিকদের মারধরের অভিযোগ
হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক আবু মঈন চৌধুরী সোহেল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে হবিগঞ্জ-মৌলভীবাজার-সিলেট পথে হবিগঞ্জের বাস চলাচলে বিভিন্নভাবে বাধা দেওয়া হচ্ছে। এ সময় শ্রমিকদের মারধর এবং বাস ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তার দাবি, সম্প্রতি হবিগঞ্জের তিনটি বাস মৌলভীবাজারে আটকে রাখা হয়েছে। এর আগে প্রশাসনের উদ্যোগে একাধিকবার বৈঠক করে বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও কিছুদিন পর আবারও বাস আটকে দেওয়া ও শ্রমিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার স্থায়ী সমাধানের দাবিতেই ধর্মঘটে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
সমঝোতার পরও ফের আটকে দেওয়া হয় বাস
আবু মঈন চৌধুরী সোহেল জানান, গত ১২ জুন সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় হবিগঞ্জ-সিলেট ভায়া মৌলভীবাজার পথে আগের নিয়মে বাস চলাচলের সিদ্ধান্ত হয়। তবে শ্রীমঙ্গলে হবিগঞ্জের বাস কোনো যাত্রী ওঠানামার স্টপেজ দিতে পারবে না—এমন সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়।
ওই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কিছুদিন বাস চলাচলের পর গত ১১ সেপ্টেম্বর মৌলভীবাজারের এসএমএস মালিক-শ্রমিকরা হবিগঞ্জের ২২টি বাস আটকে দেন বলে দাবি করেন তিনি। পরে ২০ সেপ্টেম্বর ঢাকায় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সমঝোতা বৈঠকের পর বাসগুলো ছেড়ে দেওয়া হয়।
কিন্তু ২৪ সেপ্টেম্বর সকালে ওই পথে আবার বাস চলাচল শুরু হলে এসএমএস কর্তৃপক্ষ হবিগঞ্জের তিনটি বাস আটকে দেয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বাসগুলো এখনো ছেড়ে দেওয়া হয়নি। এ পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়েই অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পাল্টা অভিযোগ এসএমএস বাস মালিক সমিতির সভাপতির
তবে হবিগঞ্জের মালিক-শ্রমিক পক্ষের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও এসএমএস বাস মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুর রহিম রিপন।
তিনি দাবি করেন, দুই পক্ষের বিরোধ সমাধানের প্রক্রিয়া চলছিল। এর মধ্যেই হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপের লোকজন শ্রীমঙ্গলে এসএমএস পরিবহনের কাউন্টারে হামলা ও ভাঙচুর চালান। এতে কয়েকজন শ্রমিক আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তাদের একজন আইসিইউতে আছেন বলেও জানান তিনি।
আব্দুর রহিম রিপনের দাবি, শ্রীমঙ্গলের স্থানীয় শ্রমিকরা ক্ষুব্ধ হয়ে হবিগঞ্জের বাসগুলো আটকে রেখেছেন। এ ঘটনায় থানায় মামলাও করা হয়েছে। পরিস্থিতির সমাধানে দুই পক্ষের নেতাদের নিয়ে দ্রুত আলোচনায় বসা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।