
কুষ্টিয়ার কুমারখালীর চরসাদিপুর ইউনিয়নে প্রায় ৬ কোটি টাকা মূল্যের সরকারি খাস জমি দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মো. আবু তালেব হোসাইনের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, জমিটির মালিকানা নিয়ে আদালতে মামলা চলমান থাকলেও প্রয়োজনীয় আইনগত অনুমোদন ও বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই সেখানে ভবন নির্মাণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
ইতোমধ্যে তিনতলা ভবন নির্মাণের ভিত্তি তৈরি করে একতলার ছাদ ঢালাইয়ের কাজ শেষ করা হয়েছে। চলতি বছরের মে মাসে নির্মাণকাজ শুরু করা হয় বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
আবু তালেব হোসাইন কুমারখালী উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের মৃত আফিল উদ্দীনের ছেলে। তিনি চরসাদিপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির এবং আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলটির সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী।
আদালতে মামলা চলার মধ্যেই নির্মাণকাজ
ভূমি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চরসাদিপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর মৌজার ১ নম্বর খতিয়ানের আরএস ৬৪ নম্বর দাগে সরকারের খ-তফসিলভুক্ত প্রায় ২ একর ৮২ শতাংশ জমি রয়েছে। জমিটির আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৬ কোটি টাকা।
জানা গেছে, জমিটিকে নিজের পৈতৃক সম্পত্তি দাবি করে ২০১৮ সালে কুষ্টিয়ার কুমারখালী জজ আদালতে রেকর্ড সংশোধনের মামলা করেন আবু তালেব হোসাইন। মামলার নথি অনুযায়ী, বৈধ কাগজপত্র না থাকায় ২০২৪ সালের ৫ মে দেওয়ানি মামলা নম্বর ১৯৮/২০২৮ খারিজ করে দেন সহকারী জজ মো. মেহেদী হাসান।
এরপর ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন জামায়াত নেতা। আপিলের নম্বর ১১৭/২৪। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন। তবে মামলা চলমান থাকা অবস্থাতেই জমিতে ভবন নির্মাণের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, জমিটি দীর্ঘদিন ধরেই সরকারি খাস জমি হিসেবে পরিচিত। তাদের দাবি, ছোটবেলা থেকেই তারা জমিটিকে খাস হিসেবে দেখে আসছেন। আদালতে বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সেখানে ব্যক্তিগত স্থাপনা নির্মাণের বৈধতা নিয়েও তারা প্রশ্ন তুলেছেন।
এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, জমিটি মূলত খাস। কিন্তু আবু তালেব লোকজন নিয়ে এসে সেখানে নির্মাণকাজ শুরু করেছেন। খাস জমিতে এভাবে বাড়ি নির্মাণ করা অবৈধ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
‘বিএস রেকর্ড আছে’, দাবি আবু তালেবের
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আবু তালেব হোসাইন জমিটিকে নিজের পৈতৃক সম্পত্তি বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, জমিটির আরএস রেকর্ড তার নামে হয়নি, তবে বিএস রেকর্ড রয়েছে। মালিকানা নিয়ে মামলা বিচারাধীন এবং আরএস রেকর্ড সংশোধনের জন্যই তারা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আখতার জানিয়েছেন, সরকারি খাস জমিতে বাড়ি নির্মাণের সুযোগ নেই। জমিটির মালিকানা ও আইনি অবস্থান সম্পর্কে প্রশাসন অবগত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
ইউএনও বলেন, জনবল সংকটের কারণে জমি মাপার কাজ কিছুটা বিলম্বিত হচ্ছে। তবে শিগগিরই এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।