
খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় জাবেদুল ইসলাম শাওন নামে এক পুলিশ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর রাঙামাটি পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন তাঁর স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন (২৬)।
অভিযুক্ত শাওন মাটিরাঙ্গা উপজেলার বেলছড়ি মাস্টারপাড়া এলাকার বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি রাঙামাটি জেলার সুখ-নীলগঞ্জ পুলিশ লাইনে কর্মরত রয়েছেন এবং মাটিরাঙ্গা পৌরসভার মাস্টারপাড়ায় বাড়ি করে বসবাস করেন।
ভুক্তভোগী সাবিনা ইয়াসমিন জানান, গত ২০২১ সালে পারিবারিকভাবে তাঁদের বিয়ে হয়। তাঁদের একটি ছোট ছেলে সন্তান রয়েছে। স্বামী মাদকাসক্ত, পরকীয়া ও অনলাইন ক্যাসিনোতে আসক্ত।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ২০২৩ সালের ৩০ এপ্রিল মাটিরাঙ্গা রসুলপুর এলাকায় এক নারীর সাথে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার অভিযোগে মাটিরাঙ্গা থানা পুলিশ তাকে আটক করে। পরে তাঁর (স্ত্রী) অলঙ্কার বিক্রি করে ৩ লক্ষ টাকা জরিমানা দিয়ে ছাড়া পান।
মাদকাসক্ত হওয়ায় চিকিৎসার জন্য গত ১৬ মে তাঁকে চট্টগ্রামের একটি রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারে পাঠানো হয়েছিল।
পরবর্তীতে পারিবারিক বিরোধ নিরসনের লক্ষ্যে গত ১৩ সেপ্টেম্বর খাগড়াছড়ি জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে একটি মধ্যস্থতা চুক্তি হয়। বাড়িতে ফেরার পর স্বামী ওই চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে তাঁকে সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করানোর চেষ্টা করেন। এতে রাজি না হওয়ায় তাঁকে মারধর করা হয়। নির্যাতনের প্রমাণ থাকায় তাঁর মোবাইল ফোন ভেঙে দেওয়া হয়।
২৩ সেপ্টেম্বর তাঁর শিশু সন্তান আফান আয়ানকে কেড়ে নিয়ে তাঁকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন। তিনি তাঁর শিশু সন্তানকে ফেরত পেতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও স্বামী শাওনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।
অভিযুক্ত শাওনকে একাধিকবার ফোন করা হলেও রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
রাঙামাটি পুলিশ সুপার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিধি মোতাবেক আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে।