
টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে অনশন শুরু করেছেন তিন সন্তানের জননী ও সৌদি প্রবাসীর স্ত্রী শাহিদা (৪০)। তার অভিযোগ, প্রায় দেড় বছর ধরে চার সন্তানের জনক মমির আলীর সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিয়ের আশ্বাস দিয়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্কও করা হয়েছে বলে দাবি তার।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) থেকে উপজেলার কোকডহড়া ইউনিয়নের সাভার গ্রামে মমির আলীর বাড়িতে অবস্থান নিয়ে অনশন করছেন শাহিদা। এ ঘটনার পর মমির আলী বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
দেড় বছরের সম্পর্ক, বিয়ের আশ্বাসে শারীরিক সম্পর্ক
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মমির আলী সাভার গ্রামের নুরু মিয়ার ছেলে। তিনি পেশায় মাছ বিক্রি করেন। আর শাহিদা একই গ্রামের সৌদি প্রবাসী জুলহাসের স্ত্রী।
শাহিদার ভাষ্য, দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর ধরে মমির আলীর সঙ্গে তার সম্পর্ক চলছিল। এ সময় তাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। সেই আশ্বাসে মমির আলী তার সঙ্গে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক করেন বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
স্বামী জেনে যাওয়ার পর তালাক
শাহিদা জানান, একপর্যায়ে তার স্বামী জুলহাস তাদের সম্পর্কের বিষয়টি জানতে পারেন। পরে তিনি শাহিদাকে তালাক দেন। স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর মমির আলীর ওপর বিয়ের জন্য নির্ভর করলেও শেষ পর্যন্ত কোনো সমাধান না হওয়ায় তার বাড়িতে গিয়ে অবস্থান নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
শাহিদা বলেন, বিয়ের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তিনি মমির আলীর বাড়ি থেকে যাবেন না। নিজের দাবি আদায় করতেই তিনি সেখানে অনশন শুরু করেছেন।
স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা, অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেবে পুলিশ
ঘটনার পর মমির আলী বাড়িতে না থাকায় তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
কোকডহড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি জানার পর স্থানীয়ভাবে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে কালিহাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাইয়ুম খান সিদ্দিকী জানান, এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।