
জুলাইয়ের আন্দোলনে সবচেয়ে বেশি শহীদ হয়েছেন বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা—এমন মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। একই সঙ্গে জুলাইয়ের আন্দোলনে বিএনপির প্রকাশ্য ও নেপথ্যের ভূমিকা মানুষের সামনে তুলে ধরা এবং ওই সময়ে নিহতদের স্মৃতি ধরে রাখাকে নিজেদের দায়িত্ব বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে নিজের জেলা ঝিনাইদহে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন রাশেদ খাঁন।
‘বিএনপির ভূমিকা মানুষের সামনে তুলে ধরা আমাদের দায়িত্ব’
রাশেদ খাঁন বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলনে ছাত্রদলের যেসব নেতাকর্মী শহীদ হয়েছেন, তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো তাদের দায়িত্ব। তার দাবি, জুলাইয়ে বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীদের মধ্যেই শহীদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।
তিনি বলেন, ‘আমরা লক্ষ্য করছি যে জুলাইয়ে সবথেকে বেশি শহীদ হয়েছে বিএনপির এবং ছাত্রদলের, যুবদলের নেতাকর্মীরা। এই বিষয়টিকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় এক ধরনের লুকানো হয়েছিল।’
তার ভাষ্য, জুলাইয়ের আন্দোলনে বিএনপির সংগ্রামও ছিল গুরুত্বপূর্ণ। তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সেই সংগ্রাম ও ভূমিকা যথাযথভাবে তুলে ধরার বিষয়ে আগ্রহ দেখায়নি।
‘বিএনপির সংগ্রাম জুলাই অন্যতম একটি সংগ্রাম। সেই সংগ্রামকে কখনোই আসলে ওই অর্থে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তুলে ধরতে তারা আসলে সদিচ্ছা দেখায়নি,’ বলেন রাশেদ খাঁন।
শহীদ পরিবারের খোঁজ নেওয়া প্র্রসঙ্গে
জুলাইয়ে বিএনপির ভূমিকা এবং নেপথ্যে দলটির কর্মকাণ্ড সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরার পাশাপাশি শহীদদের স্মৃতি অমলিন রাখার জন্য ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার কথা জানান প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী।
তিনি বলেন, ‘আমাদের দায়িত্ব রয়েছে জুলাইয়ে বিএনপি যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে, নেপথ্য থেকে বিএনপির যে ভূমিকা সেই ভূমিকাগুলো আসলে মানুষের কাছে তুলে ধরা এবং যারা শহীদ হয়েছিল তাদের স্মৃতি যাতে অমলিন না হয়ে যায় সেই লক্ষ্যে শহীদ পরিবারের খোঁজখবর রাখা, তাদের কবর জিয়ারত করা- এরকম বিভিন্ন ধারাবাহিক কার্যক্রম আমি করছি।’
এ ধরনের কার্যক্রমে জেলা বিএনপি তাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করছে বলেও জানান তিনি।
স্থানীয় নির্বাচনেও প্রস্তুত বিএনপি
সামনের স্থানীয় নির্বাচন ঘিরে বিএনপির প্রস্তুতি প্রসঙ্গে রাশেদ খাঁন বলেন, বড় রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপির নির্বাচনের প্রস্তুতি সবসময়ই থাকে। স্থানীয় ও জাতীয়—উভয় ধরনের নির্বাচনের জন্য দলটির একাধিক প্রার্থী মাঠে থাকেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তার ভাষ্য, স্থানীয় নির্বাচন সামনে রেখে ইতোমধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজ নিজ এলাকায় প্রচার চালাচ্ছেন এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছেন। মানুষের বিপদে-আপদে পাশে থাকারও চেষ্টা করছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা।
তবে স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে একাধিক প্রার্থীর অংশ নেওয়ার সুযোগ নেই বলে সতর্ক করেন তিনি।
রাশেদ খাঁন বলেন, ‘দলের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে স্থানীয় নির্বাচনের বিষয়ে স্পষ্ট বক্তব্য দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় নির্বাচনে একাধিক প্রার্থী হওয়ার কোন সুযোগ নাই। কেউ যদি দলের চেন অফ কমান্ড ব্রেক করে নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হয় তার বিরুদ্ধে দল যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’
স্থানীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলের ভেতরে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বরদাশত করা হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনের মতো স্থানীয় নির্বাচন নিয়েও বিএনপির প্রস্তুতি রয়েছে।