
দীর্ঘ জীবনের পথ একসঙ্গে পাড়ি দিয়েছিলেন তাঁরা। জীবনের শেষ প্রান্তেও যেন বিচ্ছেদ হলো না সেই সঙ্গের। স্বামীকে দাফন করে স্বজনেরা বাড়িতে ফেরার কিছুক্ষণ পরই মারা গেলেন স্ত্রী। পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার দণ্ডপাল ইউনিয়নের শান্তিনগর এলাকায় ঘটেছে এমন হৃদয়স্পর্শী ঘটনা।
মৃত দম্পতি হলেন ওই এলাকার কৃষক ওমর আলী (৮০) এবং তাঁর স্ত্রী হরতন বেগম (৭৭)। দুজনেই বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন। তাঁদের পাঁচ ছেলে ও তিন মেয়ে রয়েছে।
ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দণ্ডপাল ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. সুরুজ্জামাল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার (৭ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নিজ বাড়িতে মারা যান ওমর আলী। পরদিন বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় জানাজা শেষে শান্তিনগর এলাকার পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়।
দাফন শেষে স্বজনেরা বাড়িতে ফিরে আসার কিছু সময় পরই শয্যাশায়ী হরতন বেগমের মৃত্যু হয়। স্বামীর মৃত্যুর বিষয়টি তিনি জানতেন। পরিবারের সদস্যরা বৃহস্পতিবার সকালে তাঁকে হালকা খাবারও খাওয়ান বলে জানা গেছে।
স্বামীর কবরের পাশেই স্ত্রীর শেষ ঠিকানা
স্বামীর দাফনের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হরতন বেগমের মৃত্যুর পর পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের আবহ আরও গভীর হয়ে ওঠে। বৃহস্পতিবার বাদ আসর তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
পরে স্বামী ওমর আলীর কবরের পাশেই হরতন বেগমকে দাফন করা হয়। দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনের পর মৃত্যুর পরও পাশাপাশি থাকার সুযোগ তৈরি হলো তাঁদের।
‘শোকস্তব্ধ এলাকার মানুষও’
ওমর আলীর ভাতিজা ও স্থানীয় স্কুলশিক্ষক শামীম মির্জা জানান, বার্ধক্যের কারণে চাচা ও চাচি দুজনেই অসুস্থ ছিলেন। তবে হরতন বেগম স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারতেন।
তিনি বলেন, সকালে চাচার দাফন শেষ করে পরিবারের সবাই বাড়িতে ফিরে আসেন। পরে দুপুরের দিকে ঘরে গিয়ে তাঁরা হরতন বেগমকেও মৃত অবস্থায় দেখতে পান।
শামীম মির্জা বলেন, ‘এমন ঘটনায় শুধু তাঁদের ছেলেমেয়েরাই নন, এলাকার মানুষও শোকস্তব্ধ।’