
কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার চার দিন পর একটি ধানখেত থেকে জান্নাতুত তাজমীন (১৩) নামের এক স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাস্থলের আশপাশের কয়েকটি খেতে ধানের চারা মাড়ানো অবস্থায় পাওয়া গেছে। এসব আলামত দেখে ধারণা করা হচ্ছে, মৃত্যুর আগে কিশোরীটি নিজেকে রক্ষার জন্য ধস্তাধস্তি করে থাকতে পারে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে পেরুল উত্তর ইউনিয়নের জগতপুর (মানুমুড়া) এলাকার একটি ধানখেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, চার দিন আগে এক বান্ধবীর বাড়িতে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়েছিল তাজমীন। পরে ওই বান্ধবীর সঙ্গে কক্সবাজারে বেড়াতে যায় সে। সেখান থেকে বুধবার রাতে কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা হয়েছিল কিশোরীটি।
পথে রাতে বাবা আবদুল আলীমকে ফোন করে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তাজমীন জানায়, দুর্বৃত্তরা তাকে আটকে রেখেছে। দ্রুত উদ্ধার করা না হলে তারা তাকে মেরে ফেলবে বলেও জানায় সে। তবে কোথায় তাকে আটকে রাখা হয়েছে, তা বাবাকে জানাতে পারেনি।
এরপর মেয়ের ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া পাননি আবদুল আলীম। এতে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। মেয়ের খোঁজে রাতেই বের হন তিনি। বৃহস্পতিবার ভোরে লালমাই থানায় গিয়ে মেয়ের মরদেহ শনাক্ত করেন।
তাজমীনের বাবা আবদুল আলীম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, রাতে মেয়ে ফোন করে কাঁদতে কাঁদতে তাকে উদ্ধারের অনুরোধ জানিয়েছিল। কিন্তু কোথায় আছে, তা বলতে পারেনি। অথচ সকালে থানায় এসে মেয়ের মরদেহ দেখতে হয়েছে তাকে।
ধানখেতে ধস্তাধস্তির চিহ্ন, পাশে পরিত্যক্ত অটোরিকশা
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বৃহস্পতিবার সকালে ধানখেতে এক তরুণীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে তারা পুলিশকে খবর দেন। মরদেহের কাছেই একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।
খবর পেয়ে লালমাই থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। ঘটনাস্থলের আশপাশের চার থেকে পাঁচটি খেতে উঠতি ধানের চারা মাড়ানো অবস্থায় দেখা যায়। দেখে মনে হয়েছে, খেতগুলোর ওপর দিয়ে কেউ ছোটাছুটি করেছে। এসব চিহ্নের ভিত্তিতে ধারণা করা হচ্ছে, হামলার শিকার হওয়ার সময় নিজেকে বাঁচাতে তাজমীন ধস্তাধস্তি করে থাকতে পারে।
শ্বাসরোধে হত্যার প্রাথমিক ধারণা, তদন্তে একাধিক সংস্থা
লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাজমীনকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। তার মরদেহের ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া চলছে। হত্যাকাণ্ডের সূত্র খুঁজে বের করা এবং ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশের একাধিক তদন্ত সংস্থা কাজ শুরু করেছে।
নিহত জান্নাতুত তাজমীন রেনাটা পিএলসি, কুমিল্লায় কর্মরত আবদুল আলীম ও কেয়া আক্তার দম্পতির মেয়ে। তাদের গ্রামের বাড়ি যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের ছাতিয়ানতলা গ্রামে। বাবার চাকরির সুবাদে পরিবারের সঙ্গে কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকায় থাকত তাজমীন।
সে কুমিল্লার ফরিদা বিদ্যায়তনে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ত। বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক আবু হানিফ জানান, হাজিরা খাতায় তাজমীনের রোল নম্বর ছিল ৩০। তবে গত মার্চ থেকে সে অন্য একটি বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিল।