
নওগাঁর মান্দায় সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ৮ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা যুবদলের সভাপতি আব্দুল জলিলের বিরুদ্ধে। চাকরি দিতে না পারায় ২ লাখ টাকা ফেরত দিলেও বাকি ৬ লাখ টাকা ফেরত দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন দলটিরই এক কর্মী এমদাদুল হক পিন্টু। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে জেলা ও কেন্দ্রীয় যুবদলের শীর্ষ নেতাদের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন তিনি।
লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৫ জুন এমদাদুল হক পিন্টুর স্ত্রীকে প্রসাদপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে মুহুরি পদে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দেন যুবদল নেতা আব্দুল জলিল। এ প্রতিশ্রুতিতে পিন্টুর কাছ থেকে ৮ লাখ টাকা নেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরবর্তী সময়ে চাকরির ব্যবস্থা করতে না পারায় টাকা ফেরত চান পিন্টু। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, প্রথমে টাকা ফেরত দিতে গড়িমসি করেন জলিল। পরে স্থানীয় বিএনপির নেতাদের বিষয়টি জানানো হলে ২ লাখ টাকা ফেরত দেওয়া হয়। বাকি ৬ লাখ টাকা ফেরত দেওয়ার ক্ষেত্রে এখনো টালবাহানা করা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন পিন্টু।
ভুক্তভোগী এমদাদুল হক পিন্টু মান্দা উপজেলার পরানপুর ইউনিয়নের ফেটগ্রাম গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ওই ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য। অন্যদিকে, অভিযুক্ত আব্দুল জলিল উপজেলার কুসুম্বা ইউনিয়নের বড়পই গ্রামের মৃত নওসাদ আলী মিস্ত্রির ছেলে।
পিন্টু অভিযোগ করেন, স্ত্রীর চাকরির আশায় চাষের জমি বন্ধক রেখে এবং স্ত্রীর স্বর্ণালংকার বন্ধক দিয়ে টাকা সংগ্রহ করেছিলেন তিনি। অর্থ ফেরত না পাওয়ায় পরিবার নিয়ে আর্থিক সংকটে পড়েছেন। পাশাপাশি প্রতি মাসে ঋণের সুদ পরিশোধ করতে হচ্ছে তাঁকে।
‘নিজ দলের নেতার কাছেই প্রতারিত হচ্ছি’
এমদাদুল হক পিন্টু বলেন, চাকরির আশায় জমি ও স্ত্রীর স্বর্ণালংকার বন্ধক রেখে টাকা জোগাড় করেছিলেন। কিন্তু এত টাকা দেওয়ার পরও প্রতারিত হয়ে এখন মানবেতর জীবন কাটাতে হচ্ছে তাঁকে। নিজ দলের একজন নেতার কাছ থেকে এমন আচরণ প্রত্যাশা করেননি বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
নিজের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরে পিন্টু বলেন, প্রায় ২০ বছর ধরে বিএনপির একজন নিবেদিত কর্মী হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন। আন্দোলনের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক পরিবর্তন এলেও এখন নিজ দলের নেতার কাছেই প্রতারণার শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ তাঁর।
এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে গত ২৫ সেপ্টেম্বর নওগাঁ জেলা যুবদলের আহ্বায়ক ও সদস্যসচিবের কাছে লিখিত আবেদন করেন পিন্টু। আবেদনের অনুলিপি যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছেও পাঠানো হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে আব্দুল জলিল অবশ্য টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক বিরোধের অংশ হিসেবে একটি চক্র তাঁকে হেয়প্রতিপন্ন করতে মিথ্যা প্রচার চালাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমাকে রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য একটি চক্র মিথ্যা প্রচার চালাচ্ছে। তবে এগুলো থাকবে না ভাই। দুই-এক দিনের মধ্যে সে নিজেই সরি বলে মাফ চেয়ে নেবে।’
অভিযোগ প্রমাণিত হলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা
এমদাদুল হক পিন্টুর লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নওগাঁ জেলা যুবদলের আহ্বায়ক মাসুদ হায়দার টিপু। তিনি জানান, অভিযোগের অনুলিপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।
মাসুদ হায়দার টিপু বলেন, বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তা সফল হয়নি। তাঁর মতে, আলোচনার মাধ্যমে বিরোধের নিষ্পত্তি হলে দুই পক্ষের জন্যই ভালো হবে। কারণ, একজন রাজনৈতিক কর্মী গড়ে তুলতে দীর্ঘ সময় প্রয়োজন হয়।
তবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আব্দুল জলিলের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জেলা যুবদলের এই নেতা। বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গেও আলোচনা করবেন বলে জানান তিনি।